‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

দক্ষিণ আফ্রিকা এমন একটি দেশ যেখানে বিদেশী শাসক দীর্ঘদিন শাসন করেছে। নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে সেখানকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগণ স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘকাল সংগ্রাম করে। অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকা স্বাধীনতা লাভ করেছে।

  1. ক)

    কত সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠন করা হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৩৫ সালে প্রবর্তিত ভারতীয় প্রাদেশিক শাসন কীরূপ ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে তোমার পঠিত কোন ঘটনার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ভারতবর্ষের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে উক্ত ঘটনার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৬ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রদেশে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন' (Provincial Autonomy) প্রবর্তন করা হয়। এর ফলে প্রাদেশিক বিষয়গুলোর দায়িত্ব ভারতীয় মন্ত্রীদের হাতে ন্যস্ত করা হয় এবং গভর্নরকে মূলত সাংবিধানিক প্রধান করা হয়। তবে গভর্নরের হাতে বিশেষ ক্ষমতা বা ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকায় এই স্বায়ত্তশাসন পুরোপুরি বাস্তব রূপ লাভ করতে পারেনি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দক্ষিণ আফ্রিকার দীর্ঘ সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগণ দীর্ঘকাল সংগ্রাম করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল।

    একইভাবে, ভারতবর্ষে ব্রিটিশরা প্রায় দুইশত বছর ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করেছিল। ব্রিটিশদের এই শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ নেতার নেতৃত্বে ভারতীয় জনগণ দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অহিংস-অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রেক্ষাপটের সাথে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তিসংগ্রামের প্রেক্ষাপটের আলোকে ভারতবর্ষের রাজনীতির পরিস্থিতি ছিল সুদীর্ঘ ঔপনিবেশিক শোষণবিরোধী আন্দোলনের ফসল।

    ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভারতীয় জনগণকে পরাধীন করে রাখে। এই শাসনের অবসানের জন্য ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস এবং ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতীয় নেতৃবৃন্দ প্রথমে সাংবিধানিক উপায়ে ও পরে গণআন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দাবি তোলেন।

    ১৯২০-এর দশকের অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন, ১৯৪২ সালের ভারত ছাড় আন্দোলন প্রভৃতি ভারতবর্ষের রাজনীতিকে চরম বিস্ফোরণমুখী করে তোলে। একই সাথে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বৈরিতা বৃদ্ধি পায় এবং লাহোর প্রস্তাবের (১৯৪০) মাধ্যমে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পৃথক আবাসভূমির দাবি প্রবল হয়।

    পরিশেষে, তীব্র আন্দোলন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে ব্রিটিশরা বুঝতে পারে ভারতকে আর ধরে রাখা সম্ভব নয়। ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মের মাধ্যমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সমাপ্তি ঘটে। সুতরাং, দক্ষিণ আফ্রিকার মতোই ভারতবর্ষে স্বাধীনতা এসেছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন