পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
লিটন চৌধুরী ‘ক’ রাষ্ট্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা। সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেন। সরকার ভীত হয়ে লিটন চৌধুরীকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
- ক)(1)
১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান কী?
- খ)(2)
মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো ঐতিহাসিক মামলার সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা বাঙালি জনগণকে স্বাধীনতার প্রেরণা দেয়— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে যে তীব্র ও সর্বাত্মক গণ-আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাকে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক গণতন্ত্র হলো পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান কর্তৃক ১৯৫৯ সালে প্রবর্তিত একটি সীমিত ও পরোক্ষ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৮০,০০০ (পরবর্তীতে ১,২০,০০০) স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচন করা হতো, যাদের বলা হতো 'মৌলিক গণতন্ত্রী'। সাধারণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার হরণ করে কেবল এই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতি ও আইনসভার সদস্য নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছিল। মূলত নিজের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী ও সুসংহত করার উদ্দেশ্যেই আইয়ুব খান এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমাদের জাতীয় ইতিহাসের ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জনপ্রিয়তা এবং ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির প্রতি জনগণের অবিসংবাদিত সমর্থন দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাঙালিদের স্বাধিকার আন্দোলন স্তব্ধ করার লক্ষ্যে ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রমূলক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের নেতা লিটন চৌধুরী সরকারের অন্যায় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, যা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক তৎকালীন পূর্ব বাংলার জনগণকে স্বাধিকার আন্দোলনে জাগ্রত করার অনুরূপ। উদ্দীপকে সরকার শঙ্কিত হয়ে লিটন চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এই সংখ্যা ও মামলার প্রকৃতি স্পষ্টভাবে ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার সাথে হুবহু মিলে যায়। অতএব, উদ্দীপকের সাথে আগরতলা মামলার সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা অর্থাৎ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রকৃতপক্ষে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত প্রেরণা জুগিয়েছিল—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু এর ফলাফল হয় তাদের সম্পূর্ণ বিপরীত। এই মিথ্যা মামলার খবর প্রকাশিত হলে পূর্ব বাংলার সর্বস্তরের ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বাংলার আপামর জনগণ এই মামলাকে নিজেদের অস্তিত্ব ও স্বাধিকার হরণের চক্রান্ত হিসেবে বিবেচনা করে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
এই মামলার সূত্র ধরেই ১৯৬৯ সালে ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ছাত্রসমাজের ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলন এবং তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন ভেঙে পড়ে। পাকিস্তান সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল আসামিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। গণ-অভ্যুত্থানের সফলতার মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান লাভ করেন 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি এবং জনগণের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। এই ঘটনা বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ঐক্য দৃঢ় করে এবং নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে, যা পরবর্তীকালে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ সুগম করে।
অতএব, বলা যায় উদ্দীপকে প্রতিফলিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ঘটনাটি বাঙালি জনগণকে দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রেরণা জুগিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও