পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলের জনগণের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নের জন্য একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানের একজন চেয়ারম্যান, নয়জন সদস্য ও তিনজন মহিলা সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
- ক)(1)
স্থানীয় শাসন কী?
- খ)(2)
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থেকে মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে স্থানীয় শাসন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকার জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর আরোপ ও স্থানীয় সমস্যার সমাধানের ক্ষমতা ভোগ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলের একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা 'ইউনিয়ন পরিষদ' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত কাঠামোতে দেখা যায়— প্রতিষ্ঠানটিতে একজন চেয়ারম্যান, নয়জন সাধারণ সদস্য এবং তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্য রয়েছেন, যাঁরা প্রত্যেকেই জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশের গ্রামীণ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের ত্রিস্তর কাঠামোর সর্বনিম্ন ও মূল ভিত্তি হলো ইউনিয়ন পরিষদ। প্রতিটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত থাকে এবং প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে সাধারণ সদস্য ও প্রতি তিনটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং পুরো ইউনিয়ন থেকে একজন চেয়ারম্যান সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। অতএব, উদ্দীপকের কাঠামোটি হুবহু ইউনিয়ন পরিষদের গঠনকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে— বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জনগণের সবচেয়ে কাছের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সমস্যা নিরসন ও টেকসই পল্লী উন্নয়নে এটি বহুমুখী দায়িত্ব পালন করে:
১. অবকাঠামো উন্নয়ন: গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কালভার্ট, সেতু নির্মাণ ও মেরামত এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করে।
২. সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচন: ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ইত্যাদি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বণ্টন ও তদারকি করে।
৩. স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন: জনস্বাস্থ্য রক্ষা, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা (যেমন নলকূপ স্থাপন), টিকাদান কর্মসূচি ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে।
৪. বিরোধ নিষ্পত্তি: গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্থানীয় ছোটখাটো ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করে গ্রামীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
৫. জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও শিক্ষা প্রসার: প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা প্রদান করে।সুতরাং, তৃণমূল পর্যায়ে স্বনির্ভরতা অর্জন ও জনগণের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও