পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

ঘটনা-১: ১৯৭৫ সালের ২৮ নভেম্বর পর্তুগিজ যা তিমুর নামে পরিচিত ছিল তারা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কিন্তু মাত্র নয় দিন পর ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী এটি দখল করে এবং ইন্দোনেশিয়ার ২৭তম প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা দেন।ঘটনা-২: B একটি বড় রাষ্ট্র যা একদিনে সৃষ্টি হয়নি, বহুদিনের বিতর্ক, পরিবর্তন ও চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিয়ে এই রাষ্ট্রের সৃষ্টি।

  1. ক)

    পরিবার কী?

    (1)
  2. খ)

    আত্মসংযমের শিক্ষা পরিবারের কোন ধরনের কাজ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ঘটনা-১ এ ইন্দোনেশিয়া কর্তৃক তিমুরকে দখল করা রাষ্ট্র সৃষ্টির কোন মতবাদকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঘটনা-১ ও ঘটনা-২ এ বর্ণিত রাষ্ট্র সৃষ্টির মতবাদগুলোর মধ্যে কোনটিকে অধিক গ্রহণযোগ্য বলে তুমি মনে কর? উত্তরের সপক্ষের যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পরিবার হলো রক্ত বা বিবাহ সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রতম সামাজিক সংগঠন।

  2. খ)

    আত্মসংযমের শিক্ষা পরিবারের সামাজিক কাজের অন্তর্ভুক্ত। শিশু পরিবারেই প্রথম সমাজে চলার নিয়ম, শৃঙ্খলা, নিজের আবেগ-ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ, সহনশীলতা ও বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা শেখে। বাবা-মা ও অন্য সদস্যদের আচরণ দেখে সে এসব গুণ আয়ত্ত করে, যা তাকে সমাজের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে। এভাবে পরিবার শিশুর চরিত্র গঠন ও সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    ঘটনা-১-এ ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী কর্তৃক স্বাধীন ঘোষিত তিমুর দখল রাষ্ট্র সৃষ্টির শক্তি বা বলপ্রয়োগ মতবাদ-কে নির্দেশ করে।

    ব্যাখ্যা: এই মতবাদ অনুযায়ী রাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগের ফল। শক্তিশালী গোষ্ঠী বা শাসক যুদ্ধ ও দখলের মাধ্যমে দুর্বলকে পরাজিত করে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং এভাবেই রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটে। ঘটনা-১-এ ইন্দোনেশিয়া সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তিমুর দখল করে নিজের প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এটি শক্তি মতবাদের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    ঘটনা-১-এ শক্তি মতবাদ এবং ঘটনা-২-এ ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদের ইঙ্গিত রয়েছে। আমার মতে, এ দুইয়ের মধ্যে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ অধিক গ্রহণযোগ্য।

    ১. ক্রমবিকাশের ফল: ঘটনা-২-এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্রটি বহুদিনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে। ঐতিহাসিক মতবাদও বলে, রাষ্ট্র কোনো একটি কারণে হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি, বরং দীর্ঘ ক্রমবিকাশের ফল।
    ২. একাধিক উপাদানের সমন্বয়: রক্ত-সম্পর্ক, ধর্ম, অর্থনৈতিক প্রয়োজন, রাজনৈতিক চেতনা এবং প্রয়োজনে শক্তি—সব উপাদানই এই মতবাদে স্বীকৃত। শক্তি মতবাদ কেবল একটি উপাদানকে গুরুত্ব দেয়।
    ৩. ন্যায্যতার অভাব: শক্তি মতবাদ জোর-জবরদস্তি ও অন্যায় দখলকে সমর্থন করে। এতে রাষ্ট্রে জনগণের সম্মতি ও কল্যাণ উপেক্ষিত হয়।

    সুতরাং, সব দিক বিবেচনায় ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদই রাষ্ট্র সৃষ্টির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতবাদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন