বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কাজল সাহেব সন্তান লাভের আশায় দ্বিতীয় বিয়ে করে। অবশ্য সন্তান লাভের আশায় এই বিয়েতে তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছিল। বিয়ের পর তার সে আশা পূরণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান না হওয়ার কারণে পিরের পানি পড়া খাওয়াতে গেলে বিপত্তি বাধে। দ্বিতীয় স্ত্রী কাজলকে হুমকি দেয়। এই হুমকিতে তার মধ্যে দোদুল্যমানতার সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
'লালসালু' উপন্যাসের উর্দু অনুবাদকের নাম কী?
- খ)(2)
'কলমা জানস্ না ব্যাটা'- কথাটি কে, কাকে, কেন বলেছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কাজল ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ কোনদিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের বক্তব্য 'লালসালু' উপন্যাসের খণ্ডাংশ মাত্র"-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' উপন্যাসের উর্দু অনুবাদকের নাম কলিমুল্লাহ (অনূদিত নাম: 'লাল শোলু')।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত কথাটি মজিদ আওয়ালপুর গ্রামের তাহের ও কাদেরের অন্ধ বৃদ্ধ পিতাকে ধমক দিয়ে বলেছিল।
মজিদ যখন গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার চেষ্টা করছিল, তখন সে বৃদ্ধ মাতব্বরকে হঠাৎ জিজ্ঞাসা করে বসে সে কলমা জানে কি না। বৃদ্ধ ভড়কে গিয়ে সঠিক উত্তর দিতে না পারায় মজিদ তাকে ধর্মহীন জাহেল প্রমাণ করার জন্য কঠোর সুরে এবং তাকে খাটো করার উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কাজল ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ সন্তান লাভের আশায় প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিবাহ করা এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দিক থেকে অবাধ্যতার মুখোমুখি হওয়ার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, প্রথম স্ত্রী রহিমার সংসারে দীর্ঘদিনেও কোনো সন্তান না হওয়ায় বংশরক্ষার তাগিদে এবং নিঃসন্তান জীবনের অতৃপ্তি থেকে মজিদ রহিমাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে কিশোরী জমিলাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে। তবে জমিলার কাছ থেকে সে আনুগত্যের বদলে অবাধ্যতা পায়, যা মজিদের আত্মবিশ্বাসকে নাড়িয়ে দেয়।
উদ্দীপকের কাজল সাহেবও সন্তান লাভের আশায় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে। পরবর্তীতে সন্তান না হওয়ায় সে পীরের শরণাপন্ন হয় এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছ থেকে বাধার সম্মুখীন হয়ে দোদুল্যমানতায় পড়ে। মজিদও জমিলার আচরণে মানসিক সংকটে পড়েছিল। ফলে সন্তানলাভের জন্য প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পুনর্বিবাহ এবং পরবর্তীকালে দ্বিতীয় স্ত্রীর দ্বারা সৃষ্ট সংকটে পড়ার ক্ষেত্রে কাজল ও মজিদ পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের বক্তব্য 'লালসালু' উপন্যাসের খণ্ডাংশ মাত্র"—উক্তিটি যথার্থ। কারণ উদ্দীপকে কেবল সন্তানাকাঙ্ক্ষায় বহুবিবাহ ও স্ত্রীর বিরোধিতার দিকটি এসেছে, যা উপন্যাসের বিশাল কাহিনীর ক্ষুদ্র একটি অংশ।
'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি কালজয়ী উপন্যাস, যাতে গ্রামীণ সমাজের ধর্মান্ধতা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার এবং ধর্মকে পুঁজি করে কায়েমী স্বার্থান্বেষী মজিদের শোষণ ও প্রতারণার সামগ্রিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। মজিদ কীভাবে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বানিয়ে একটি পুরো জনপদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে—তা-ই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। উপন্যাসের শেষভাগে মজিদের বংশরক্ষার লালসা ও মানবিক দুর্বলতার অংশ হিসেবে জমিলার আগমন ঘটে।
উদ্দীপকে কেবল কাজল সাহেবের সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষা, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর অবাধ্যতার পারিবারিক সংকটটি তুলে ধরা হয়েছে। এতে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় ভাব—ধর্মব্যবসা, সামন্তবাদী শোষণ, ভীতি প্রদর্শন এবং গ্রামীণ মানুষের ওপর মানসিক শৃঙ্খল চাপানোর দিকগুলো সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
অতএব, উদ্দীপকটি মজিদ ও জমিলার মধ্যকার সম্পর্কের সংকটের আংশিক মিল নির্দেশ করলেও উপন্যাসের বহুমাত্রিক সামাজিক ও ধর্মীয় শোষণের চিত্র এতে প্রতিফলিত হয়নি। সুতরাং উদ্দীপকের বক্তব্য উপন্যাসের একটি ক্ষুদ্র খণ্ডাংশ মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও