ভূগোল এবং পরিবেশ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
'A' দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। দেশটির আয়তন ১৪৭৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। খাদ্যের অভাব পূরণের লক্ষ্যে দেশটি জমিতে চাষাবাদের সময় অধিক পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহার করছে। ফলে পরিবেশ দূষণসহ দেশের সর্বত্র নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
- ক)(1)
অভিবাসন কী?
- খ)(2)
কখন জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'A' দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
'A' দেশটির পরিবেশ সংরক্ষণে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
স্থায়ী বসবাসের উদ্দেশ্যে মানুষের এক স্থান বা দেশ থেকে অন্য স্থান বা দেশে যাওয়াকে অভিবাসন বলে।
- খ)
জনসংখ্যা তখনই জনসম্পদে পরিণত হয় যখন তারা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মক্ষম হয়ে ওঠে।
দক্ষ জনগোষ্ঠী কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে উৎপাদনশীল কাজ করে দেশের আয় বাড়ায়। আর অদক্ষ ও বেকার জনসংখ্যা অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। - গ)
জনসংখ্যার ঘনত্ব =
এখানে, মোট জনসংখ্যা = ১৮ কোটি = জন
আয়তন = বর্গ কিমিসুতরাং, 'A' দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১,২২০ জন।
- ঘ)
'A' দেশটি খাদ্যের চাহিদা মেটাতে অধিক রাসায়নিক সার ব্যবহার করছে। এতে মাটি ও পানি দূষিত হচ্ছে, মাটির জৈব উপাদান কমে উর্বরতা কমছে এবং জলজ প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যায়।
১. সার ও কীটনাশকের পরিমিত ব্যবহার: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে। এতে মাটি ও পানি দূষণ কমবে।
২. শস্য বহুমুখীকরণ: একই জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষ করলে মাটির পুষ্টি ঘাটতি কমে এবং অত্যধিক সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। ধানের জমিতে মাছ চাষও লাভজনক।
৩. বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ: বনায়ন বাড়িয়ে এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত এলাকা গড়ে তুলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।
৪. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা: জনসংখ্যার চাপ কমাতে পারলে খাদ্যের চাহিদা ও ভূমির ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে।সুতরাং, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে 'A' দেশ কৃষির উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও