বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রতন ও রমন দুই বন্ধু বনের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিল। তারা এই মর্মে প্রতিজ্ঞা করে যে, কোনো বিপদ আসলে কেউ কাউকে ছেড়ে পালাবে না। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর তারা দেখতে পায় একটি ভালুক তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। দু'জনই ভীত হয়। রতন হঠাৎ লাফ দিয়ে গাছের উপরে ওঠে। রমন গাছে চড়তে জানে না। তাই মৃত মানুষের মতো মাটিতে শুয়ে পড়ে। হিংস্র ভালুকটি দৌড়ে এসে মাটিতে শুয়ে থাকা রমনের দেহটিকে নিরীক্ষণ করে অবশেষে মৃতদেহ ভেবে চলে যায়। রতন গাছ থেকে নেমে রমনের কাছে গিয়ে ভালুক তার কানে কানে কী বলে পেল তা জানতে চায়। রমন গম্ভীর স্বরে উত্তর দিলো। ভালুকটি বলেছে "বিপদের সময় যারা প্রতিমার কথা ভুলে যায়, অসহায় বন্ধুকে ত্যাগ করে, তারা কখনও ভালো মানুষ হয় না।” রতন লজ্জিত হয়। বিনয় স্বরে বলে, “বন্ধু, বন্ধুত্ব নয়, বুদ্ধি দিয়ে তুমি জিতেছ।”
- ক)(1)
"কাপুরুষ, বেইমান। জ্বলন্ত আগুনের মুখে বন্ধুদের ফেলে পালিয়ে যায়।” উক্তিটি কার?
- খ)(2)
"ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা। ”- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিশ্বাসভঙ্গের দিকটি কতটুকু উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে। তুলনামূলক আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রমনের পরিণতি এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সিরাজের পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন”———উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"কাপুরুষ, বেইমান। জ্বলন্ত আগুনের মুখে বন্ধুদের ফেলে পালিয়ে যায়।” উক্তিটি ফরাসি সেনাপতি সাঁফ্রের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা"—কথাটি নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের বীরত্ব প্রকাশের ভণ্ডামিকে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন।
কলকাতা (আলিনগর) বিজয়ের সময় নবাবের আক্রমণের মুখে ইংরেজ গভর্নর ড্রেক এবং তার অনুসারীরা কেল্লার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অন্য সহকর্মীদের বিপদে ফেলে গোপনে জাহাজে চড়ে পালিয়ে যান। ব্রিটিশরা নিজেদের পরাক্রমশালী 'সিংহ' বলে দাবি করলেও বিপদের সময় এই কাপুরুষোচিত পলায়নের ঘটনাটিকে নবাব চরম লজ্জাকর ও ভণ্ডামি হিসেবে চিহ্নিত করে উক্তিটি করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বিশ্বাসঘাতকতা এবং পারস্পরিক অঙ্গীকার ভঙ্গের যে নগ্ন চিত্র ফুটে উঠেছে, উদ্দীপকে রতনের আচরণের মধ্য দিয়ে তারই একটি সীমিত রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে রতন ও রমন বিপদের সময় একে অপরকে ছেড়ে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিল। কিন্তু ভালুকের উপস্থিতিতে রতন তার সেই প্রতিজ্ঞা ভেঙে অসহায় রমনকে ফেলে নিজের প্রাণ বাঁচাতে গাছে উঠে পড়ে। এটি সরাসরি অঙ্গীকার ভঙ্গ ও বন্ধুত্বের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও একইভাবে সেনাপতি মীর জাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ প্রমুখরা নবাবের অধীনে থেকেও তাঁর সাথে গভীর বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিশেষ করে মীর জাফর কোরআন স্পর্শ করে নবাবের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেও পলাশীর যুদ্ধে বেইমানি করে নবাব ও দেশের স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে সঁপে দেন। উদ্দীপকে রতনের বিশ্বাসভঙ্গের ব্যাপ্তি কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ের হলেও, তা নাটকের মীর জাফরের বিশ্বাসভঙ্গের মানসিকতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের রমনের পরিণতি এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সিরাজের পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন”—উক্তিটি সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রমন বন্ধু রতনের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হলেও উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে মৃতবৎ মাটিতে পড়ে থাকে। ফলে হিংস্র ভালুকটি তাকে আক্রমণ না করে চলে যায় এবং সে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায়। অর্থাৎ বিশ্বাসঘাতকতার মুখোমুখি হয়েও বুদ্ধিমত্তার জোরে রমন রক্ষা পায় এবং জয়ী হয়।
বিপরীতভাবে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর প্রধান সেনাপতি মীর জাফরসহ অমাত্যদের চরম ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসভঙ্গের শিকার হন। দেশপ্রেমিক হওয়া সত্ত্বেও নবাব তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করতে পারেননি। পলাশীর প্রান্তরে তাঁর বাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকে এবং নবাব পরাজিত হন। পরবর্তীতে তিনি বন্দি হন এবং ঘাতক মহম্মদী বেগের ছুরিকাঘাতে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাতবরণ করেন। নবাবের এই পরিণতি ছিল অত্যন্ত করুণ ও আত্মঘাতী, যা সমগ্র জাতির স্বাধীনতা হরণ করে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, রমন চরম বিশ্বাসভঙ্গের মুখে পড়েও বুদ্ধির সাহায্যে বেঁচে যেতে সক্ষম হয়, কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা বিশ্বাসঘাতকদের পরিকল্পিত চক্রান্ত থেকে প্রাণ বাঁচাতে পারেননি; তাঁর পরিণতি হয় করুণ মৃত্যু ও সিংহাসনচ্যুতি। তাই বলা যায়, উভয়ের পরিণতি সম্পূর্ণ বিপরীত ও ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও