অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. রফিক একটি কারখানা পরিচালনা করেন। সেই কারখানাটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। এ শিল্পের নিয়োজিত শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই দরিদ্র ও অদক্ষ মহিলা। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ ভাগ এই শিল্প থেকে অর্জিত হয়। নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বিশ্ব বাজারে এ শিল্পটি স্থান করে নিয়েছে।

  1. ক)

    ক্ষুদ্র শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    চামড়া শিল্পের অনুন্নতির কারণ কী?

    (2)
  3. গ)

    মি. রফিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটির ধরন কীরূপ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পটি বাংলাদেশের অধিক সম্ভাবনাময়ী শিল্প- ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনশীল খাতে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লাখ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা কিংবা যে প্রতিষ্ঠানে ৩১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, কাঁচামাল সংরক্ষণের দুর্বল ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পুঁজির স্বল্পতা এবং সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প প্রত্যাশিত মাত্রায় উন্নত হতে পারেনি। এছাড়া আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে না পারা এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে পরিবেশসম্মত আধুনিক ট্যানারি ব্যবস্থার সংকট এ শিল্পের অন্যতম প্রধান অন্তরায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. রফিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের (Ready-Made Garments - RMG) অন্তর্ভুক্ত, যা বৃহৎ ও রপ্তানিমুখী শিল্পের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

    উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে, প্রতিষ্ঠানটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী একটি শিল্প এবং মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। এছাড়া এর শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই দরিদ্র ও অদক্ষ নারী। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই বৈশিষ্ট্যগুলো তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ। তৈরি পোশাক শিল্পই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী খাত, যেখানে লাখ লাখ সুবিধাবঞ্চিত নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং যা দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে বিশ্ববাজারে স্থান করে নিয়েছে। অতএব, মি. রফিকের কারখানাটি তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত তৈরি পোশাক শিল্প নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্প।

    বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প শীর্ষস্থানীয়। দেশটির মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে এ শিল্প থেকে। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে, নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে এটি বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

    এ শিল্পের প্রধান সম্ভাবনাগুলো হলো:
    ১. সস্তা ও সহজলভ্য শ্রমশক্তি: বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ তরুণ ও নারী শ্রমশক্তি রয়েছে, যাদের সহজেই স্বল্প প্রশিক্ষণে এ শিল্পে কাজে লাগানো যায়।
    ২. নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন: এ খাতে প্রায় ৮০ ভাগ নারী শ্রমিক নিয়োজিত থাকায় গ্রামীণ অর্থনীতি এবং নারীর ক্ষমতায়নে এটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে।
    ৩. পশ্চাৎপদ সংযোগ শিল্প (Backward Linkage) সম্প্রসারণ: সুতা কাটা, ডাইং, বোতাম ও প্যাকেজিং শিল্পের ব্যাপক বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
    ৪. আন্তর্জাতিক চাহিদা: বৈশ্বিক বাজারে পরিবেশবান্ধব 'গ্রিন ফ্যাক্টরি' স্থাপন এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

    সুতরাং, উপযুক্ত অবকাঠামো, গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্পটি বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন