যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
যুক্তি-১: সকল দার্শনিক হয় জ্ঞানী। সকল শিক্ষক হয় দার্শনিক। ∴ \therefore সকল শিক্ষক হয় জ্ঞানী। যুক্টি-২: কিছু শিক্ষক হয় সৎ। ∴ \therefore কিছু সৎ মানুষ হয় শিক্ষক। যুক্তি-৩: মুরগি হয় এমন যা থেকে ডিম আসে ডিম হয় এমন যা থেকে মুরগী আসে ∴ \therefore ডিম হয় এমন যা থেকে ডিম আসে।
- ক)(1)
অনুমান কী?
- খ)(2)
‘কিছু গোলাপ নয় লাল' যুক্তিবাক্যটির আবর্তিত প্রতিবর্তন করে দেখাও ।
- গ)(3)
যুক্তি-৩ এ সহানুমানের কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে— বুঝিয়ে লেখ ।
- ঘ)(4)
যুক্তি-১ এবং ২ যে দুটি অনুমান প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করেছে তাদের পার্থক্য দেখাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জানা বা জ্ঞাত সত্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো অজানা বা অজ্ঞাত সত্যে উপনীত হওয়ার মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কিছু গোলাপ নয় লাল' যুক্তিবাক্যটি একটি বিশেষ নঞর্থক (O) বাক্য। এর আবর্তিত প্রতিবর্তন রূপ নিচে দেখানো হলো:
১. প্রদত্ত যুক্তিবাক্য (O): কিছু গোলাপ নয় লাল।
২. এর প্রতিবর্তন (I): কিছু গোলাপ হয় অ-লাল (কারণ O বাক্যের প্রতিবর্তন করলে I বাক্য পাওয়া যায়)।
৩. প্রাপ্ত বাক্যের আবর্তন (I): কিছু অ-লাল বস্তু হয় গোলাপ (I বাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব)।
সুতরাং, 'কিছু গোলাপ নয় লাল' যুক্তিবাক্যটির আবর্তিত প্রতিবর্তন হলো: 'কিছু অ-লাল বস্তু হয় গোলাপ'। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তি-৩ এ সহানুমানের 'চক্রক যুক্তি অনুপপত্তি' বা 'আত্মাশ্রয়ী দোষ' (Fallacy of Petitio Principii / Circular Reasoning) এবং সহানুমানের ধারণাগত দৃষ্টিকোণ থেকে 'চারিপদঘটিত অনুপপত্তি' (Fallacy of Four Terms) এর মিশ্রণ ঘটেছে।
একটি আদর্শ নিরপেক্ষ সহানুমানে তিনটি এবং কেবল তিনটি পদ থাকতে হয়। যুক্তি-৩ লক্ষ্য করলে দেখা যায়:
প্রধান আশ্রয়বাক্য: মুরগি হয় এমন যা থেকে ডিম আসে
অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: ডিম হয় এমন যা থেকে মুরগী আসে
সিদ্ধান্ত: ডিম হয় এমন যা থেকে ডিম আসে।
এখানে যুক্তির সিদ্ধান্তটি কোনো নতুন সত্য প্রতিষ্ঠা করে না, বরং আশ্রয়বাক্যে যা প্রমাণ করতে চাওয়া হয়েছে তাকেই ঘুরিয়ে বলা হয়েছে। একই সাথে এখানে সুস্পষ্ট তিনটি পদের নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে এবং যুক্তিটি চক্রাকারে ঘুরপাক খেয়েছে। ফলে এটি চক্রক যুক্তি অনুপপত্তিতে (Begging the question / Circular argument) দুষ্ট হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের যুক্তি-১ নির্দেশ করেছে 'মাধ্যম অনুমান' (সহানুমান) এবং যুক্তি-২ নির্দেশ করেছে 'অমাধ্যম অনুমান' (আবর্তন)। এদের মধ্যকার পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলো:
১. আশ্রয়বাক্যের সংখ্যাগত পার্থক্য: অমাধ্যম অনুমানে (যুক্তি-২) একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় (যেমন: 'কিছু শিক্ষক হয় সৎ' থেকে সরাসরি 'কিছু সৎ মানুষ হয় শিক্ষক')। অন্যদিকে মাধ্যম অনুমানে (যুক্তি-১) একাধিক (দুটি) পরস্পর সংযুক্ত আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়।
২. মধ্যপদের উপস্থিতি: মাধ্যম অনুমানে দুটি আশ্রয়বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য একটি মধ্যপদ (যেমন: 'দার্শনিক') থাকে, যা সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থাকে। কিন্তু অমাধ্যম অনুমানে কোনো মধ্যপদ থাকে না; আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় সরাসরি সিদ্ধান্তে স্থানান্তরিত হয়।
৩. সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা: মাধ্যম অনুমানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের তুলনায় কম ব্যাপক বা সমব্যাপক হতে পারে, তবে তা দুটি ধারণার মেলবন্ধনে একটি নতুন যুক্তিসঙ্গত সম্পর্ক তৈরি করে। অমাধ্যম অনুমানে মূলত আশ্রয়বাক্যের বক্তব্যটিকেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়, নতুন কোনো সত্যের আবিষ্কার ঘটে না।
৪. চিন্তার জটিলতা: অমাধ্যম অনুমান একটি সরল মানসিক প্রক্রিয়া, কিন্তু মাধ্যম অনুমান তুলনামূলকভাবে জটিল ও ধারাবাহিক চিন্তা প্রক্রিয়া।
সুতরাং, যুক্তি-১ (মাধ্যম অনুমান) এবং যুক্তি-২ (অমাধ্যম অনুমান) অনুমানের দুটি ভিন্ন রূপ উপস্থাপন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও