জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
পঙ্গপালের দর্শন অঙ্গ কতগুলো এককের সমন্বয়ে গঠিত। আলোর তারতম্যের কারণে এদের দর্শন কৌশলও আলাদা হয়ে থাকে।
- ক)(1)
মিক্সোসিল কী?
- খ)(2)
ঘাসফড়িং এ ডায়াপজ কেন ঘটে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির দর্শন এককের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষোক্ত বাক্যটি—বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের সময় সিলম ও ব্লাস্টোসিল একত্রিত হয়ে যে রক্তপূর্ণ দেহগহ্বর সৃষ্টি করে, তাকে মিক্সোসিল (myxocoel) বলে। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহগহ্বর মিক্সোসিল প্রকৃতির।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিকূল পরিবেশীয় অবস্থায় (যেমন অতিরিক্ত শীত বা খাদ্যাভাব) ঘাসফড়িংয়ের ভ্রূণের বৃদ্ধি ও বিকাশ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে। ভ্রূণীয় বিকাশের এই দীর্ঘস্থায়ী সুপ্তাবস্থাকে ডায়াপজ (diapause) বলে।
মূলত শীতকালে নিম্ন তাপমাত্রা ও প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এবং অনুকূল পরিবেশ (যেমন বসন্তকাল) আসা পর্যন্ত বেঁচে থাকার অভিযোজনিক কৌশল হিসেবে ঘাসফড়িংয়ে ডায়াপজ ঘটে। এর ফলে বসন্তে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ডিম ফুটে নিম্ফ বের হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো পঙ্গপাল (ঘাসফড়িং)। এর দর্শন অঙ্গ অর্থাৎ পুঞ্জাক্ষির গঠন ও কাজের একক হলো ওমাটিডিয়াম (ommatidium)।
নিচে ওমাটিডিয়ামের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র আঁকার নির্দেশনা ও অংশগুলো উল্লেখ করা হলো:
[পরীক্ষায় ওমাটিডিয়ামের একটি পরিষ্কার লম্বচ্ছেদের চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করতে হবে:]
১. কর্নিয়া (Cornea): সর্ববহিঃস্থ উত্তল স্বচ্ছ কিউটিকল স্তর।
২. কর্নিয়াজেন কোষ (Corneagen cells): কর্নিয়ার নিচে অবস্থিত একজোড়া কোষ যা কর্নিয়া ক্ষরণ করে।
৩. ক্রিস্টালাইন কোন কোষ (Crystalline cone cells): কর্নিয়াজেন কোষের নিচে অবস্থিত চারটি দীর্ঘ কোষ।
৪. ক্রিস্টালাইন কোন (Crystalline cone): কোন কোষগুলো দ্বারা পরিবেষ্টিত স্বচ্ছ ও প্রতিসরণশীল অঙ্গ।
৫. আইরিস পিগমেন্ট আবরণী (Iris pigment sheath): ক্রিস্টালাইন কোনের চারপাশ ঘিরে থাকা রঞ্জক কোষের আবরণ।
৬. রেটিনুলার কোষ (Retinular cells): কোনের নিচে অবস্থিত ৭-৮টি দীর্ঘ কোষ।
৭. র্যাবডোম (Rhabdome): রেটিনুলার কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত আলো-সংবেদী অক্ষীয় দণ্ড।
৮. রেটিনাল পিগমেন্ট আবরণী (Retinal pigment sheath): রেটিনুলার কোষের চারপাশে অবস্থিত রঞ্জক আবরণী।
৯. ভিত্তি পর্দা (Basement membrane): সর্বনিম্নের পাতলা পর্দা যার ওপর ওমাটিডিয়াম স্থাপিত।
১০. স্নায়ুতন্তু (Nerve fibres): রেটিনুলার কোষ থেকে সৃষ্ট অপটিক স্নায়ুর তন্তু। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটি হলো— "আলোর তারতম্যের কারণে এদের দর্শন কৌশলও আলাদা হয়ে থাকে।" উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। পঙ্গপাল তথা ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষিতে আলোর তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে দুই ধরনের প্রতিবিম্ব গঠিত হয়:
১. উজ্জ্বল আলোতে অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব (Apposition or Mosaic Image):
তীব্র বা উজ্জ্বল আলোতে ওমাটিডিয়ামের আইরিস ও রেটিনাল পিগমেন্ট আবরণীগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রসারিত হয়ে পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামগুলোকে পরস্পরের থেকে পৃথক করে ফেলে। এর ফলে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামে কেবল তার কর্নিয়া বরাবর লম্বভাবে আপতিত আলোকরশ্মিই র্যাবডোমে পৌঁছাতে পারে; কোনো তির্যক আলো পাশের ওমাটিডিয়ামে প্রবেশ করতে পারে না বা পিগমেন্ট দ্বারা শোষিত হয়। ফলে বস্তুর ভিন্ন ভিন্ন অংশের আলাদা আলাদা ক্ষুদ্র প্রতিবিম্ব প্রতিটি ওমাটিডিয়ামে তৈরি হয়ে সামগ্রিকভাবে একটি খণ্ড খণ্ড স্পষ্ট কিন্তু মোজাইক আকৃতির প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। একে অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্ব বলে।২. স্তিমিত বা মৃদু আলোতে সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব (Superposition Image):
অন্ধকারে বা ক্ষীণ আলোতে পিগমেন্ট আবরণীগুলোর রঞ্জক কণাগুলো সংকুচিত হয়ে ওমাটিডিয়ামের অগ্র ও পশ্চাৎ প্রান্তে গুটিয়ে যায়। এর ফলে মধ্যবর্তী স্থান উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় লম্বালম্বিভাবে আসা রশ্মির পাশাপাশি বিভিন্ন কোণ থেকে তির্যকভাবে আপতিত আলোকরশ্মিও পিগমেন্ট দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে পাশের একাধিক ওমাটিডিয়ামের র্যাবডোমে আপতিত হয়। ফলে একটি ওমাটিডিয়ামে সৃষ্ট প্রতিবিম্বের ওপর অন্য ওমাটিডিয়ামের প্রতিবিম্ব উপরিপাতিত বা ওভারল্যাপ (superimposed) হয়। এতে একটি অস্পষ্ট ও ঝাপসা কিন্তু অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল সামগ্রিক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।সুতরাং, আলোর তীব্রতার তারতম্যের ওপর নির্ভর করেই ঘাসফড়িংয়ের দৃষ্টির এই কৌশল পরিবর্তিত হয়, যা এদের অভিযোজনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও