‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' সরকার: সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা।'খ' সরকার: এক জাতি, এক দল, এক নেতা।

  1. ক)

    নেতৃত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    NGO বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    ক' ও 'খ' সরকারের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    'ক' সরকারের সফলতার শর্তাবলি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নেতৃত্ব হলো এমন এক গুণ বা প্রক্রিয়া, যার সাহায্যে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্য ব্যক্তিদের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত ও পরিচালিত করতে পারেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    NGO এর পূর্ণরূপ হলো Non-Governmental Organization, যার অর্থ বেসরকারি সংস্থা। এটি একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। সমাজসেবা, মানবকল্যাণ, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং মানবাধিকার রক্ষার মতো নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি কিংবা স্বাধীনভাবে কাজ করাই এনজিওর প্রধান উদ্দেশ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' সরকার হলো গণতান্ত্রিক সরকার এবং 'খ' সরকার হলো একনায়কতান্ত্রিক সরকার।

    গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. দর্শনের ভিত্তি: গণতন্ত্র সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে, একনায়কতন্ত্র 'এক জাতি, এক দল, এক নেতা' এবং অন্ধ আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল।
    ২. সার্বভৌম ক্ষমতার অবস্থান: গণতন্ত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সরকারের কর্তৃত্ব জনগণের সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একনায়কতন্ত্রে যাবতীয় ক্ষমতা একজন শাসক বা নির্দিষ্ট দলের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।
    ৩. রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতা: গণতন্ত্রে বিরোধী দলের স্বীকৃতি, বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়। অপরদিকে একনায়কতন্ত্রে বিরোধী দল নিষিদ্ধ থাকে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা কঠোরভাবে দমন করা হয়।
    ৪. দায়িত্বশীলতা: গণতান্ত্রিক সরকার তাদের কাজের জন্য আইনসভা ও জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। কিন্তু একনায়কতান্ত্রিক সরকার কারও কাছে জবাবদিহি করে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত 'ক' সরকার হলো গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা। গণতন্ত্রের সফল বাস্তবায়ন বেশ কিছু অনুকূল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শর্তের ওপর নির্ভরশীল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক: গণতন্ত্রের সাফল্যের প্রধান শর্ত হলো সুশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক। শিক্ষিত জনগণ নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।
    ২. পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতা: গণতন্ত্রে পরমতসহিষ্ণুতা অত্যন্ত আবশ্যক। সংখ্যাগরিষ্ঠকে যেমন সংখ্যালঘুর মতামতকে সম্মান করতে হয়, তেমনি বিরোধীদেরও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হয়।
    ৩. আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: আইনের চোখে সবার সমতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ বজায় রাখা গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ।
    ৪. অর্থনৈতিক সমতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ: চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দারিদ্র্য বজায় থাকলে গণতন্ত্র স্থায়ী রূপ পেতে পারে না। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মৌলিক চাহিদার নিশ্চয়তা গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করে।
    ৫. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব: উপযুক্ত, দেশপ্রেমিক ও নিরপেক্ষ নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারে।
    ৬. স্বাধীন গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ: সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ সুশীল সমাজ সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

    পরিশেষে বলা যায়, উপর্যুক্ত শর্তাবলি যথাযথভাবে পূরণ হলেই গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা পূর্ণ সাফল্য লাভ করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন