‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • গুরুদয়াল সরকারি কলেজ • গুরুদয়াল সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অধ্যাদেশ কে জারি করেন?

    (1)
  2. খ)

    স্বচ্ছতা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানটি সরকারের যে বিভাগের নির্দেশ করে তার কার্যাবলী বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বিভাগের ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে -উক্তিটির যথার্থতা প্রমাণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংসদের অধিবেশন না থাকাকালে বা জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপ্রধান (যেমন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি) অধ্যাদেশ জারি করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বচ্ছতা (Transparency) বলতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত, নীতি ও কাজকর্ম সম্পর্কে তথ্য উন্মুক্ত ও স্পষ্ট থাকাকে বোঝায়। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি যেন জনগণের কাছে পরিষ্কার থাকে এবং কোনো তথ্য অযৌক্তিকভাবে গোপন না রাখা হয়। এটি সুশাসনের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান, যা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানটি সরকারের 'আইন বিভাগ' (Legislature)-কে নির্দেশ করে। কারণ আইন বিভাগের কাঠামো এককক্ষ বা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হতে পারে এবং এর প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন/সংশোধন ও জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

    আইন বিভাগের কার্যাবলী নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. আইন প্রণয়ন ও সংশোধন: আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো দেশের বিদ্যমান আইন সংশোধন, বাতিল এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি করা।
    ২. অর্থ সংক্রান্ত কার্যাবলী: আইন বিভাগ রাষ্ট্রীয় তহবিলের অভিভাবক। সরকারি বাজেট পাস করা, কর ধার্য বা রহিত করা এবং বিভিন্ন সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া আইন বিভাগের কাজ।
    ৩. শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ: সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় আইন বিভাগ প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে, মূলতবি প্রস্তাব এবং অনাস্থা প্রস্তাব এনে শাসন বিভাগকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।
    ৪. সংবিধান সংশোধন ও রূপরেখা প্রণয়ন: রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন অর্থাৎ সংবিধানের কোনো ধারা পরিবর্তন বা পরিমার্জনের ক্ষমতা আইন বিভাগের থাকে।
    ৫. বিচারিক কাজ: কিছু ক্ষেত্রে আইন বিভাগ রাষ্ট্রপ্রধান, বিচারপতি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অভিশংসন (Impeachment)-এর মতো বিচারিক দায়িত্ব পালন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "আইন বিভাগের ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে"—উক্তিটি সমকালীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রেক্ষিতে যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। এর প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. শাসন বিভাগের প্রভাব বৃদ্ধি: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণার বিকাশের ফলে শাসন বিভাগের কাজের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন প্রণয়নের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন—সবখানেই শাসন বিভাগ অধিক প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।
    ২. অর্পিত আইন প্রণয়ন (Delegated Legislation): আধুনিক রাষ্ট্রের আইনগুলো অত্যন্ত জটিল ও প্রযুক্তিগত হওয়ায় আইনসভা মূল রূপরেখা তৈরি করে বিশদ নিয়মাবলী তৈরির দায়িত্ব আমলাতন্ত্র বা শাসন বিভাগের হাতে অর্পণ করে, যা আইন বিভাগের গুরুত্ব হ্রাস করছে।
    ৩. কঠোর দলীয় শৃঙ্খলা: আধুনিক দলীয় রাজনীতিতে দলীয় নির্দেশ বা হুইপের কারণে সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারেন না (যেমন বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ)। ফলে আইনসভার মুক্ত বিতর্ক সীমিত হয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
    ৪. রাষ্ট্রপ্রধানের অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা: আইনসভার অধিবেশন চলা ব্যতিরেকে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপ্রধান অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইন জারি করতে পারেন, যা অনেক সময় আইনসভার প্রাধান্যকে সংকুচিত করে।

    পরিশেষে বলা যায়, তাত্ত্বিকভাবে আইন বিভাগ সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেও দলীয় রাজনীতির প্রভাব, শাসন বিভাগের আধিপত্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কারণে বাস্তবে আইন বিভাগের ক্ষমতা আগের তুলনায় অনেকাংশে হ্রাস পাচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন