ইসলাম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

সালমান একজন জ্ঞানী ব্যক্তি। একদা তার এলাকায় একটি খেলার মাঠকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেধে যাওয়ার উপক্রম হলে তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়ে অনিবার্য সংঘর্ষ থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষা করেন। পরবর্তীতে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আর তার বড়ভাই সোহানুর একজন ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ। তার কাছে দেশের মানুষ বিভিন্ন ইসলামি প্রশ্নের সমাধান গ্রহণ করেন। তাই তিনি সব সময় ইসলামি প্রশ্নোত্তর বিষয়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বক্তব্য প্রদান করে ইসলামের খেদমত করেন।

  1. ক)

    মদিনার সনদ কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রাক ইসলামি যুগে আরবের সামাজিক অবস্থা কেমন ছিল? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    সালমানের ভূমিকায় মহানবি (স.) এর জীবনাদর্শের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব সোহানুরের কর্মকাণ্ড কোন মনীষীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা চিহ্নিতপূর্বক ইসলামি আইন শাস্ত্রে তাঁর অবদান বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মদিনার সনদ হলো হিজরতের পর মহানবি (স.) মদিনায় মুসলমান, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য যে লিখিত চুক্তি বা সংবিধান প্রণয়ন করেন।

  2. খ)

    প্রাক-ইসলামি যুগকে আইয়ামে জাহিলিয়া বা অজ্ঞতার যুগ বলা হয়। সে সময়ের আরব সমাজে নানা অনাচার ছিল:
    ১. গোত্রে গোত্রে যুদ্ধবিগ্রহ ও রক্তপাত লেগেই থাকত।
    ২. মদ, জুয়া, সুদ ও লুটতরাজ প্রচলিত ছিল।
    ৩. নারীর কোনো মর্যাদা ছিল না। কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।
    ৪. দাস-দাসীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চলত।

    এ অন্ধকার সমাজে ইসলাম আলো নিয়ে আসে।

  3. গ)

    সালমানের ভূমিকায় মহানবি (স.)-এর জীবনাদর্শের শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিবাদ মীমাংসা দিকটি ফুটে উঠেছে।

    ব্যাখ্যা:
    ১. কাবা ঘর পুনর্নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদ স্থাপনকে কেন্দ্র করে কুরাইশ গোত্রগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের উপক্রম হয়েছিল।
    ২. মহানবি (স.) একটি চাদরে পাথরটি রেখে সব গোত্রের প্রধানদের চাদরের কোণা ধরে তুলতে বললেন। এরপর নিজ হাতে পাথরটি স্থাপন করলেন। এভাবে সবাই সম্মান পেল।
    ৩. সালমানও খেলার মাঠ নিয়ে সংঘর্ষের উপক্রম হলে বুদ্ধিমত্তার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়েছেন।

    অতএব, সালমানের কাজে মহানবি (স.)-এর বুদ্ধিমত্তা ও শান্তিপ্রিয়তার আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    জনাব সোহানুরের কর্মকাণ্ড ইসলামি আইনশাস্ত্রের ইমাম ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনিও মানুষের প্রশ্নের শরয়ি সমাধান দিতেন।

    ইসলামি আইনশাস্ত্রে অবদান:
    ১. ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর প্রকৃত নাম নুমান ইবনে সাবিত। তিনি ৮০ হিজরিতে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে ইমামে আযম বলা হয়।
    ২. তিনি কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের ভিত্তিতে ফিকহ সংকলন করেন। তাঁর অনুসারীদের হানাফি বলা হয়।
    ৩. তিনি শিষ্যদের নিয়ে পরামর্শভিত্তিক আইন প্রণয়নের ধারা চালু করেন। তাঁর শিষ্যদের মধ্যে আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিখ্যাত।

    সুতরাং, ইসলামি আইনশাস্ত্র বিকাশে ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর অবদান অসামান্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন