উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
ঢাকায় অনুষ্ঠিত অর্থনীতি বিষয়ক একটি সেমিনারে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জনাব সিয়াম মাহমুদ দুটি দেশের অর্থনীতি বিষয়ক কিছু তথ্য উপস্থাপন করেন। তথ্যাবলি নিম্নরূপ-
উপাদান | P দেশ | Q দেশ
জনসংখ্যা (কোটি) | ১৭ | ১৫
আর্থিক জাতীয় আয় (কোটি ডলার) | ১০,০০০ | ৮,৬০০
দাম সূচক | ১৫০ | ১৪০
- ক)(1)
হস্তান্তর পাওনা কী?
- খ)(2)
"জাতীয় আয় জীবনযাত্রার মান নির্দেশক"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্য হতে P দেশের মাথাপিছু আয় নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে দেশ দুইটির মধ্যে কোনটি উন্নত? মাথাপিছু আয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো প্রকার উৎপাদনমূলক কাজে অবদান না রেখে সরকার বা সমাজ থেকে যে অর্থ আয় হিসেবে পাওয়া যায়, তাকে হস্তান্তর পাওনা বা হস্তান্তর আয় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং তারা অধিক ভোগ ও সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে পারে বলে জাতীয় আয়কে জীবনযাত্রার মান নির্দেশক বলা হয়।
সাধারণত একটি দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়। ফলে জনগণ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদনের পেছনে অধিক অর্থ ব্যয় করতে সক্ষম হয়। তবে এটি প্রকৃত জীবনযাত্রার মান নির্দেশ করতে হলে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা এবং আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে, উচ্চ জাতীয় আয় উন্নততর জীবনযাত্রার নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্য হতে P দেশের মাথাপিছু আয় নির্ণয় করা হলো:
আমরা জানি,
মাথাপিছু আর্থিক আয় = মোট আর্থিক জাতীয় আয় / মোট জনসংখ্যাউদ্দীপক অনুসারে, P দেশের:
মোট আর্থিক জাতীয় আয় = ১০,০০০ কোটি ডলার
মোট জনসংখ্যা = ১৭ কোটিসুতরাং, P দেশের মাথাপিছু আর্থিক আয় = ১০,০০০ / ১৭ ডলার
= ৫৮৮.২৪ ডলার (প্রায়)যদি প্রকৃত মাথাপিছু আয় নির্ণয় করতে হয়:
P দেশের প্রকৃত জাতীয় আয় = (আর্থিক জাতীয় আয় / দাম সূচক) × ১০০
= (১০,০০০ / ১৫০) × ১০০
= ৬,৬৬৬.৬৭ কোটি ডলারঅতএব, P দেশের প্রকৃত মাথাপিছু আয় = ৬,৬৬৬.৬৭ / ১৭ = ৩৯২.১৬ ডলার (প্রায়)।
সুতরাং, P দেশের মাথাপিছু আর্থিক আয় ৫৮৮.২৪ ডলার এবং প্রকৃত মাথাপিছু আয় ৩৯২.১৬ ডলার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের P ও Q দেশ দুইটির মধ্যে মাথাপিছু আয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে P দেশ অপেক্ষা Q দেশ অধিক উন্নত। নিম্নে উত্তরের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো:
যেকোনো দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনযাত্রার মান কেবল আর্থিক আয়ের ওপর নির্ভর করে না, বরং দাম স্তর সমন্বয় করে প্রকৃত আয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
'ga' থেকে পাই,
P দেশের আর্থিক মাথাপিছু আয় = ১০,০০০ / ১৭ = ৫৮৮.২৪ ডলার
P দেশের প্রকৃত মাথাপিছু আয় = (১০,০০০ / ১৫০ × ১০০) / ১৭ = ৩৯২.১৬ ডলারএকইভাবে Q দেশের ক্ষেত্রে:
আর্থিক মাথাপিছু আয় = মোট আর্থিক জাতীয় আয় / মোট জনসংখ্যা
= ৮,৬০০ কোটি ডলার / ১৫ কোটি
= ৫৭৩.৩৩ ডলারQ দেশের প্রকৃত জাতীয় আয় = (আর্থিক জাতীয় আয় / দাম সূচক) × ১০০
= (৮,৬০০ / ১৪০) × ১০০
= ৬,১৪২.৮৬ কোটি ডলারঅতএব, Q দেশের প্রকৃত মাথাপিছু আয় = ৬,১৪২.৮৬ / ১৫ = ৪০৯.৫২ ডলার
তুলনা ও বিশ্লেষণ:
১. আর্থিক মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে P দেশ (৫৮৮.২৪ ডলার), Q দেশ (৫৭৩.৩৩ ডলার) থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও তা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির (মুদ্রাস্ফীতির) প্রভাবমুক্ত নয়। কারণ P দেশের দাম সূচক (১৫০) Q দেশের দাম সূচক (১৪০) অপেক্ষা বেশি।
২. প্রকৃত মাথাপিছু আয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, Q দেশের প্রকৃত মাথাপিছু আয় (৪০৯.৫২ ডলার) P দেশের প্রকৃত মাথাপিছু আয় (৩৯২.১৬ ডলার) অপেক্ষা বেশি। প্রকৃত মাথাপিছু আয়ই ভোক্তার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ও প্রকৃত জীবনযাত্রার মান নির্দেশ করে।অতএব, মাথাপিছু প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে বিবেচনা করলে Q দেশ P দেশের তুলনায় অধিক উন্নত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও