যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
একজন কৃষকের লিচু বাগানের সব চারাগাছ শুকিয়ে মরে গেছে। তার প্রতিবেশী বললেন, অশুভ শক্তির প্রভাবে এমনটি হয়েছে। কিন্তু একজন কৃষি কর্মকর্তা বাগান পরিদর্শন করেন। তিনি ধারণা করলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগের জন্য এমনটি হতে পারে। তিনি বাগানের মাটি গবেষণাগারে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। অবশেষে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের কারণে চারাগাছ মরে গেছে।
- ক)(1)
প্রতিবেদক অনুকল্প কাকে বলে?
- খ)(2)
প্রকল্প স্ববিরোধী হতে পারবে না কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রতিবেশীর বক্তব্য প্রকল্পের কোন শর্তকে ভঙ্গ করেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে কৃষি কর্মকর্তার কার্যক্রমে প্রকল্পের সবগুলো স্তর অনুসরণ করা হয়েছে- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রকল্পের অস্তিত্ব বাস্তব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত বা সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়, তাকে প্রতিবেদক অনুকল্প (বা বাস্তব কারণযুক্ত প্রকল্প) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকল্পকে স্ববিরোধী হওয়া চলবে না, কারণ একটি ধারণা যদি একই সাথে সত্য ও মিথ্যা বা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ধারণ করে, তবে তা যৌক্তিকভাবে অসম্ভব ও অর্থহীন হয়ে পড়ে। স্ববিরোধী ধারণা বাস্তব কোনো ঘটনার সঠিক কারণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না এবং তা যাচাইকরণ করাও সম্ভব নয়। তাই কোনো প্রকল্পের বৈধতা রক্ষার জন্য তাকে অবশ্যই আত্মবিরোধমুক্ত হতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রতিবেশীর বক্তব্য প্রকল্পের 'বাস্তব কারণভিত্তিক হওয়া' বা 'অলৌকিক বা অজ্ঞাত কারণ বর্জন করার' শর্তকে ভঙ্গ করেছে।
একটি বৈধ প্রকল্পের অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো গৃহীত প্রকল্পটি জ্ঞাত প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে এবং কোনো অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির কল্পনা করা যাবে না। প্রকল্পকে অবশ্যই বাস্তবসম্মত ও যাচাইযোগ্য হতে হবে।
উদ্দীপকে প্রতিবেশী বলেছেন যে, 'অশুভ শক্তির প্রভাবে' লিচুর চারাগাছগুলো মরে গেছে। এখানে 'অশুভ শক্তি' কোনো বাস্তব বা পর্যবেক্ষণযোগ্য কারণ নয়; এটি একটি কাল্পনিক ও অবৈজ্ঞানিক ধারণা। ফলে প্রতিবেশীর বক্তব্য প্রকল্পের বাস্তব কারণভিত্তিক ও পরীক্ষণযোগ্য হওয়ার শর্তটি সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কৃষি কর্মকর্তার কার্যক্রমে প্রকল্পের চারটি স্তরই সুশৃঙ্খলভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের চারটি স্তর হলো— ১. ঘটনা পর্যবেক্ষণ, ২. প্রাথমিক আনুমানিক ধারণা গঠন, ৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা নিগমন এবং ৪. যাচাইকরণ বা সমর্থন।
১. ঘটনা পর্যবেক্ষণ: কৃষি কর্মকর্তা প্রথমে বাগানে এসে চারাগাছ শুকিয়ে মরে যাওয়ার ঘটনাটি সরাসরি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন।
২. প্রাথমিক আনুমানিক ধারণা গঠন: পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তিনি একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করলেন যে, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগের জন্য এমনটি হতে পারে।
৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা নিগমন: তিনি ধরে নিলেন যে যদি অতিরিক্ত সারের কারণে এমন হয়, তবে মাটির উপাদানে তার রাসায়নিক অসঙ্গতি ধরা পড়বে।
৪. যাচাইকরণ: অবশেষে তিনি গবেষণাগারে মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং নিশ্চিত হন যে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের কারণেই চারাগাছগুলো মারা গেছে।সুতরাং দেখা যায়, কৃষি কর্মকর্তা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের নিয়ম মেনে প্রকল্পের সবগুলো স্তর যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও