ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
রামিন একজন সফল উদ্যোক্তা। প্রযুক্তি একদিন আগামী বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করবে তিনি অনেক আগেই ধারণা করেছেন। ফলে বেশ বড় অঙ্কের বিনিয়োগে তিনি একটি ICT ফার্ম স্থাপন করেন। বর্তমানে প্রচুর তরুণ যুবক তার ফার্মে কাজ করছে। সফটওয়্যার রপ্তানির জন্য প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর শ্রেষ্ঠ রপ্তানিকারকের পুরস্কার পায়।
- ক)(1)
উদ্যোক্তার সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্যোক্তার কোন বিশেষ গুণটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'দেশের অর্থনীতিতে রামিনের অবদান গুরুত্বপূর্ণ'— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা জেনেও যিনি নতুন কোনো ব্যবসায় ধারণা চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়নের জন্য সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণ ও পরিচালনা করেন, তাকে উদ্যোক্তা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিজস্ব পুঁজি, মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের উদ্যোগে জীবিকা অর্জনের উপায় বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
অন্যের অধীনে চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজে ছোটখাটো কোনো কাজ বা ব্যবসায় শুরু করে নিজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। যেমন—দোকান পরিচালনা, হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন, ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদি আত্মকর্মসংস্থানের উদাহরণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উদ্যোক্তা রামিনের 'দূরদর্শিতা' (Foresight/Vision) নামক বিশেষ গুণটি ফুটে উঠেছে।
দূরদর্শিতা হলো ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঘটনা, পরিবর্তন, চাহিদা ও সুযোগ বর্তমান সময়ে অনুমান বা উপলব্ধি করার মানসিক ক্ষমতা। একজন সফল উদ্যোক্তা কেবল বর্তমান নিয়ে ভাবেন না; তিনি দূরদৃষ্টির মাধ্যমে আগামীর সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রামিন অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন যে প্রযুক্তি একদিন বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করবে। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের এই সম্ভাবনা তিনি বহু আগেই অনুমান করতে পেরেছিলেন বলেই বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে একটি আইসিটি ফার্ম স্থাপন করেন। ভবিষ্যতের প্রয়োজন ও সম্ভাবনাকে আগে থেকেই আঁচ করতে পারা উদ্যোক্তার দূরদর্শিতা গুণকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দেশের অর্থনীতিতে রামিনের অবদান গুরুত্বপূর্ণ'—উক্তিটি যথার্থ।
যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের অবদান অপরিসীম। তাঁরা পুঁজি গঠন, প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
উদ্দীপক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রামিন একটি আধুনিক আইসিটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী অবদান রাখছেন:
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: রামিনের ফার্মে বিপুলসংখ্যক তরুণ ও যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের বেকারত্ব হ্রাস ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করছে।
২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: সফটওয়্যার রপ্তানি করে রামিনের প্রতিষ্ঠান 'শ্রেষ্ঠ রপ্তানিকারকের' পুরস্কার অর্জন করেছে। সফটওয়্যার রপ্তানির ফলে দেশ প্রচুর মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাণিজ্য ভারসাম্যকে শক্তিশালী করে।
৩. নতুন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ: একটি উদীয়মান আধুনিক খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভিত মজবুত করেছেন, যা দেশের প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।সুতরাং, বেকারত্ব দূরীকরণ, যুবশক্তির সদ্ব্যবহার এবং সফটওয়্যার রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে অনন্য ভূমিকা রাখার কারণে দেশের অর্থনীতিতে রামিনের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও