‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট 'ক' নামক একটি রাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতা লাভের সুদীর্ঘ নয় বছর পরে রাষ্ট্রটি একটি সংবিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। সংবিধানটির বৈশিষ্ট্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ইত্যাদি।

  1. ক)

    দুর্নীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পঠিত যে সংবিধানের ইঙ্গিত রয়েছে তার অপর তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কী কী কারণে সংবিধানটি ব্যর্থ হয়েছিল বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করাই হলো দুর্নীতি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে বোঝায় যে সকল প্রতিষ্ঠান সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধান বা অনুচ্ছেদের মাধ্যমে গঠিত ও পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা, কার্যাবলি ও দায়বদ্ধতা সংবিধানেই সুনির্দিষ্ট থাকে। যেমন—বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) ও মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা লাভ এবং ৯ বছর পর (১৯৫৬ সালে) গৃহীত পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানের ইঙ্গিত রয়েছে। এই ১৯৫৬ সালের সংবিধানের অপর তিনটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা: এই সংবিধানে রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতির পরিবর্তে ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় বা মন্ত্রিসভা শাসিত সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য ছিলেন।
    ২. এক-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: সংবিধানে ৩ শত সদস্য বিশিষ্ট এক-কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদ (National Assembly) গঠনের বিধান রাখা হয়, যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ১৫০ জন এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ১৫০ জন সদস্যের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে উভয় অঞ্চলের মধ্যে সমতা (Parity) নীতি প্রয়োগ করা হয়।
    ৩. মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্তি: সংবিধানে নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমাবেশ ও চলাফেরার স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত করা হয় এবং এসব অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৬ সালের সংবিধান কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই বছর পর ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে এটি বাতিল হয়ে যায়। এই সংবিধান ব্যর্থ হওয়ার পেছনে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণ দায়ী ছিল:

    ১. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নেতৃত্বের কোন্দল: সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ক্ষমতার লোভ এবং ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে ওঠেনি।
    ২. সমতার নীতি (Parity Principle): পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পশ্চিম পাকিস্তানের সমান আসন দিয়ে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক আধিপত্যকে অস্বীকার করা হয়। এটি বাঙালির মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি করে।
    ৩. আমলা ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ: পাকিস্তানের বেসামরিক আমলাতন্ত্র ও সেনাবাহিনী শুরু থেকেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
    ৪. স্বায়ত্তশাসনের অস্বীকৃতি: পূর্ব পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কার্যকর প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, যা সংবিধানে নামমাত্র দেওয়া হলেও কার্যত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণই বজায় থাকে।
    ৫. ১৯৫৮ সালের সামরিক অভ্যুত্থান: পরিশেষে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা সংবিধান বাতিল করে সামরিক আইন জারি করেন এবং পরে সেনাপ্রধান আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন, যা সংবিধানটির চূড়ান্ত পতন ঘটায়।

    সুতরাং, আমলা-সামরিক চক্রের ষড়যন্ত্র, বাঙালিদের প্রতি বৈষম্য এবং রাজনীতিবিদদের দুর্বলতার কারণেই সংবিধানটি ব্যর্থ হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন