বাংলা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.
(ক) জনজীবনের উপর বিজ্ঞাপনের প্রভাব সম্পর্কে দু'বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।অথবা,(খ) 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন' বিষয়ক একটি খুদেগল্প লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) এর উত্তর:
জনজীবনের উপর বিজ্ঞাপনের প্রভাব সম্পর্কে দুই বন্ধু সুজন ও নিহালের মধ্যে সংলাপ:
সুজন: কেমন আছিস নিহাল? কী করছিস এত মনোযোগ দিয়ে?
নিহাল: ভালো আছি সুজন। একটা নতুন মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপন দেখছিলাম। সত্যি বলতে, আজকাল বিজ্ঞাপনের প্রভাব আমাদের ওপর খুব বেশি পড়ছে।
সুজন: ঠিক বলেছিস। বর্তমান যুগে বিজ্ঞাপন ছাড়া যেন কোনো পণ্য বা সেবার অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না। জনজীবনে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের প্রভাবই রয়েছে।
নিহাল: হ্যাঁ, ইতিবাচক দিক হলো—বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমরা বাজারে নতুন আসা নানা রকম পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা সম্পর্কে সহজেই বিস্তারিত তথ্য জানতে পারি। কোনটা ভালো, কোনটা সুবিধাজনক তা তুলনা করা সম্ভব হয়।
সুজন: একদম সত্য। কিন্তু এর একটি অন্ধকার দিকও আছে। চটকদার ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের কারণে মানুষ প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বিজ্ঞাপনের অন্ধ অনুকরণে কৃত্রিম ও অতিরিক্ত ভোগবাদী হয়ে উঠছে।
নিহাল: তা ছাড়া ফর্সা হওয়ার ক্রিম বা অলৌকিক স্বাস্থ্য বৃদ্ধির মতো অনেক বিজ্ঞাপনে মিথ্যা ও অবাস্তব দাবি করা হয়, যা সাধারণ মানুষের অর্থ ও স্বাস্থ্য উভয়ই নষ্ট করে।
সুজন: সঠিক বলেছিস। তাই বলে তো বিজ্ঞাপন বন্ধ করা যাবে না। সমাধান হলো ভোক্তা হিসেবে আমাদের সচেতন হওয়া। বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাই করে তবেই পণ্য কেনা উচিত।
নিহাল: একমত। এছাড়া সরকারেরও উচিত প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও নজরদারি বাড়ানো।
সুজন: যথার্থ বলেছিস। চল, ক্লাসের সময় হয়ে গেল, ভেতরে যাই।
নিহাল: হ্যাঁ, চল।
অথবা,
(খ) এর উত্তর:
খুদেগল্প: সম্প্রীতির সুর
শান্তিপুর গ্রামটি তার নামের মতোই শান্ত ও স্নিগ্ধ। এই গ্রামের দুই প্রতিবেশী এবং বাল্যবন্ধু আব্দুর রহিম ও সনাতন চক্রবর্তী। দুজনের বাড়ি পাশাপাশি, মাঝখানে কেবল একটি খোলা আঙিনা। ধর্মবিশ্বাস আলাদা হলেও তাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসায় কোনো প্রাচীর ছিল না। রহিমের ঈদের আনন্দ সনাতনের বাড়িতে মিষ্টি ছাড়া পূর্ণ হতো না, তেমনি সনাতনের দুর্গাপূজার নাড়ু আর আনন্দ ভাগাভাগি না করে রহিমের দিন কাটত না।
একবার রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে পাশের শহরে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ল। কিছু সুযোগসন্ধানী কুচক্রী শান্তিপুর গ্রামের সম্প্রীতি নষ্ট করতে গুজব ছড়াতে শুরু করল। হঠাৎ এক রাতে সনাতন চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে কিছু অপরিচিত উশৃঙ্খল লোকের আনাগোনা ও হট্টগোল শোনা গেল। সনাতন ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ল।
শব্দ পেয়ে রহিম একা ঘরে বসে থাকতে পারল না। সে তার দুই ছেলে ও পাড়ার আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে নিয়ে সনাতনের বাড়ির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াল। রহিম উচ্চকণ্ঠে দুষ্কৃতকারীদের উদ্দেশে বলল, 'সনাতন আমার ভাই। তার ওপর আঘাত আসার আগে আমার বুকের ওপর দিয়ে যেতে হবে।' রহিমের দৃঢ়তা এবং গ্রামের সাধারণ মানুষদের দ্রুত এগিয়ে আসার সাহসিকতায় দুষ্কৃতকারীরা রাতের অন্ধকারে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেল।
সনাতন কাঁপা হাতে দরজা খুলে বের হয়ে রহিমকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল। রহিম সনাতনের পিঠে হাত রেখে বলল, 'মানুষের চেয়ে বড় কোনো পরিচয় নেই সনাতন। সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য, কোনো অন্ধ হিংসা একে ভাঙতে পারবে না।' শান্তিপুর গ্রামে সেদিন ভালোবাসার সুরই জয়ী হয়েছিল, যা হাজার বছর ধরে বাংলার হৃদয়ে প্রোথিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও