যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
কলেজ থেকে ফেরার পথে দীপ্ত বর্ষণকে বললো, দেখো বাগানে কি সুন্দর হলুদ, লাল ও বেগুনি ফুল ফুটেছে, আর তাতে কালো ও হলুদ রং-এর প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। তাদের কথার পর নীরব বললো, প্রজাপতিদের প্রাণ আছে বলেই এরা খাবার গ্রহণ করে, বৃদ্ধি পায় আবার মারাও যায় । প্রজাপতির রং দেখে বর্ষণ চেকশার্ট বানানোর সিদ্ধান্ত নিলো ।
- ক)(1)
বিধেয়ক কী?
- খ)(2)
নঞর্থক বাক্যে বিধেয়ক থাকে না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে দীপ্তর বক্তব্যে কোন শ্রেণির বিধয়কের উল্লেখ পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নীরব ও বর্ষণের বক্তব্যে যে দু'ধরনের উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণের উল্লেখ রয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সদর্থক যুক্তি বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার যে সম্বন্ধ বা সম্পর্ক নির্দেশ করা হয়, তাকে বিধেয়ক (Predicable) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নঞর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে কোনো স্বীকৃতিমূলক বা ধারণাগত সম্পর্ক স্থাপিত হয় না, বরং তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা হয়। বিধেয়ক কেবল উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের পারস্পরিক ইতিবাচক সম্পর্কের ভিত্তিতে গঠিত হয়। তাই নঞর্থক বাক্যে কোনো বিধেয়ক থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দীপ্তর বক্তব্যে বিধেয়কের 'অবান্তর লক্ষণ' (Accident) শ্রেণির উল্লেখ পাওয়া যায়।
যে গুণ বা বৈশিষ্ট্য কোনো পদের যাত্যর্থ বা যাত্যর্থের অংশ নয় এবং যাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও হয় না, অথচ কোনো কোনো ব্যক্তি বা বস্তুতে বিদ্যমান থাকে, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। উদ্দীপকে দীপ্ত বাগানের ফুলের হলুদ, লাল ও বেগুনি রং এবং প্রজাপতির কালো ও হলুদ রঙের কথা বলেছে। রঙ বা বর্ণ ফুল বা প্রজাপতির কোনো যাত্যর্থ নয় কিংবা যাত্যর্থজাত গুণ (উপলক্ষণ) নয়। এটি প্রজাতির ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল একটি গুণ বা অবান্তর লক্ষণ। তাই দীপ্তর বক্তব্যে বিধেয়ক হিসেবে অবান্তর লক্ষণের প্রতিফলন দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নীরব ও বর্ষণের বক্তব্যে যথাক্রমে 'উপলক্ষণ' এবং 'অবান্তর লক্ষণ'-এর প্রকারভেদের প্রতিফলন ঘটেছে।
নীরবের বক্তব্যে উপলক্ষণের উল্লেখ রয়েছে। যে গুণ যাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু যাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে। নীরব বলেছে প্রজাপতির প্রাণ আছে বলেই তারা খাবার গ্রহণ করে, বৃদ্ধি পায় ও মারা যায়। প্রাণিত্ব হচ্ছে যাত্যর্থ, আর খাবার গ্রহণ, বৃদ্ধি ও মৃত্যু হলো প্রাণিত্ব থেকে নিঃসৃত গুণ। এটি একটি 'জাতিগত উপলক্ষণ'—যা উক্ত জাতির (প্রাণী) সকলের ক্ষেত্রে অনিবার্যভাবে বিদ্যমান।
অন্যদিকে, বর্ষণের বক্তব্যে অবান্তর লক্ষণের উল্লেখ রয়েছে। প্রজাপতির রঙ দেখে চেকশার্ট বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া বা নির্দিষ্ট কোনো প্রজাপতির গায়ের রঙ বা পোশাকের সাথে মিল হলো অবান্তর লক্ষণ। অবান্তর লক্ষণ আবার ব্যক্তিগত বা জাতিগত হতে পারে। প্রজাপতির নির্দিষ্ট রঙ কোনো অনিবার্য গুণ নয়, এটি অনস্বীকার্যভাবে আলাদা আলাদা প্রজাপতির ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল ও বিচ্ছিন্ন অবান্তর লক্ষণ। সুতরাং, নিরবের বক্তব্যে যাত্যর্থজাত উপলক্ষণ এবং বর্ষণের বক্তব্যে অনাবশ্যক বাহ্যিক অবান্তর লক্ষণের সুন্দর রূপ ফুটে উঠেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও