ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
শিমুলতলী গ্রামের অতি দরিদ্র পরিবারে প্রীতমের জন্ম। তিনি তার ৫ ভাইয়ের মধ্য বড় খুব কষ্টে লেখাপড়া শেষ করে বিখ্যাত "N" কোম্পানিতে চাকুরি পায়। তার চাকুরির বয়স ১০ বছর। ভাল বেতন পান এবং পরিবারের সকলকে দেখাশোনা করেন। বর্তমানে তিনি বাড়ি করার কথা ভাবছেন। কোম্পানিতে নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং চিকিৎসা, পরিবহন ও ভবিষ্যত তহবিলের সুবিধা দেওয়া হয়। তারপরও প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মনে করেন এই প্রতিষ্ঠান তাদের নয় বরং তাদের দ্বারা অর্জিত আয়ের সবগুলোই মালিক পক্ষ পায়। এতে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করে।
- ক)(1)
প্রেষণা কী?
- খ)(2)
প্রেষণা-চক্র বলতে কী বুঝায়?
- গ)(3)
প্রীতম মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের কোন স্তরের কথা ভাবছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"N" কোম্পানিতে শ্রমিকের অসন্তোষ নিরসনের জন্য আর্থিক কোন উপাদান অনুসরণ করা যেতে পারে? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত ও স্বেচ্ছা-প্রণোদিত করার প্রক্রিয়াকে প্রেষণা (Motivation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের অভাববোধ থেকে শুরু করে তা পূরণের মাধ্যমে সন্তুষ্টি লাভ এবং পুনরায় নতুন অভাবের সৃষ্টি হওয়ার চক্রাকার প্রক্রিয়াকে প্রেষণা-চক্র বলে।
প্রেষণা-চক্র একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রথমে মানুষের মনে কোনো বিষয়ে অভাব বা প্রয়োজনীয়তার সৃষ্টি হয়। এই অভাববোধ থেকে মানসিক উত্তেজনা বা তাড়নার জন্ম হয়, যা ব্যক্তিকে লক্ষ্যভিত্তিক আচরণে চালিত করে। ফলস্বরূপ অভাব পূরণ হয় এবং ব্যক্তি সন্তুষ্টি লাভ করে। তবে সন্তুষ্টি লাভের পর পুনরায় নতুন অভাবের জন্ম হয়, যার ফলে চক্রটি অবিরাম চলতে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রীতম আব্রাহাম মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের দ্বিতীয় স্তর তথা 'নিরাপত্তার চাহিদা'র (Safety needs) কথা ভাবছেন।
মনোবিজ্ঞানী আব্রাহাম মাসলো মানুষের চাহিদাকে পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন। মানুষের প্রাথমিক জৈবিক বা শারীরবৃত্তীয় চাহিদা পূরণ হলে দ্বিতীয় ধাপে নিরাপত্তার চাহিদা দেখা দেয়। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনকে অনিশ্চয়তা, বিপদ বা ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখা, চাকুরির নিরাপত্তা এবং নিজস্ব বাসস্থান নিশ্চিত করা হলো এই চাহিদার অন্তর্গত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান প্রীতম ১০ বছর যাবৎ ভালো বেতনের চাকরি করে পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়েছেন, যা তার শারীরবৃত্তীয় চাহিদা পূরণকে নির্দেশ করে। বর্তমানে তিনি একটি নিজস্ব স্থায়ী বাড়ি তৈরির কথা ভাবছেন, যা ভবিষ্যৎ জীবনের নিশ্চয়তা ও আশ্রয়ের নিরাপত্তা প্রদান করে। সুতরাং, মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুযায়ী প্রীতম নিরাপত্তার স্তরের চাহিদার কথা ভাবছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'N' কোম্পানিতে শ্রমিকদের অসন্তোষ নিরসনের জন্য আর্থিক উপাদান হিসেবে 'মুনাফার অংশ' (Profit Sharing) প্রদান অথবা 'মালিকানা/শেয়ারের সুযোগ' নিশ্চিত করা যেতে পারে।
প্রতিষ্ঠানের অর্জিত নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ যদি সরাসরি শ্রমিক-কর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হয়, তবে কর্মীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের ভাবার অনুভূতি জাগ্রত হয়। এছাড়া কর্মীদের মাঝে প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট শর্তে শেয়ার ক্রয়ের সুযোগ (Employee Stock Ownership Plan) দেওয়া হলে তাদের মধ্যে মালিকানাসুলভ মনোভাব তৈরি হয়।
উদ্দীপকের 'N' কোম্পানিতে নিয়মিত পদোন্নতি, চিকিৎসা, পরিবহন ও ভবিষ্যৎ তহবিলের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ রয়েছে। তাদের মূল ক্ষোভের কারণ হলো তারা বিশ্বাস করে যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নয় এবং তাদের পরিশ্রমে অর্জিত সমস্ত আয় কেবল মালিকপক্ষই ভোগ করে। এই মানসিক ব্যবধান দূর করতে হলে মুনাফায় কর্মীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এতে করে কর্মীরা বুঝতে পারবে যে কোম্পানির লাভ বৃদ্ধি পেলে তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধাও বৃদ্ধি পাবে।
অতএব, কর্মীদের অসন্তোষ দূর করে তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ববোধ ও একাত্মতা সৃষ্টি করতে আর্থিক উপাদান হিসেবে 'মুনাফার অংশ' প্রদান পদ্ধতি প্রবর্তন করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সমাধান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও