ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২০
ইসলাম প্রশ্ন
ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা ক্লাসে সাবিক জানতে চাইল, দিনের পর দিন আমাদের সমাজে গরিব ও বেকার লোকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা। সমাধানের উপায় কী? তখন শিক্ষক মহোদয় বললেন, সমাজের নিসাব পরিমাণ মালের মালিকগণ যদি তাদের সম্পদের নির্দিষ্ট পরিমাণ মাল গরিব- মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করেন তাহলে এ সমস্যা সমাধান হতে পারে। একথা শুনে শ্রেণির অন্য একজন মেধাবী ছাত্র বেলাল বলল, স্যার ইসলামে এমন একটি ইবাদত রয়েছে যা পালন করলে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং এর প্রতিদান আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে দেবেন।
- ক)(1)
ইবাদত কাকে বলে?
- খ)(2)
'সালাতের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শিক্ষক মহোদয়ের বক্তব্যে ইসলামের কোন ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বেলাল যে ইবাদতের কথা বলেছে তা চিহ্নিত করে এর সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আরবি 'ইবাদত' শব্দের অর্থ দাসত্ব, আনুগত্য। পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাঁর সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলাকে ইবাদত বলে।
- খ)
সালাত মুসলমানদের একত্রিত করে। জামাআতে সালাত আদায়ের সময় ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই একই কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়। এতে ভেদাভেদ দূর হয়। প্রতিদিন পাঁচবার একত্র হওয়ায় একে অন্যের খোঁজখবর নেওয়ার সুযোগ হয়। অসুস্থের সেবা, অভাবীর সাহায্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়ে। এভাবে সালাত সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে।
- গ)
শিক্ষক মহোদয়ের বক্তব্যে যাকাত ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, নিসাব পরিমাণ মালের মালিকগণ সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করবেন। এটিই যাকাতের বৈশিষ্ট্য।
ব্যাখ্যা:
১. যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা ও বৃদ্ধি। শরিয়ত নির্ধারিত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে এক বছর পূর্ণ হলে নির্দিষ্ট অংশ নির্দিষ্ট খাতে দান করাকে যাকাত বলে।
২. এটি ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ ও ফরজ ইবাদত।
৩. সাধারণত সম্পদের হারে যাকাত দিতে হয়।
৪. যাকাতের মাধ্যমে ধনীদের সম্পদ গরিবের কাছে পৌঁছায়। ফলে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমে এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য আসে। তাই শিক্ষক মহোদয় এটিকেই সমস্যার সমাধান বলেছেন। - ঘ)
বেলালের বর্ণিত ইবাদতটি সাওম (রোজা)। রাসুল (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমান ও সাওয়াবের আশায় রমজানের সাওম পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। আরেক হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেছেন, সাওম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। এই দুই বৈশিষ্ট্য সাওমের সাথে মিলে যায়।
সামাজিক গুরুত্ব:
১. সহমর্মিতা: ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে ধনীরা গরিবের দুঃখ বোঝে এবং তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
২. সাম্য ও ঐক্য: ধনী-গরিব সবাই একই সময়ে সাওম রাখে ও ইফতার করে। এতে ভেদাভেদ কমে ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
৩. আত্মসংযম ও নৈতিকতা: সাওম মিথ্যা, গিবত, ঝগড়া ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে। ফলে সমাজে শান্তি বজায় থাকে।সুতরাং, সাওম ব্যক্তিগত ইবাদত হওয়ার পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল ও সহমর্মী সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও