পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
পল্লী উন্নয়ন সোসাইটি পরিচালনার ক্ষেত্রে কতগুলো বিধি-বিধান মেনে চলতে হয়। যার জন্যে সদস্যবৃন্দ অনেকগুলো বিধি-বিধান লিপিবদ্ধ করে রাখেন। যেকোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলে সংগঠনের সদস্যদের বৃহত্তর অংশের মতামতের প্রয়োজন হয়। পক্ষান্তরে সুফলা উন্নয়ন সোসাইটি পরিচালনার ক্ষেত্রে এর ভিন্নতা রয়েছে। কোনো সমস্যার সমাধান তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করে থাকেন। যার ফলে তাদেরকে অনেক সমস্যার সমাধানে বেগ পেতে হয়।
- ক)(1)
সুপরিবর্তনীয় সংবিধান কাকে বলে?
- খ)(2)
রাষ্ট্রের দর্পণ বা আয়না কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সুফলা উন্নয়ন সোসাইটি কোন ধরনের সংবিধানের সাথে সান্ত্বশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পল্লী উন্নয়ন সোসাইটি পরিচালনার ক্ষেত্রে পাঠ্যবইয়ের কোন সংবিধানের সাথে মিল রয়েছে বলে তুমি মনে কর? উদ্দীপকের আলোকে মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে সংবিধান সাধারণ আইন পাসের পদ্ধতিতেই সহজে সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায়, তাকে সুপরিবর্তনীয় সংবিধান বলে।
- খ)
সংবিধানকে রাষ্ট্রের দর্পণ বা আয়না বলা হয়। আয়নায় যেমন মুখের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়, তেমনি সংবিধানে রাষ্ট্রের শাসন কাঠামো, সরকারের ক্ষমতা, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের আদর্শ প্রতিফলিত হয়। সংবিধান দেখে একটি রাষ্ট্রের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
- গ)
সুফলা উন্নয়ন সোসাইটি অলিখিত ও সুপরিবর্তনীয় সংবিধানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে সুফলা সোসাইটির কোনো লিখিত বিধি-বিধানের কথা নেই; তারা সমস্যা সমাধান করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে, অর্থাৎ প্রথা ও সমঝোতার ভিত্তিতে। অলিখিত সংবিধানে বেশিরভাগ বিধান প্রথা ও ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করে এবং সহজে পরিবর্তন করা যায়। ব্রিটেনের সংবিধান এর উদাহরণ। এ কারণেই সোসাইটির সাথে এ সংবিধানের মিল রয়েছে।
- ঘ)
আমার মতে পল্লী উন্নয়ন সোসাইটির সাথে লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের মিল রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান এ ধরনের সংবিধানের উদাহরণ।
১. লিখিত বিধান: উদ্দীপকে সদস্যরা সকল বিধি-বিধান লিপিবদ্ধ করে রাখেন। লিখিত সংবিধানেও শাসন সংক্রান্ত সকল নিয়ম একটি দলিলে সুস্পষ্টভাবে লেখা থাকে।
২. দুষ্পরিবর্তনীয়তা: সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য সদস্যদের বৃহত্তর অংশের মতামত লাগে। দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান সংশোধনেও বিশেষ পদ্ধতি ও বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে সংবিধান সংশোধনে সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের ভোট দরকার।
৩. স্থিতিশীলতা: এ পদ্ধতিতে বিধি-বিধান সহজে বদলানো যায় না, ফলে সংগঠন বা রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা বজায় থাকে।সুতরাং, পল্লী উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালনা পদ্ধতি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের অনুরূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও