ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
X ও Y দুজন দুটি ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত। x এর ব্যবসায়টি তার অনুপস্থিতিতে বিলোপ সাধিত হবে এ মর্মে গঠিত হয়েছে। কিন্তু Y এর ব্যবসায়ের অস্তিত্ব এভাবে বিপন্ন হবে না ।
- ক)(1)
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি কাকে বলে?
- খ)(2)
কোম্পানির নামের শেষে লিমিটেড শব্দ ব্যবহার করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ব্যবসায় সংগঠনের কোন বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দুটি ব্যবসায়ের মধ্যে কোন ব্যবসায়টি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখে বলে তোমার মনে হয়? দুটি ব্যবসায়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে যৌথ মূলধনী কোম্পানির সর্বনিম্ন সদস্যসংখ্যা ৭ জন ও সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং যার শেয়ার ও ঋণপত্র জনসাধারণের কাছে অবাধে বিক্রি করা যায় ও শেয়ার সহজে হস্তান্তরযোগ্য, তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেয়ারহোল্ডারদের দায় তাদের ক্রীত শেয়ারের মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ—তৃতীয় পক্ষকে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে অবগত করার জন্য কোম্পানির নামের শেষে 'লিমিটেড' শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
কোম্পানি আইনে গঠিত সীমিত দায়সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে কোনো সদস্যের দায় তার ক্রয়কৃত শেয়ারের অভিহিত মূল্যের অতিরিক্ত হয় না। ব্যবসায়ের পাওনাদার ও জনসাধারণের সুরক্ষার স্বার্থে নামের শেষে 'লিমিটেড' বা 'সংবিধিবদ্ধ সীমিত' শব্দটি যুক্ত করা আইনত বাধ্যতামূলক, যাতে লেনদেনকারীরা বুঝতে পারেন যে কোম্পানির আর্থিক দায় মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর বর্তাবে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ব্যবসায় সংগঠনের 'স্থায়িত্ব' বা 'চিরন্তন অস্তিত্ব' (Perpetual Succession) বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ব্যবসায় সংগঠনের ধরনের ওপর এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। একমালিকানা বা অংশীদারি ব্যবসায়ের কোনো পৃথক আইনগত সত্তা না থাকায় মালিকের মৃত্যু, দেউলিয়াত্ব বা অনুপস্থিতিতে ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটতে পারে। পক্ষান্তরে, যৌথ মূলধনী বা কোম্পানি ব্যবসায়ের কৃত্রিম আইনগত সত্তা ও চিরন্তন অস্তিত্ব থাকার কারণে মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের পরিবর্তন বা মৃত্যুতে ব্যবসায়ের অস্তিত্ব বিপন্ন হয় না।
উদ্দীপকে X-এর ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মালিকের অনুপস্থিতিতে ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটবে বলা হয়েছে, যা ক্ষণস্থায়ী বা পৃথক অস্তিত্বহীন ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য। অপরপক্ষে, Y-এর ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে এর অস্তিত্ব এভাবে বিপন্ন হবে না, যা কোম্পানির চিরন্তন অস্তিত্বের প্রতিফলন। সুতরাং, উদ্দীপকে ব্যবসায় সংগঠনের স্থায়িত্ব বা চিরন্তন অস্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি ব্যবসায়ের মধ্যে Y-এর ব্যবসায়টি (যৌথ মূলধনী কোম্পানি সংগঠন) অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখে বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে X-এর ব্যবসায়টি তার অনুপস্থিতিতেই বিলোপ সাধিত হবে, যা একমালিকানা বা সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের রূপ নির্দেশ করে। এসব ব্যবসায়ে মূলধনের স্বল্পতা থাকে, দায় অসীম এবং স্থায়িত্ব অনিশ্চিত। ফলে বৃহৎ শিল্পায়ন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বড় অবদান রাখতে পারে না।
অন্যদিকে, Y-এর ব্যবসায়টির চিরন্তন অস্তিত্ব বিদ্যমান, যা কোম্পানি সংগঠনের বৈশিষ্ট্য। কোম্পানি ব্যবসায়ের তুলনামূলক সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ:
১. বৃহৎ মূলধন সংগ্রহ: শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মূলধন গঠন করা যায়।
২. সীমিত দায় ও চিরন্তন স্থায়িত্ব: শেয়ারহোল্ডারদের দায় সীমিত এবং মালিকের পরিবর্তন বা মৃত্যুতে ব্যবসায় বন্ধ হয় না, ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকে।
৩. বৃহৎ আয়তন উৎপাদন ও প্রযুক্তি ব্যবহার: বিশাল মূলধনের কল্যাণে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৃহদায়তন উৎপাদন সম্ভব হয়, যা দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
৪. ব্যাপক কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধি: এটি বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং সরকারকে বিপুল অংকের রাজস্ব প্রদান করে।সুতরাং, সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে X-এর ক্ষণস্থায়ী ব্যবসায়ের তুলনায় Y-এর চিরন্তন অস্তিত্বসম্পন্ন যৌথ মূলধনী ব্যবসায় সংগঠনটি বহুগুণ বেশি কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও