যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
নববিবাহিত রহিমা স্বামীর বাড়ি এসে এলোমেলো প্রলাপ বকতে থাকে। এ অবস্থা দেখে রহিমার শাশুড়ি বললো, রহিমাকে ভূতে ধরেছে। তাকে ওঝা দেখাতে হবে। কিছু সময় পর রহিমার জ্বর এলে রহিমার শ্বশুর বললো, তাকে আইসক্রিম খাওয়ালে জ্বর সেরে যাবে। কিন্তু রহিমার স্বামী রহিমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার রহিমাকে দেখে জ্বরের ওষুধ দিল।
- ক)(1)
প্রকল্প বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
প্রকল্প প্রণয়ন করা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রহিমার শাশুড়ির বক্তব্যে প্রকল্পের কোন শর্তটি লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রহিমার শ্বশুরের বক্তব্য এবং রহিমার স্বামীর গৃহীত পদক্ষেপ দ্বারা বৈধ প্রকল্পের যে দিকগুলোর প্রকাশ পায় তার সুস্পষ্ট বিবরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ঘটনা বা বিষয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রাথমিক বা সাময়িকভাবে কোনো কাল্পনিক ধারণা বা অনুমান গঠন করাকে প্রকল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতির জটিল ও অজ্ঞাত ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ এবং নিয়ম উদঘাটনের উদ্দেশ্যে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের সূচনায় কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে আমাদের কোনো নিশ্চিত ধারণা থাকে না; তাই কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের জন্য প্রাথমিক ধারণা হিসেবে প্রকল্প গঠন করতে হয়, যা পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার পথকে নির্দেশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহিমার শাশুড়ির বক্তব্যে প্রকল্পের 'বাস্তবভিত্তিক বা প্রমাণযোগ্য হওয়ার শর্ত' এবং 'অলৌকিক বা অপ্রাকৃতিক না হওয়ার শর্ত' লঙ্ঘিত হয়েছে।
একটি বৈধ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, প্রকল্পটিকে হতে হবে বাস্তবভিত্তিক, স্পষ্ট এবং যাচাইযোগ্য। কোনো অলৌকিক বা অপ্রাকৃতিক কাল্পনিক বিষয়কে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যায় না, কারণ তা ইন্দ্রিয়গোচর নয় এবং পরীক্ষণযোগ্যও নয়।
রহিমার হঠাৎ প্রলাপ বকা দেখে তার শাশুড়ি অনুমান করেন যে, "রহিমাকে ভূতে ধরেছে।" 'ভূত' একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও অবাস্তব সত্তা, যার অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ করা বা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। ফলে রহিমার শাশুড়ির এই অনুমানটি প্রকল্পের আবশ্যকীয় শর্তকে লঙ্ঘন করে এবং এটি একটি অবৈধ বা অবাস্তব প্রকল্প হিসেবে গণ্য হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহিমার শ্বশুরের বক্তব্য একটি অবাস্তব বা স্ববিরোধী প্রকল্পের উদাহরণ হলেও রহিমার স্বামীর গৃহীত পদক্ষেপ বৈধ প্রকল্পের মূল শর্তাবলীকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
রহিমার শ্বশুরের বক্তব্য ছিল, "আইসক্রিম খাওয়ালে জ্বর সেরে যাবে।" বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি অযৌক্তিক ও অভিজ্ঞতাবিরোধী অনুমান, কারণ ঠাণ্ডা খাবার বা আইসক্রিম খেলে সাধারণত জ্বর বা সর্দি নিরাময় হয় না, বরং বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এই ধারণাটি একটি বৈধ প্রকল্পের শর্তপূরণে ব্যর্থ হয়।
পক্ষান্তরে, রহিমার স্বামী রহিমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় এবং ডাক্তার রোগ নির্ণয় করে ওষুধ প্রদান করেন। এখানে বৈধ প্রকল্পের নিম্নোক্ত দিকগুলো প্রকাশিত হয়েছে:
১. বাস্তবসম্মত ভিত্তি: অসুস্থতা কোনো অলৌকিক কারণে নয়, বরং শারীরিক রোগবালাইয়ের কারণে হয়—এই বাস্তবসম্মত অনুমানের ওপর ভিত্তি করে পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।
২. যাচাইযোগ্যতা ও প্রমাণযোগ্যতা: ডাক্তার রোগ পর্যবেক্ষণ করে এবং কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে ঔষধ প্রদান করেন, যা প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইযোগ্য।
৩. বিজ্ঞানসম্মত ও যৌক্তিক কার্যকারণ: রোগ হলে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমেই তা নিরাময় সম্ভব—এই বৈজ্ঞানিক নিয়মকে অনুসরণ করা হয়েছে।অতএব, শ্বশুরের বক্তব্য যেখানে কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর, সেখানে স্বামীর পদক্ষেপটি সম্পূর্ণভাবে অভিজ্ঞতানির্ভর, বাস্তবমুখী এবং বৈধ প্রকল্পের সকল শর্তকে পূরণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও