রসায়ন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পরমাণু অর্থনীতি কাকে বলে?
- খ)(2)
সোডিয়াম মৌলকে ক্ষারধাতু বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সর্বশেষ শক্তিস্তর কয়টি ইলেকট্রন ধারণ করে তা l ও m এর মান বিসাব করে বের কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইলেকট্রন দুটি আউফবাউ নীতি এবং পাউলির বর্জননীতি সমর্থন করে কি-না? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিক্রিয়কগুলোর মোট ভরের কত শতাংশ কাঙ্ক্ষিত উৎপাদে রূপান্তরিত হয়েছে, তার শতকরা হারকে পরমাণু অর্থনীতি (Atom Economy) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পর্যায় সারণির গ্রুপ-১ এর মৌলগুলোকে ক্ষারধাতু বলা হয়। সোডিয়াম (Na) গ্রুপ-১ এর একটি তীব্র তড়িৎ-ধনাত্মক ধাতু। সোডিয়াম পানির সাথে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে বিক্রিয়া করে তীব্র ক্ষার সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এবং হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
2Na + 2H₂O → 2NaOH + H₂
যেহেতু সোডিয়াম ক্ষার উৎপন্ন করে, তাই একে ক্ষারধাতু বলা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রানুযায়ী সর্বশেষ শক্তিস্তরটি হলো ৪র্থ শক্তিস্তর, অর্থাৎ প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা, n = 4।
n = 4 এর জন্য সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা l এবং চৌম্বক কোয়ান্টাম সংখ্যা m-এর মান হিসাব করে ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা নিম্নরূপ ছকে দেখানো হলো:
১. l = 0 (4s অরবিটাল):
m এর মান = 0 (অরবিটাল সংখ্যা = 1টি)
সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা = 2 × 1 = 2টি২. l = 1 (4p অরবিটাল):
m এর মান = -1, 0, +1 (অরবিটাল সংখ্যা = 3টি)
সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা = 2 × 3 = 6টি৩. l = 2 (4d অরবিটাল):
m এর মান = -2, -1, 0, +1, +2 (অরবিটাল সংখ্যা = 5টি)
সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা = 2 × 5 = 10টি৪. l = 3 (4f অরবিটাল):
m এর মান = -3, -2, -1, 0, +1, +2, +3 (অরবিটাল সংখ্যা = 7টি)
সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা = 2 × 7 = 14টিসুতরাং, ৪র্থ শক্তিস্তরে মোট অরবিটাল সংখ্যা = 1 + 3 + 5 + 7 = 16টি।
অতএব, সর্বশেষ (৪র্থ) শক্তিস্তরে মোট ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা = 2 + 6 + 10 + 14 = 32টি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইলেকট্রন দুটি হলো ১১তম ইলেকট্রন এবং ১৯তম ইলেকট্রন।
সাধারণ ইলেকট্রন বিন্যাস বিবেচনা করলে মৌলটির ইলেকট্রন বিন্যাস:
1s² 2s² 2p⁶ 3s¹ (১১তম ইলেকট্রনটি 3s অরবিটালে প্রবেশ করে)
এবং ১৯তম ইলেকট্রনটির ক্ষেত্রে:
1s² 2s² 2p⁶ 3s² 3p⁶ 4s¹ (১৯তম ইলেকট্রনটি 4s অরবিটালে প্রবেশ করে)১. আউফবাউ নীতির সমর্থন:
আউফবাউ নীতি অনুযায়ী ইলেকট্রন প্রথমে নিম্নশক্তি সম্পন্ন অরবিটালে প্রবেশ করে এবং ক্রমান্বয়ে উচ্চশক্তি সম্পন্ন অরবিটালে যায়। অরবিটালের শক্তি নির্ধারিত হয় (n + l) এর মানের ওপর।- ১১তম ইলেকট্রনটির ক্ষেত্রে (3s অরবিটাল): n = 3, l = 0; সুতরাং (n + l) = 3 + 0 = 3। এটি 2p (2+1=3) পূর্ণ হওয়ার পর ৩য় শক্তিস্তরের সর্বনিম্ন শক্তিসম্পন্ন 3s অরবিটালে প্রবেশ করে, যা আউফবাউ নীতি মেনে চলে।
- ১৯তম ইলেকট্রনটির ক্ষেত্রে: 3p অরবিটাল পূর্ণ হওয়ার পর ইলেকট্রন 3d তে না গিয়ে 4s এ যায়। কারণ, 3d এর জন্য (n + l) = 3 + 2 = 5 এবং 4s এর জন্য (n + l) = 4 + 0 = 4। যেহেতু 4s অরবিটালের শক্তি 3d অপেক্ষা কম, তাই ১৯তম ইলেকট্রনটি প্রথমে 4s অরবিটালে প্রবেশ করে। অতএব, ইলেকট্রন দুটির বিন্যাস আউফবাউ নীতিকে পূর্ণ সমর্থন করে।
২. পাউলির বর্জন নীতির সমর্থন:
পাউলির বর্জন নীতি অনুযায়ী, একটি পরমাণুর যেকোনো দুটি ইলেকট্রনের চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার মান কখনো একই হতে পারে না।-
১১তম ইলেকট্রনের জন্য:
প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n) = 3
সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা (l) = 0
চৌম্বক কোয়ান্টাম সংখ্যা (m) = 0
ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা (s) = +½ -
১৯তম ইলেকট্রনের জন্য:
প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n) = 4
সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা (l) = 0
চৌম্বক কোয়ান্টাম সংখ্যা (m) = 0
ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা (s) = +½
এখানে স্পষ্ট দেখা যায় যে, যদিও l, m এবং s এর মান একই, তবুও তাদের প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n) ভিন্ন (যথাক্রমে 3 এবং 4)। অর্থাৎ চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার মান এক নয়।
সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত ইলেকট্রন দুটি আউফবাউ নীতি এবং পাউলির বর্জন নীতি উভয়কেই সমর্থন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও