ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
'X' নামক একটি অঞ্চলের অধিবাসীরা তাদের স্বাধীনতার জন্য শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল। 'Y' নামক একটি শক্তিধর রাষ্ট্র 'X' এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে শাসকগোষ্ঠীকে সহায়তা করে। এ অবস্থায় 'Z' নামক অপর শক্তিধর রাষ্ট্র 'X' এর সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে। ফলে 'X' নামক অঞ্চলটি স্বাধীনতা লাভ করে।
- ক)(1)
বাংলাদেশ কবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে?
- খ)(2)
মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিরা কীভাবে অবদান রেখেছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে উক্ত রাষ্ট্রটির অবদান বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাঙালিরা বিভিন্ন দেশে তহবিল সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক জনমত গঠন এবং নিজ নিজ দেশের সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য করার মাধ্যমে অনন্য অবদান রেখেছিলেন।
তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাবেশ, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেন। এছাড়া বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে তহবিল সংগ্রহ করে মুজিবনগর সরকারকে পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রবাসী বাঙালিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা এবং বিশেষ করে তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নের (রাশিয়া) প্রত্যক্ষ ও ইতিবাচক ভূমিকাকে ইঙ্গিত করে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিশ্বরাজনীতিতে দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সরাসরি সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদান করে (উদ্দীপকের 'Y' রাষ্ট্র)। এ সংকটময় মুহূর্তে ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় এবং অপর পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়া (উদ্দীপকের 'Z' রাষ্ট্র) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে সরাসরি জোরালো ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' অঞ্চল হলো বাংলাদেশ, 'Y' হলো পাকিস্তানের সহায়তাকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং 'Z' হলো বাংলাদেশের মিত্র সোভিয়েত ইউনিয়ন, যার সমর্থনে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের (উদ্দীপকে নির্দেশিত 'Z' রাষ্ট্র) অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর।
প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসেই সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পদগোর্নি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে রক্তপাত ও গণহত্যা বন্ধ করে রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে পত্র দেন। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম বলিষ্ঠ কূটনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে, যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের বিজয় ঠেকিয়ে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষা করা। এ সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন নিরাপত্তা পরিষদে পরপর তিনবার ঐতিহাসিক 'ভেটো' ক্ষমতা প্রয়োগ করে মার্কিন প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। সোভিয়েত ভেটোর কারণেই মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় যৌথবাহিনীর চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়।
তৃতীয়ত, যুদ্ধের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে তাদের সপ্তম নৌবহর পাঠালে সোভিয়েত ইউনিয়ন পাল্টা পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত নৌবহর প্রেরণ করে মার্কিন হস্তক্ষেপ প্রতিহত করে। এছাড়া সোভিয়েত গণমাধ্যম বিশ্বের কাছে বাঙালির আত্মত্যাগের সঠিক চিত্র তুলে ধরে।
সুতরাং, কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় দিক থেকেই তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের দৃঢ় সমর্থন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনে অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও