‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' রাষ্ট্রের একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়। সংরক্ষিত বিষয়গুলো গর্ভনরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

  1. ক)

    মর্লে- মিন্টো সংস্কার আইন কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ভারতীয়দের শাসনকাজে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে ১৯০৯ সালে প্রণীত 'ভারতীয় পরিষদ আইন'-ই মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন নামে পরিচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈতশাসন বলতে একই সাথে দুই ধরনের কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এর অধীনে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'সংরক্ষিত' ও 'হস্তান্তরিত'—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। সংরক্ষিত বিষয়গুলো প্রাদেশিক গভর্নর ও তাঁর নির্বাহী পরিষদের হাতে এবং হস্তান্তরিত বিষয়গুলো মন্ত্রীদের হাতে ন্যস্ত ছিল, যা ছিল একটি দ্বৈত প্রকৃতির শাসন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে আমার পঠিত '১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন'-এর (মন্ট্যাগু-চেমসফোর্ড সংস্কার) সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল প্রদেশসমূহে দ্বৈতশাসন (Dyarchy) প্রবর্তন করা। এই ব্যবস্থার অধীনে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল—সংরক্ষিত বিষয় (Reserved Subjects) এবং হস্তান্তরিত বিষয় (Transferred Subjects)। সংরক্ষিত বিষয়গুলোর (যেমন- আইন-শৃঙ্খলা, অর্থ, বিচার প্রভৃতি) দায়িত্ব ছিল প্রাদেশিক গভর্নর ও তাঁর শাসন পরিষদের সদস্যদের ওপর, যাঁরা আইনসভার কাছে দায়ী ছিলেন না। উদ্দীপকের 'X' রাষ্ট্রে ঠিক একইভাবে প্রাদেশিক বিষয়কে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত বিষয়ে ভাগ করে সংরক্ষিত বিষয় গভর্নরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকে প্রতিফলিত ব্যবস্থাটি ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনটি ভারতীয়দের স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কার্যকর হতে পারেনি, বরং প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যর্থতার জন্ম দিয়েছিল। এই আইনের মূল দুর্বলতা ছিল প্রদেশগুলোতে প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন। গভর্নরকে প্রায় সর্বময় ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল এবং সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো (যেমন- অর্থ ও পুলিশ) গভর্নরের নিয়ন্ত্রণে থাকায় হস্তান্তরিত বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশীয় মন্ত্রীরা কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারতেন না। অর্থের অভাবে শিক্ষামন্ত্রী কিংবা স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাঁদের উন্নয়নমূলক কাজ চালাতে ব্যর্থ হতেন। তাছাড়া গভর্নর যেকোনো সময় মন্ত্রীদের সিদ্ধান্ত বাতিল করার ভেটো ক্ষমতা রাখতেন। ফলে দায়িত্বশীল স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার যে উদ্দেশ্য প্রচার করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়। সামগ্রিকভাবে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনটি কার্যকর কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হলেও এটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে এবং পরবর্তীতে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবির পথ প্রশস্ত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন