ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
এবিসি গার্মেন্টস কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করা হয়। কিন্তু তারা ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না। ফলে শ্রমিকরা হতাশ এবং অনেকেই ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন।
- ক)(1)
প্রেষণা কী?
- খ)(2)
আত্মতৃপ্তির চাহিদা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মীদের কোন ধরনের প্রেষণা দেওয়া হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কর্মীদের প্রতিষ্ঠান ত্যাগের প্রবণতা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে পদ্ধতিটি গ্রহণ করতে পারে তার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত ও প্রণোদিত করার প্রক্রিয়াকে প্রেষণা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আত্মতৃপ্তির চাহিদা (Self-actualization needs) বলতে একজন ব্যক্তির নিজের ভেতরের সম্ভাবনা ও যোগ্যতার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটিয়ে অনন্য কোনো কৃতিত্ব অর্জনের চরম আকাঙ্ক্ষাকে বোঝায়। এটি মাসলোর চাহিদা সোপানের সর্বোচ্চ স্তর, যেখানে ব্যক্তি নিজের সামর্থ্যের পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মীদের 'অ-আর্থিক প্রেষণা' দেওয়া হয়।
যেসব সুযোগ-সুবিধা বা উদ্দীপক সরাসরি আর্থিক মূল্যের সাথে সম্পর্কিত নয়, কিন্তু কর্মীদের মানসিক সন্তুষ্টি ও কাজের উৎসাহ বাড়ায়, সেগুলোকে অ-আর্থিক প্রেষণা বলা হয়। যেমন—সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা, কাজের প্রশংসা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের এবিসি গার্মেন্টস কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং কাজের জন্য তাঁদের প্রশংসাও করা হয়। এই উপাদানগুলো অর্থের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত নয়, বরং মানসিক তৃপ্তি দান করে। তাই উদ্দীপকে কর্মীদের অ-আর্থিক প্রেষণা প্রদানের বিষয়টি সুস্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কর্মীদের প্রতিষ্ঠান ত্যাগের প্রবণতা রোধে কর্তৃপক্ষের 'আর্থিক প্রেষণা' নিশ্চিতকরণ, বিশেষ করে 'ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান' পদ্ধতি গ্রহণ করা সম্পূর্ণরূপে যৌক্তিক।
হার্জবার্গের দ্বি-উপাদান তত্ত্ব বা সাধারণ প্রেষণা নীতি অনুযায়ী, উপযুক্ত বেতন বা পারিশ্রমিক হলো কর্মীদের অসন্তোষ দূর করার মৌলিক উপাদান। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের মতো উৎপাদনশীল খাতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে আর্থিক পারিশ্রমিক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ভালো কর্মপরিবেশ ও প্রশংসা সত্ত্বেও শ্রমিকরা ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হওয়ায় হতাশ হয়ে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করছেন। কেবল অ-আর্থিক প্রেষণা দিয়ে শ্রমিকদের দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। জীবনধারণের উপযোগী ও ন্যায্য বেতন না পেলে শ্রম অসন্তোষ এবং শ্রম ঘূর্ণায়মানতা (Labour turnover) দেখা দেয়।
সুতরাং, প্রতিষ্ঠান ত্যাগের এ প্রবণতা দূর করতে কর্তৃপক্ষ যদি শ্রমিকদের বাজারের সাথে সংগতিপূর্ণ ন্যায্য মজুরি, নিয়মিত ওভারটাইম ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করে, তবে শ্রমিকদের হতাশা দূর হবে এবং তাঁরা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে আগ্রহী হবেন। অতএব, আর্থিক প্রেষণা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও