‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

স্পেনিশরা ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপন করে। সেই অঞ্চলে একটি চুক্তির মাধ্যমে অর্থ-সংশ্লিষ্ট ও দেশ রক্ষার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্য দায়িত্ব ছিল নির্দিষ্ট অঞ্চলের শাসকদের। দায়িত্বহীনতার জন্য শাসন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা ও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    ডেনমার্কের অধিবাসীদের কী বলা হতো?

    (1)
  2. খ)

    আলীনগরের সন্ধি কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের কোন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনা বাংলার মানুষের জীবনে বিপর্যয় ঘটিয়েছিল— পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ডেনমার্কের অধিবাসীদের 'দিনেমার' বা 'ড্যানিশ' বলা হতো।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি 'আলীনগরের সন্ধি' নামে পরিচিত। কলকাতা পুনর্দখলের পর নবাবের উপর চাপ সৃষ্টি করে ইংরেজরা এই চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য সংক্রান্ত পূর্বের সব সুযোগ-সুবিধা এবং কলকাতায় নিজস্ব মুদ্রা তৈরির অধিকার আদায় করে নেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশে রবার্ট ক্লাইভ কর্তৃক প্রবর্তিত 'দ্বৈত শাসন' ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    ১৭৬৫ সালে দিল্লির মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভের পর ক্লাইভ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন। এতে রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার কর্তৃত্ব চলে যায় ইংরেজ কোম্পানির হাতে (দায়িত্বহীন ক্ষমতা), আর শাসন পরিচালনা ও বিচার ব্যবস্থার দায়িত্ব ন্যস্ত হয় নবাবের উপর (ক্ষমতাহীন দায়িত্ব)।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, স্পেনিশরা উপনিবেশ স্থাপন করে একটি চুক্তির মাধ্যমে অর্থ ও দেশ রক্ষার দায়িত্ব নেয় এবং অন্যান্য দায়িত্ব দেয় স্থানীয় শাসকদের, যার ফলে শাসন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এটি ক্লাইভের দেওয়ানি লাভ এবং নবাব ও কোম্পানির মধ্যে দ্বৈত দায়িত্ব বণ্টনের ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার অর্থনীতি ও জনজীবনে নেমে এসেছিল চরম বিপর্যয়, যা পরিশেষে ভয়াবহ ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের রূপ নেয়।

    দ্বৈত শাসন প্রবর্তনের ফলে কোম্পানি কোনো প্রকার প্রশাসনিক দায় না নিয়ে কেবল সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে মেতে ওঠে। কোম্পানি দেশীয় নায়েব নাজিম ও কর্মচারীদের মাধ্যমে কৃষকদের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপায়। অন্য দিকে নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ও ক্ষমতা না থাকায় তিনি প্রজাদের রক্ষা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। ফলে সমগ্র বাংলায় অরাজকতা, লুটতরাজ ও তীব্র অর্থনৈতিক শোষণ শুরু হয়।

    এই চরম শোষণ ও অনাবৃষ্টির কারণে ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬ সন) বাংলায় এক ঐতিহাসিক ও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। কৃষি, বাণিজ্য ও শিল্প ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসের মুখে পড়ে। সুতরাং, উক্ত ঘটনা অর্থাৎ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন বাংলার মানুষের জীবনে অপূরণীয় বিপর্যয় ও ধ্বংস ডেকে এনেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন