পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. B একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের নিয়ম না মেনে আত্মীয়-স্বজনকে অফিস সহায়ক নিয়োগ দিয়েছেন। এ অর্থনৈতিক কাজ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধাস্বরূপ। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আগে নিজেকে বদলাতে হবে। চলো বদলে যাই, বদলে দেই বাংলাদেশ।
- ক)(1)
ইভটিজিং কী?
- খ)(2)
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনা তোমার পঠিত কোন বিষয়কে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“বদলে যাই, বদলে দিই বাংলাদেশ”- উদ্দীপকের আলোকে বক্তব্যটি যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকাশ্য বা জনসমক্ষে নারীদের কটূক্তি করা, উত্ত্যক্ত করা, অশোভন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন বা যৌন হয়রানি করাকে ইভটিজিং বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) বলা হয়। শিল্পকারখানা, যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং বনভূমি ধ্বংসের কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন প্রভৃতি গ্যাস জমা হয়ে সৌর বিকিরণ আটকে ফেলে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি আমার পঠিত সুশাসনের অন্তরায় 'দুর্নীতি' এবং বিশেষ করে 'স্বজনপ্রীতি' (Nepotism)-কে নির্দেশ করেছে।
স্বজনপ্রীতি হলো যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে নিজের আত্মীয়-স্বজন বা অনুগতদের অন্যায়ভাবে সুবিধা প্রদান করা। উদ্দীপকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মি. B প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অমান্য করে আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দিয়েছেন, যা ক্ষমতার অপব্যবহার ও সুস্পষ্ট দুর্নীতি। সুশাসনের অন্যতম মূল স্তম্ভ হলো স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন। যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া সুশাসনের পথে চরম অন্তরায় সৃষ্টি করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাকে ধ্বংস করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“বদলে যাই, বদলে দিই বাংলাদেশ”—উদ্দীপকের আলোকে বক্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকারি কর্মকর্তা মি. B অনিয়ম করে আত্মীয়-স্বজনকে নিয়োগ দেন, যা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নৈতিক অবক্ষয় ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে। দুর্নীতির মূল কারণ মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের ঘাটতি এবং আত্মস্বার্থপরতা। আইন করে বা প্রশাসনিক বিধিনিষেধ আরোপ করে দুর্নীতি কমানো সম্ভব হলেও ব্যক্তিস্বার্থ ও মনস্তত্ত্ব পরিবর্তন না হলে তা স্থায়ী হয় না।
দেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ যদি ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে সততা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়পরায়ণতার অনুশীলন শুরু করেন, তবে প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি দূর হবে। সুশাসন রাতারাতি প্রতিষ্ঠিত হয় না; এর সূচনা ঘটে প্রতিটি ব্যক্তির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে। প্রত্যেকে যদি নিজের দায়িত্ব সততার সাথে পালন করে এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেয়, তবেই রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতি নির্মূল হবে এবং একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। সুতরাং, নিজে পরিবর্তিত হয়ে সমাজ ও দেশকে পরিবর্তনের এই আহ্বানটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও