‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

আপেলের দাম ১২০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা কেজি হলে বাজারে আপেলের চাহিদার পরিমাণ ৪০০ কেজি থেকে কমে ২৪০ কেজি হয়। অন্যদিকে, আপলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কমলার চাহিদা ২৫০ কেজি থেকে বেড়ে ৩০০ কেজি হয়।

  1. ক)

    চাহিদা সূচি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'যোগান ও মজুদ এক নয়'-বুঝিয়ে বলো।

    (2)
  3. গ)

    আড়াআড়ি স্থিতিস্থাপকতার সাহায্যে আপেলের সাথে কমলার সম্পর্ক নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আপেলের চাহিদা কি স্থিতিস্থাপক? উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ করে মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন দামে কোনো দ্রব্যের বিভিন্ন পরিমাণ চাহিদাকে যখন একটি তালিকার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে চাহিদা সূচি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যোগান ও মজুদ এক নয়, কারণ মজুদের যে অংশটি বর্তমান দামে বাজারে বিক্রির জন্য উপস্থাপন করা হয়, কেবল তাকেই যোগান বলে।

    মজুদ হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রেতার কাছে বিক্রয়ের জন্য থাকা দ্রব্যের মোট পরিমাণ। অন্যদিকে, যোগান হলো সেই মজুদকৃত পরিমাণের মধ্য থেকে বর্তমান বাজারদরে বিক্রেতা যে পরিমাণ বিক্রি করতে প্রস্তুত থাকে। দাম কম থাকলে বিক্রেতা মজুদের সামান্য অংশ বিক্রি করতে পারে বা যোগান শূন্যও হতে পারে, কিন্তু মজুদ বিদ্যমান থাকে। সুতরাং, মজুদের পরিমাণ সবসময় যোগানের সমান বা যোগানের চেয়ে বেশি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি সম্পর্কিত দ্রব্যের মধ্যে একটির দামের শতাংশিক পরিবর্তনের ফলে অপর দ্রব্যের চাহিদার যে শতাংশিক পরিবর্তন ঘটে, তাদের অনুপাতকে আড়াআড়ি বা পারস্পরিক স্থিতিস্থাপকতা (EcE_c) বলে।

    এখানে,
    আপেলকে XX এবং কমলাকে YY দ্রব্য ধরলে,
    আপেলের প্রাথমিক দাম, Px=১২০P_x = ১২০ টাকা
    আপেলের পরিবর্তিত দাম, Px′=১৫০P_x' = ১৫০ টাকা
    দাম পরিবর্তন, ΔPx=১৫০−১২০=৩০\Delta P_x = ১৫০ - ১২০ = ৩০ টাকা

    কমলার প্রাথমিক চাহিদা, Qy=২৫০Q_y = ২৫০ কেজি
    কমলার পরিবর্তিত চাহিদা, Qy′=৩০০Q_y' = ৩০০ কেজি
    চাহিদার পরিবর্তন, ΔQy=৩০০−২৫০=৫০\Delta Q_y = ৩০০ - ২৫০ = ৫০ কেজি

    আড়াআড়ি স্থিতিস্থাপকতা,
    Ec=ΔQyΔPx×PxQyE_c = \frac{\Delta Q_y}{\Delta P_x} \times \frac{P_x}{Q_y}
    =৫০৩০×১২০২৫০= \frac{৫০}{৩০} \times \frac{১২০}{২৫০}
    =৫৩×১২২৫=১১×৪৫=০.৮= \frac{৫}{৩} \times \frac{১২}{২৫} = \frac{১}{১} \times \frac{৪}{৫} = ০.৮

    যেহেতু আড়াআড়ি স্থিতিস্থাপকতার মান ধনাত্মক (Ec=+০.৮>০E_c = +০.৮ > ০), অর্থাৎ একটি দ্রব্যের দাম বাড়লে অপর দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, তাই অর্থনীতি তত্ত্ব অনুযায়ী আপেল এবং কমলা একে অপরের পরিবর্তক বা বিকল্প দ্রব্য (Substitute goods)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আপেলের চাহিদা স্থিতিস্থাপক। উদ্দীপকের তথ্যের ভিত্তিতে চাহিদা স্থিতিস্থাপকতা পরিমাপ করে এর সত্যতা প্রমাণ করা হলো।

    আমরা জানি, কোনো দ্রব্যের দামের শতাংশিক পরিবর্তনের ফলে চাহিদার পরিমাণের যে শতাংশিক পরিবর্তন ঘটে, তাকে চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতা (EdE_d) বলে।

    উদ্দীপক অনুসারে,
    আপেলের প্রাথমিক দাম, P=১২০P = ১২০ টাকা
    আপেলের পরিবর্তিত দাম, P1=১৫০P_1 = ১৫০ টাকা
    দামের পরিবর্তন, ΔP=১৫০−১২০=৩০\Delta P = ১৫০ - ১২০ = ৩০ টাকা

    আপেলের প্রাথমিক চাহিদা, Q=৪০০Q = ৪০০ কেজি
    আপেলের পরিবর্তিত চাহিদা, Q1=২৪০Q_1 = ২৪০ কেজি
    চাহিদার পরিবর্তন, ΔQ=২৪০−৪০০=−১৬০\Delta Q = ২৪০ - ৪০০ = -১৬০ কেজি

    চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতার সূত্র:
    Ed=−(ΔQΔP×PQ)E_d = -\left(\frac{\Delta Q}{\Delta P} \times \frac{P}{Q}\right)
    Ed=−(−১৬০৩০×১২০৪০০)E_d = -\left(\frac{-১৬০}{৩০} \times \frac{১২০}{৪০০}\right)
    Ed=১৬০৩০×১২০৪০০=১৬৩×৩১০=১৬১০=১.৬E_d = \frac{১৬০}{৩০} \times \frac{১২০}{৪০০} = \frac{১৬}{৩} \times \frac{৩}{১০} = \frac{১৬}{১০} = ১.৬

    এখানে, চাহিদার স্থিতিস্থাপকতার মান পরম মানে ১-এর চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ∣Ed∣=১.৬>১|E_d| = ১.৬ > ১।
    যখন কোনো দ্রব্যের স্থিতিস্থাপকতার মান একের চেয়ে বেশি হয় (Ed>১E_d > ১), তখন তাকে স্থিতিস্থাপক চাহিদা (Elastic demand) বলে। এর অর্থ হলো, আপেলের দাম যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে (২৫%), চাহিদা তার চেয়ে বেশি হারে হ্রাস পেয়েছে (৪০%)।

    অতএব, উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে আপেলের চাহিদা স্থিতিস্থাপক—মতামতটি সম্পূর্ণ সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন