জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
সোহানের বাবা বাজার থেকে রুই মাছ নিয়ে আসলেন। মা মাছটি কাটার সময় সোহান ছোট বেলুনের মত একটি অংশ লক্ষ করল। আরও লক্ষ করল যে, হৃৎপিণ্ড থেকে কানকোর দিকে চার জোড়া রক্তনালি দুটি চিরুনীর মত অঙ্গে প্রবেশ করছে। তখন তাঁর মনে পড়ল স্যার ক্লাসে বলেছিলেন, "চিরুনীর মত এ অংশে গ্যাসের বিনিময় ঘটলেও হৃৎপিণ্ডে একই গ্যাসযুক্ত রক্ত প্রবেশ করে এবং বের হয়ে যায়।"
- ক)(1)
মেসোগ্লিয়া কী?
- খ)(2)
ভেনাস হার্ট বলতে কি বোঝ?
- গ)(3)
বেলুনের মতো অংশটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে রুই মাছের 'ভেনাস হূৎপিণ্ড' নামকরণের - সার্থকতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দেহপ্রাচীরের একটোডার্ম ও এন্ডোডার্মের (বা এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিস) মধ্যবর্তী অকোষীয় ও জেলির মতো স্তরকে মেসোগ্লিয়া বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে সর্বদা কেবল ডিঅক্সিজেনযুক্ত বা কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয়, তাকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলে। মাছের (যেমন রুই মাছ) হৃৎপিণ্ড কেবল CO₂ যুক্ত রক্ত সংবহন করে ফুলকায় পাঠায় বলে এদের হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সোহানের লক্ষ করা ছোট বেলুনের মতো অংশটি হলো রুই মাছের বায়ুথলি বা পটকা (Swim bladder)।
১. গঠন: এটি পরিপাকনালির পৃষ্ঠদেশ এবং মেরুদণ্ডের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত একটি পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট, চকচকে সাদা রঙের দ্বিপ্রকোষ্ঠী অঙ্গ। সম্মুখ প্রকোষ্ঠটি আকারে ছোট এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠটি তুলনামূলক বড়। উভয় প্রকোষ্ঠের মাঝখানে একটি গভীর খাঁজ বিদ্যমান। এর ভেতরের গহ্বর গ্যাসীয় পদার্থ (যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আর্গন) দ্বারা পূর্ণ থাকে। সম্মুখ প্রকোষ্ঠটি নিউমেটিক নালির মাধ্যমে খাদ্যনালির সাথে যুক্ত থাকে।
২. কাজ: এটি মাছকে পানিতে নির্দিষ্ট গভীরতায় স্থিরভাবে ভেসে থাকতে (প্লবতা রক্ষাকারী অঙ্গ হিসেবে) সাহায্য করে। এছাড়া এটি মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ, শ্বসন গ্যাস সঞ্চয় এবং পানির চাপ ও শব্দ সংবেদী অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'চিরুনীর মত অঙ্গ' হলো ফুলকা এবং এর সাথে সম্পর্কিত রুই মাছের হৃৎপিণ্ডকে 'ভেনাস হৃৎপিণ্ড' বলা হয়। নিচে এর নামকরণের সার্থকতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. একচক্রীয় রক্ত সংবহন: রুই মাছের হৃৎপিণ্ড একটি সাইনাস ভেনোসাস, একটি অলিন্দ ও একটি নিলয় নিয়ে গঠিত। এটি একচক্রীয় রক্ত সংবহন পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ প্রতি চক্রে হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে রক্ত একবারই প্রবাহিত হয়।
২. কেবলমাত্র CO₂ যুক্ত রক্ত পরিবহন: সারাদেহ থেকে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ (CO₂) বা ডিঅক্সিজেনযুক্ত রক্ত বিভিন্ন শিরার মাধ্যমে প্রথমে সাইনাস ভেনোসাসে আসে। সেখান থেকে রক্ত যথাক্রমে অলিন্দ ও নিলয়ে প্রবেশ করে এবং নিলয় থেকে বাল্বাস আর্টারিওসাস হয়ে বহির্বাহী ফুলকা ধমনির দিকে যায়।
৩. হৃৎপিণ্ডে O₂ যুক্ত রক্তের অনুপস্থিতি: হৃৎপিণ্ড থেকে CO₂ যুক্ত রক্ত ফুলকায় যায়, যেখানে চিরুনীর মতো গিল ফিলামেন্টে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে এবং রক্ত অক্সিজেনযুক্ত হয়। এই অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে না এসে সরাসরি পৃষ্ঠীয় মহাধমনির মাধ্যমে সারা দেহে পরিবাহিত হয়।
অতএব দেখা যায় যে, রুই মাছের হৃৎপিণ্ডে কখনোই অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবেশ করে না; এটি কেবলমাত্র কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত বা শিরার রক্ত পরিবহন করে। তাই রুই মাছের হৃৎপিণ্ডকে 'ভেনাস হৃৎপিণ্ড' বা 'শিরা হৃৎপিণ্ড' বলা সম্পূর্ণরূপে সার্থক ও বিজ্ঞানসম্মত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও