জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
রজঃচক্র কি?
- খ)(2)
ইমপ্লান্টেশন বলতে কি বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের X প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট জনন কোষের গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
X ও Y সৃষ্ট জনন কোষ স্বাভাবিকভাবে মিলিত না হয়ে কৃত্তিম ভাবে গর্ভধারণ সম্ভব -উক্তিটির স্বপক্ষে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রে প্রতি ২৮ দিন পর পর হরমোনের প্রভাবে জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়াম স্তর ভেঙে রক্ত, মিউকাস ও অনিষিক্ত ডিম্বাণু যোনিপথ দিয়ে নির্গত হওয়ার চক্রাকার প্রক্রিয়াকে রজঃচক্র বা ঋতুচক্র (Menstrual cycle) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিষেক-পরবর্তী ব্লাস্টোসিস্টের মাতৃজরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে প্রোথিত বা সংযুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ইমপ্লান্টেশন (Implantation) বা গর্ভধারণ বলে।
সাধারণত নিষেকের ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে ব্লাস্টোসিস্টটি জরায়ুগাত্রে পৌঁছে ট্রফোব্লাস্ট স্তরের সাহায্যে জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে প্রোথিত হয়। এর মাধ্যমে ভ্রূণ মাতৃদেহ থেকে পুষ্টি ও অক্সিজেন গ্রহণ করে স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গ্যামেটোজেনেসিস-এর অন্তর্গত 'X' প্রক্রিয়াটি হলো স্পার্মাটোজেনেসিস এবং এর দ্বারা সৃষ্ট জননকোষটি হলো শুক্রাণু (Spermatozoon)।
একটি পরিণত মানব শুক্রাণুর গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:
একটি পরিণত শুক্রাণু আণুবীক্ষণিক ও সচল। এটি প্রধানত চারটি অংশে বিভক্ত—
১. মস্তক (Head): এটি শুক্রাণুর অগ্রভাগের স্ফীত ও চ্যাপ্টা অংশ। এতে ঘনীভূত ক্রোমাটিনযুক্ত হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াস থাকে। নিউক্লিয়াসের অগ্রভাগে গলগি বস্তু থেকে তৈরি টুপির মতো 'অ্যাক্রোসোম' থাকে, যা নিষেকের সময় ডিম্বাণুর ঝিল্লি ভেদকারী এনজাইম (হায়ালুরোনিডেজ) ক্ষরণ করে।
২. গ্রীবা (Neck): মস্তকের ঠিক পেছনে অবস্থিত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অংশ। এতে দুটি সেন্ট্রিওল (প্রক্সিমাল ও ডিস্টাল সেন্ট্রিওল) থাকে।
৩. মধ্যখণ্ড (Middle piece): গ্রীবার পরবর্তী অংশ যা বেশ পুরু। এর কেন্দ্রভাগে অক্ষীয় সূত্রক থাকে এবং তাকে পেঁচিয়ে সর্পিল আকারে অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া বিন্যস্ত থাকে। একে মাইটোকন্ড্রিয়াল স্পাইরাল বা নেবেনকার্ন (Nebenkern) বলে, যা শুক্রাণুর চলনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।
৪. লেজ (Tail): এটি শুক্রাণুর দীর্ঘতম, সরু ও চাবুকের মতো চলনক্ষম অংশ। এটি একটি অক্ষীয় সূত্রক ও কোষরসীয় আবরণী নিয়ে গঠিত। লেজের সঞ্চালনের মাধ্যমেই শুক্রাণু তরল মাধ্যমে সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর দিকে অগ্রসর হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'X' প্রক্রিয়া (স্পার্মাটোজেনেসিস) দ্বারা সৃষ্ট জননকোষ হলো শুক্রাণু এবং 'Y' প্রক্রিয়া (উওজেনেসিস) দ্বারা সৃষ্ট জননকোষ হলো ডিম্বাণু। স্বাভাবিকভাবে এদের মিলন (নিষেক) না ঘটলেও কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণ সম্ভব—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। নিচে এর সপক্ষে মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি (ART): মানবদেহের বিভিন্ন শারীরিক বা শারীরবৃত্তীয় জটিলতার (যেমন: ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ থাকা, শুক্রাণুর স্বল্পতা বা দুর্বল গতিশীলতা, ওভিউলেশনে সমস্যা ইত্যাদি) কারণে স্বাভাবিকভাবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন সম্ভব না হলে 'সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি' (Assisted Reproductive Technology - ART) ব্যবহার করা হয়।
২. ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) বা টেস্টটিউব পদ্ধতি: কৃত্রিম গর্ভধারণের সবচেয়ে বহুল প্রচলিত পদ্ধতি হলো IVF। এই পদ্ধতিতে মায়ের ডিম্বাশয় থেকে হরমোন উদ্দীপনার মাধ্যমে পরিপক্ব ডিম্বাণু এবং বাবার দেহ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়। পরে ল্যাবরেটরিতে নিয়ন্ত্রিত ও অনুকূল পরিবেশে টেস্টটিউব বা কালচার ডিশে এদের মিলন ঘটিয়ে নিষেক সম্পন্ন করা হয়।
৩. ভ্রূণ প্রতিস্থাপন (Embryo Transfer): নিষেকের ফলে গঠিত জাইগোটকে বিভাজিত হতে দেওয়া হয়। জাইগোটটি ক্লিভেজের মাধ্যমে ব্লাস্টোসিস্ট পর্যায়ে পৌঁছালে তা সতর্কতার সাথে মায়ের (বা সারোগেট মায়ের) জরায়ুতে প্রতিস্থাপন বা ইমপ্লান্টেশন করা হয়। সেখানে ভ্রূণটি স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ শিশুর জন্ম দেয়।
৪. বিশেষ পদ্ধতিসমূহ: শুক্রাণুর সংখ্যা অত্যন্ত কম হলে ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন (ICSI) প্রযুক্তির মাধ্যমে একটিমাত্র শুক্রাণুকে সরাসরি ডিম্বাণুর সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করিয়ে কৃত্রিমভাবে নিষেক নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (IUI)-এর মাধ্যমেও গর্ভধারণ করানো সম্ভব।
অতএব, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের টেস্টটিউব বেবি (IVF) প্রযুক্তির কারণে স্বাভাবিক যৌন মিলন বা স্বাভাবিক নিষেক ছাড়াই কৃত্রিমভাবে গর্ভধারণ সম্ভব, যা বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও