অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মামুন সাহেব ডেনমার্কের নাগরিক। তিনি স্ব-পরিবারে ডেনমার্ক থেকে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছেন। তিনি পরিবারসহ ঢাকার আড়ং এ বাজার করতে এসে বিভিন্ন কুটির শিল্পের পণ্যসমূহ দেখে মুগ্ধ হন। পণ্যসমূহ দামে সস্তা কিন্তু আকর্ষণীয় ডিজাইনের। মামুন সাহেব জানতে পারে যারা এগুলো উৎপাদন করে তারা খুব গরিব এবং কষ্টে জীবনযাপন করে। এতে মামুন সাহেব অনেক কষ্ট অনুভব করেন।

  1. ক)

    শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃষির উন্নয়ন কীভাবে শিল্পের উন্নয়নে সহায়তা করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের উল্লিখিত শিল্পের সমস্যাসমূহ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের উল্লিখিত শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে।—বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কারখানায় বা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় যন্ত্রপাতি ও শ্রমের সাহায্যে প্রাথমিক দ্রব্য বা কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ব্যবহারোপযোগী চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করার অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষির উন্নয়ন শিল্পের কাঁচামালের যোগান নিশ্চিত করে এবং শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি করে। কৃষি খাতের উৎপাদন বাড়লে কৃষিভিত্তিক শিল্পসমূহ যেমন পাট, বস্ত্র, চিনি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজে পায়। এছাড়া কৃষকদের আয় বাড়লে শিল্পজাত পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং কৃষি থেকে উদ্বৃত্ত শ্রম শিল্প খাতে স্থানান্তরিত হয়ে শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটায়। এভাবে কৃষির উন্নয়ন শিল্পের উন্নয়নে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো 'কুটির শিল্প'। বাংলাদেশের কুটির শিল্প নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত, যা উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে।

    কুটির শিল্পের প্রধান সমস্যাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. মূলধনের অভাব: কুটির শিল্পের কারিগররা অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার মতো যথেষ্ট মূলধন তাদের থাকে না। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণপ্রাপ্তিও তাদের জন্য জটিল।
    ২. কাঁচামালের অভাব ও উচ্চমূল্য: সময়মতো উন্নত ও পরিমিত কাঁচামাল না পাওয়া এবং চড়া দামে তা সংগ্রহ করতে হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়।
    ৩. উপযুক্ত বিপণন ব্যবস্থার অভাব: মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে প্রান্তিক কারিগররা পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয় এবং দরিদ্রই থেকে যায়।
    ৪. আধুনিক প্রযুক্তির অভাব: সনাতন পদ্ধতিতে উৎপাদনের ফলে উৎপাদনশীলতা কম এবং পণ্যের ফিনিশিং আন্তর্জাতিক মানের হয় না।
    ৫. উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব: আধুনিক ডিজাইন ও দক্ষতার ঘাটতির কারণে এই শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কুটির শিল্পের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    বাংলাদেশের কুটির শিল্পের পণ্যসমূহ, যেমন—হস্তশিল্প, নকশিকাঁথা, জামদানি, তাঁতবস্ত্র, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, মাটির তৈরি তৈজসপত্র এবং পাটজাত সৌখিন পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ডেনমার্কের নাগরিক মামুন সাহেব ও তাঁর পরিবার আড়ং-এর কুটির শিল্পজাত আকর্ষণীয় ডিজাইনের পণ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে এ ধরনের পণ্যের বিশেষ কদর রয়েছে।

    কুটির শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দিকগুলো:
    ১. রপ্তানি বহুমুখীকরণ: তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে কুটির শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি বাড়ালে রপ্তানি ঝুড়ি বহুমুখী হবে।
    ২. ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বৈশ্বিক বাজার সৃষ্টি: আধুনিক ডিজাইন ও গুণগত মান নিশ্চিত করে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধি করা সম্ভব।
    ৩. আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন: বিদেশে নিয়মিত বাংলাদেশি কুটির পণ্যের প্রদর্শনী ও ই-কমার্সের বিস্তার ঘটিয়ে সরাসরি বৈদেশিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো যায়।

    সুতরাং, কুটির শিল্পের আধুনিকায়ন, কারিগরদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে বিপণন সংযোগ ঘটাতে পারলে এই খাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন