ব্যবসায় উদ্যোগ • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
আসিফ, মাসুম এবং রাফি তিন বন্ধু মিলে মূলধন ও মুনাফা সমানুপাতে বণ্টনের নিমিত্তে চুক্তিবদ্ধ হয়ে একটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যবসায়, প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে মাসুম মারা যাওয়ায় তার ১৫ বছরের সন্তান টিপুকে চুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়। অপরদিকে মাহি ও সানি কোম্পানি আইন অনুযায়ী 'আদিল অ্যান্ড কোং' নামে আরেকটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে, যেটি কোনো সদস্যের মৃত্যুতেও বিলোপসাধন ঘটবে না।
- ক)(1)
ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রায় কত শতাংশ ব্যবসায় একমালিকানাভিত্তিক?
- খ)(2)
কোন কোন কারণে আদালতের নির্দেশে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলুপ্তি ঘটতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের টিপু কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'আদিল অ্যান্ড কোং' এর গঠন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ইউরোপ ও আমেরিকার প্রায় ৮০% ব্যবসায় একমালিকানাভিত্তিক।
- খ)
অংশীদারি আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী নিচের কারণে আদালত অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলুপ্তি ঘটাতে পারে—
১. কোনো অংশীদারের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে।
২. কোনো অংশীদার দায়িত্ব পালনে চিরতরে অসমর্থ হলে।
৩. কোনো অংশীদারের অসদাচরণের জন্য অংশীদারদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে।
৪. কোনো অংশীদার প্রাপ্য অংশ তৃতীয় পক্ষকে হস্তান্তর করে চুক্তি ভঙ্গ করলে।
৫. ব্যবসায়ে ক্রমাগত লোকসান হতে থাকলে এবং লোকসান ছাড়া ব্যবসায় পরিচালনা অসম্ভব হলে।
এছাড়া অন্য যেকোনো যুক্তিসংগত কারণেও আদালত বিলুপ্তির নির্দেশ দিতে পারেন। - গ)
উদ্দীপকের টিপু সীমিত অংশীদার (Limited Partner)। চুক্তি অনুযায়ী যে অংশীদারের দায় সীমাবদ্ধ, অথবা আইন অনুযায়ী সকল অংশীদারের সম্মতিতে নাবালককে সুবিধা দেওয়ার জন্য যাকে অংশীদার করা হয়, তাকে সীমিত অংশীদার বলে। এ ধরনের অংশীদারের দায় ব্যবসায়ে নিয়োজিত মূলধনের পরিমাণ দ্বারা সীমিত থাকে এবং তিনি ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেন না। উদ্দীপকে মাসুমের মৃত্যুর পর তার ১৫ বছরের সন্তান টিপুকে (নাবালক) চুক্তির আওতায় এনে অংশীদার করা হয়েছে। তাই টিপু সীমিত অংশীদার।
- ঘ)
'আদিল অ্যান্ড কোং' কোম্পানি আইন অনুযায়ী গঠিত। মাত্র দুজন সদস্য (মাহি ও সানি) থাকায় এটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, যার সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন। এর গঠন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
১. উদ্যোগ গ্রহণ পর্যায়: আগ্রহী ব্যক্তিরা কোম্পানির নাম, ধরন, মূলধনের পরিমাণ ও মূলধন সংগ্রহের উপায়, ঠিকানা ইত্যাদি ঠিক করেন। নিবন্ধকের অফিস থেকে নামের ছাড়পত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
২. দলিলপত্র প্রণয়ন পর্যায়: স্মারকলিপি (কোম্পানির সংবিধান) এবং পরিমেল নিয়মাবলি (অভ্যন্তরীণ পরিচালনার নিয়ম) তৈরি করা হয়।
৩. নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ পর্যায়: আবেদনপত্র, ফি ও দলিলপত্র নিবন্ধকের কাছে জমা দেওয়া হয়। নিবন্ধক সন্তুষ্ট হলে কোম্পানির নাম নিবন্ধন বইতে তালিকাভুক্ত করে নিবন্ধনপত্র দেন। এই পত্র পাওয়ার পর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কাজ শুরু করতে পারে।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মতো এর জন্য কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র লাগে না।সুতরাং, এই ধাপগুলো অনুসরণ করেই 'আদিল অ্যান্ড কোং' আইনের মাধ্যমে একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা হিসেবে গঠিত হয়েছে, যা কোনো সদস্যের মৃত্যুতে বিলুপ্ত হয় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও