জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রান্না করার সময় আগুনে হাত পড়ায় সীমা তার হাত দ্রুত সরিয়েনিল। তার বোন রীমা বিজ্ঞানের ছাত্রী। ঘটনা লক্ষ করে বলল,“এটাও এক ধরনের আচরণ। এরূপ আচরণের আরও ঘটনাআমাদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। যেমন- পায়ে কাঁটা বিদ্ধ হলেঅতি ক্ষিপ্রতার সাথে পা সরিয়ে নেয়া, চোখে কিছু পড়লেআপনা-আপনি চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ইত্যাদি।”

  1. ক)

    ট্যাক্সিস কী?

    (1)
  2. খ)

    ল্যামার্কিজম বলতে কি বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত আচরণের সাথে সামাজিক আচরণের তুলনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    রিমার লক্ষ্য করা আচরণগুলো কোন ধরনের বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট উদ্দীপকের প্রভাবে কোনো মুক্ত চলনক্ষম প্রাণীর সামগ্রিক বা স্থানিক দিকমুখী চলনকে ট্যাক্সিস (Taxis) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিজ্ঞানী জঁ ব্যাপটিস্ট দ্য ল্যামার্ক (Jean-Baptiste Lamarck) ১৮০৯ সালে তাঁর 'Philosophie Zoologique' গ্রন্থে জীবজগতের বিবর্তন সম্পর্কিত যে মতবাদ প্রকাশ করেন, তাকে ল্যামার্কিজম (Lamarckism) বা ল্যামার্কের মতবাদ বলা হয়।

    এ মতবাদের মূল প্রতিপাদ্যগুলো হলো:
    ১. পরিবেশের প্রভাব এবং জীবের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনীয়তা বা চেষ্টার ফলে নতুন অঙ্গের উৎপত্তি।
    ২. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র (অঙ্গের ক্রমাগত ব্যবহারে তা সুগঠিত হয় এবং অব্যবহারে বিলুপ্ত বা নিষ্ক্রিয় হয়)।
    ৩. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত আচরণটি হলো প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex action), যা মূলত এক ধরনের সহজাত বা জন্মগত আচরণ (Innate behavior)। এর সাথে প্রাণীর সামাজিক আচরণের (Social behavior) তুলনা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. সংজ্ঞা ও প্রকৃতি: প্রতিবর্ত ক্রিয়া হলো উদ্দীপকের প্রতি তাৎক্ষণিক, অনৈচ্ছিক এবং স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া, যা প্রাণীর মস্তিষ্কের কোনো সচেতন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মেরুরজ্জুর মাধ্যমে ঘটে। অন্যদিকে, সামাজিক আচরণ হলো একই প্রজাতির দুই বা ততোধিক প্রাণীর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া এবং গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বসবাসের ফলে সৃষ্ট আচরণ (যেমন: শ্রমবণ্টন, সহযোগিতা ইত্যাদি)।

    ২. নিয়ন্ত্রণ: উদ্দীপকের আচরণটি মেরুরজ্জু এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু সামাজিক আচরণ মূলত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্কের উচ্চতর স্তর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সমন্বিত হয়।

    ৩. উদ্দেশ্য: উদ্দীপকে উল্লেখিত আচরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাহ্যিক বিপদ বা ক্ষতিকর পরিস্থিতি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে রক্ষা করা (আত্মরক্ষা)। পক্ষান্তরে, সামাজিক আচরণের উদ্দেশ্য হলো দলবদ্ধ জীবনযাপন, প্রজনন সুবিধা, খাদ্য সংগ্রহ ও গোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    ৪. বংশানুসরণ ও শিক্ষণ: প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মগত ও জিন দ্বারা নির্ধারিত, যা শেখার প্রয়োজন হয় না। সামাজিক আচরণে কিছু সহজাত ভিত্তি থাকলেও তা মূলত শিখন ও সামাজিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিশীলিত ও পরিবর্তিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রীমার লক্ষ করা আচরণগুলো—যেমন আগুনে হাত লাগলে দ্রুত হাত সরিয়ে নেওয়া, পায়ে কাঁটা বিদ্ধ হলে পা সরিয়ে নেওয়া এবং চোখে কিছু পড়লে আপনা-আপনি চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যাওয়া—সবগুলোই হলো প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action)। নিচে এর ধরন ও মেকানিজম বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সহজ ও সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া:
    রীমার লক্ষ করা আচরণগুলো অর্জিত নয়, বরং সহজাত বা জন্মগত প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Inborn/Unconditioned Reflex)। এগুলো কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা অনুশীলন ছাড়াই উদ্দীপকের উপস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়।

    ২. কাজের ধরন ও স্নায়ুবিক পথ:
    এ আচরণগুলো মূলত একটি নির্দিষ্ট প্রতিবর্ত চাপের (Reflex Arc) মাধ্যমে অতি দ্রুত ঘটে থাকে। একটি আদর্শ প্রতিবর্ত চাপ পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিত:
    ক. গ্রাহক অঙ্গ (Receptor): আগুনে বা কাঁটায় স্পর্শ লাগলে ত্বকের গ্রাহক উদ্দীপনা গ্রহণ করে।
    খ. সংবেদী নিউরন (Sensory Neuron): উদ্দীপনাকে স্নায়ু-আবেগ আকারে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (মেরুরজ্জু) প্রেরণ করে।
    গ. সহযোগী বা সমন্বয়কারী নিউরন (Interneuron/Relay Neuron): মেরুরজ্জুর ধূসর অংশে সংবেদী ও চেষ্টীয় নিউরনের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়।
    ঘ. মটর বা চেষ্টীয় নিউরন (Motor Neuron): প্রেরিত সাড়াকে মেরুরজ্জু থেকে কার্যকর অঙ্গে পৌঁছে দেয়।
    ঙ. কার্যকারী অঙ্গ বা ইফেক্টর (Effector): নির্দিষ্ট পেশি (যেমন—হাতের বা পায়ের পেশি) সংকুচিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অঙ্গটি বিপদ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়।

    ৩. অনৈচ্ছিক ও মস্তিষ্কের ভূমিকা:
    এসব আচরণে মস্তিষ্ক সচেতনভাবে কোনো আদেশ দেওয়ার আগেই মেরুরজ্জুর স্বয়ংক্রিয় নির্দেশনায় পেশির সংকোচন ঘটে যায়। ফলে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষতি থেকে দেহ রক্ষা পায়।

    অতএব, রীমার লক্ষ করা আচরণগুলো হলো আত্মরক্ষামূলক, দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয় 'সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া' (Inborn Reflex Action)।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন