‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ বৈষম্যের অবসানের লক্ষ্যে বাঙালির প্রাণের নেতা লাহোরে কয়েক দফা দাবি উপস্থাপন করেন। ইতিহাসে এটি বাঙ্গালীর মুক্তির সনদ নামে পরিচিত।

  1. ক)

    কখন পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তফ্রন্ট কেন গঠিত হয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে দাবিগুলোর কথা বলা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দাবিগুলো স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কি ধরনের প্রভাব রাখে তা ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুসলিম লীগের স্বৈরাচারী শাসন, অর্থনৈতিক শোষণ, বাংলা ভাষার অবমূল্যায়ন এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতির অবসান ঘটিয়ে বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। মূলত ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ঐতিহাসিক 'ছয় দফা দাবি'-র কথা বলা হয়েছে। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মুক্তির সনদ হিসেবে এই ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।

    ছয় দফা দাবিগুলো হলো:
    ১. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানকে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পরিণত করা এবং সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করা, যেখানে সার্বভৌমত্ব থাকবে আইনসভার হাতে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।
    ২. কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেবল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে; অবশিষ্ট সমস্ত বিষয় অঙ্গরাজ্যগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
    ৩. দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি মুদ্রা থাকবে, অথবা একই মুদ্রা থাকলে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মুদ্রা বা মূলধন পাচার হতে না পারে।
    ৪. রাজস্ব, কর বা শুল্ক ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা থাকবে অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট অংশ প্রদেশ থেকে প্রদান করা হবে।
    ৫. অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের হিসাব পৃথকভাবে সংরক্ষণ করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
    ৬. অঙ্গরাজ্যগুলোকে আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে নিজস্ব আধা-সামরিক বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছয় দফা দাবি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বাতিঘর ও মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। এ দাবিগুলো উত্থাপনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি প্রথমবারের মতো তাদের স্বাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সুস্পষ্ট রূপরেখা লাভ করে।

    ঐতিহাসিকভাবে ছয় দফাকে 'বাঙালির মুক্তিসনদ' বা 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল। ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালিরা প্রথমবারের মতো বুঝতে পারে যে তাদের শোষণমুক্তির একমাত্র পথ হলো স্বায়ত্তশাসন। শাসকগোষ্ঠী এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে এবং বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। এর ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে।

    পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছয় দফার ভিত্তিতেই অংশগ্রহণ করে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। এই নির্বাচনের রায় ছিল মূলত ছয় দফার প্রতি জনগণের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট। পরবর্তীতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালে ১৯৭১ সালে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সুতরাং, ছয় দফা দাবিই পর্যায়ক্রমে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত সংগ্রামে রূপান্তরিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন