ইসলাম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

চৈতি বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। তার ধারণা ইসলাম নারীদেরকে বিভিন্নভাবে অসম্মানিত করেছে। বিশেষ করে তাদের ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে। তার এক বান্ধবী মুমতাহিনা শাহিনার অনুপস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে বলে, শাহিনার স্বভাব-চরিত্র ভালো না। তোমরা কেউ তাকে টাকা ধার দেবে না।

  1. ক)

    আত্মশুদ্ধি কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে কেন?

    (2)
  3. গ)

    চৈতি বেগমের ধারণা ইসলামের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মুমতাহিনার বক্তব্যটি চিহ্নিতপূর্বক এর পরিণাম কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নফস বা কুপ্রবৃত্তিকে পাপ ও অন্যায় থেকে পবিত্র করে সৎগুণে সজ্জিত করাকে আত্মশুদ্ধি বলে।

  2. খ)

    ইসলামে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় ও কৃপণতা দুটিই নিষিদ্ধ। অপচয় করলে মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং শয়তানের ভাইয়ে পরিণত হয়। আবার কৃপণতা করলে নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটে না এবং গরিবের হক নষ্ট হয়। আল্লাহ বলেছেন, মুমিনরা ব্যয়ের সময় অপচয় করে না, কার্পণ্যও করে না, বরং মধ্যপন্থা অবলম্বন করে (সূরা ফুরকান, ৬৭)। তাই ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ও সমাজের কল্যাণের জন্য মধ্যমপন্থা জরুরি।

  3. গ)

    চৈতি বেগমের ধারণা, ইসলাম নারীদের ঘরে সীমাবদ্ধ রেখে অসম্মানিত করেছে। এ ধারণা ভুল।

    ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে:
    ১. মায়ের মর্যাদা: রাসুল (স) বলেছেন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।
    ২. শিক্ষার অধিকার: জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজ।
    ৩. অর্থনৈতিক অধিকার: নারী পিতা-মাতা ও স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী, মোহরের অধিকারী এবং নিজের উপার্জনের মালিক।
    ৪. নিরাপত্তা: পর্দা নারীকে অসম্মান নয়, বরং নিরাপত্তা ও সম্ভ্রমের সুরক্ষা দেয়। পর্দা মেনে নারী শিক্ষা ও বৈধ কাজে অংশ নিতে পারে।

    সুতরাং ইসলাম নারীকে অসম্মান করেনি, বরং নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে।

  4. ঘ)

    মুমতাহিনার বক্তব্য গিবত (পরনিন্দা)। সে শাহিনার অনুপস্থিতিতে তার দোষ বা চরিত্র নিয়ে কথা বলেছে, যা শাহিনা শুনলে অপছন্দ করত। কথাটি মিথ্যা হলে তা আরও বড় অপরাধ (অপবাদ)।

    কুরআনের আলোকে পরিণাম: আল্লাহ বলেন, তোমরা একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা ঘৃণা করো (সূরা হুজুরাত, ১২)। অর্থাৎ গিবত অত্যন্ত ঘৃণিত পাপ।

    হাদিসের আলোকে পরিণাম: রাসুল (স) বলেছেন, গিবত হলো তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে। গিবতকারী গুনাহগার হয় এবং কিয়ামতে তার নেক আমল ক্ষতিগ্রস্তের কাছে চলে যেতে পারে।

    সামাজিক পরিণাম: এতে বন্ধুত্ব নষ্ট হয়, ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ায় এবং সমাজের শান্তি বিঘ্নিত হয়।

    সুতরাং, গিবত ইহকাল ও পরকালে ক্ষতির কারণ। তাই মুমতাহিনার তওবা করা ও শাহিনার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন