রসায়ন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন
(১) সমুদ্রের পানি → বাষ্পীভবন \xrightarrow{\text { বাষ্পীভবন }} সাদা দানা (A)(২) আখের রস → বাষ্পীভবন \xrightarrow{\text { বাষ্পীভবন }} সাদা দানা (B)(৩) সরিষা বীজ → পেষণ \xrightarrow{\text { পেষণ }} তৈল (C)
- ক)(1)
কিলেটিং এজেন্টের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
খাদ্য সংরক্ষণে এন্টিঅক্সিডেন্ট এর ভূমিকা লেখ।
- গ)(3)
খাদ্য সংরক্ষণে উদ্দীপকের C এর ব্যবহার বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
খাদ্য সংরক্ষণে উদ্দীপকের A ও B এর কৌশলের তুলনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব বহু-দন্তী (polydentate) লিগ্যান্ড কেন্দ্রীয় ধাতব আয়নের সাথে একাধিক সন্নিবেশ বন্ধন তৈরি করে বলয়াকার জটিল যৌগ গঠন করে, তাদেরকে কিলেটিং এজেন্ট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য সংরক্ষণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যবস্তুতে উপস্থিত তেল বা চর্বি বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে জারিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ও ক্ষতিকর পারঅক্সাইড এবং বিষাক্ত যৌগে পরিণত হয়, যাকে চর্বির জারণ বা র্যান্সিডিটি বলে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ নিজেরা জারিত হয়ে চর্বি ও তেলের জারণ প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে এবং ফ্রি-র্যাডিকেল নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে খাদ্যের পুষ্টিমান ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সরিষার বীজ পেষণ করে তৈল (C) অর্থাৎ সরিষার তেল প্রস্তুত করা হয়। খাদ্য সংরক্ষণে এর ব্যবহার নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. আচার সংরক্ষণ: আম, জলপাই, রসুন, মরিচ ইত্যাদির আচার সংরক্ষণে সরিষার তেল প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আচার তেলের নিচে ডুবিয়ে রাখলে তেল খাদ্য ও বাতাসের মধ্যে একটি অভেদ্য প্রতিবন্ধক তৈরি করে, ফলে খাদ্যের সাথে অক্সিজেনের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ বন্ধ হয় এবং বায়বীয় ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের আক্রমণ প্রতিরোধ হয়।
২. অণুজীবের বৃদ্ধি দমন: সরিষার তেলে উপস্থিত উদ্বায়ী ঝাঁঝালো উপাদান যেমন অ্যালিল আইসোথায়োসায়ানেট প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করে, যা বিভিন্ন পচনকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে সম্পূর্ণ রোধ করে।
৩. আর্দ্রতা নিরোধ: তেলের প্রলেপ খাদ্যবস্তুকে বাহ্যিক আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করে, যার ফলে অণুজীব বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে:
সমুদ্রের পানি বাষ্পীভবনে উৎপন্ন সাদা দানা (A) হলো খাবার লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)।
আখের রস বাষ্পীভবনে উৎপন্ন সাদা দানা (B) হলো চিনি বা সুক্রোজ (C₁₂H₂₂O₁₁)।
খাদ্য সংরক্ষণে A ও B এর কৌশলের তুলনা নিচে আলোচনা করা হলো:১. কার্যপদ্ধতির মূল সাদৃশ্য:
উভয় উপাদানই খাদ্যবস্তুর মুক্ত পানির সক্রিয়তা (Water activity, aw) হ্রাস করে এবং বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis) প্রক্রিয়ায় কাজ করে। খাদ্যবস্তুতে উচ্চ ঘনমাত্রায় লবণ বা চিনি যোগ করলে কোষের বাইরে উচ্চ অভিস্রবণিক চাপের সৃষ্টি হয়, ফলে খাদ্যবস্তু ও ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর ভেদ করে পানি বাইরে বেরিয়ে আসে। এতে ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্লাজমোলাইসিস ঘটে এবং অণুজীব ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।২. ঘনমাত্রার পার্থক্য:
- লবণ (A): লবণ একটি অজৈব তড়িৎবিশ্লেষ্য যৌগ যা জলীয় দ্রবণে Na⁺ ও Cl⁻ আয়নে বিয়োজিত হয়। ফলে তুলনামূলকভাবে কম ঘনমাত্রাতেই (১৫-২০% NaCl দ্রবণ) অত্যন্ত উচ্চ অভিস্রবণিক চাপ সৃষ্টি করে খাদ্য সংরক্ষণ করতে পারে। সাধারণত মাছ, মাংস, আচার সংরক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়।
- চিনি (B): চিনি একটি জৈব অপবিশ্লেষ্য অণু হওয়ায় পর্যাপ্ত অভিস্রবণিক চাপ সৃষ্টি করতে এর উচ্চ ঘনমাত্রার (৬৫-৭০%) প্রয়োজন হয়। সাধারণত ফলমূল, জ্যাম, জেলি, মোরব্বা সংরক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়।
৩. আয়নীয় প্রভাব ও এনজাইম নিষ্ক্রিয়করণ:
লবণের Cl⁻ আয়ন ব্যাকটেরিয়ার কোষের অভ্যন্তরীণ এনজাইমের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ সরাসরি বিনষ্ট করতে পারে। চিনির ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়নীয় বিষাক্ততা নেই; এটি মূলত সান্দ্রতা বৃদ্ধি করে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং অ্যানারোবিক পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করে।সুতরাং, কৌশলগতভাবে উভয়ই অভিস্রবণিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হলেও ঘনমাত্রার প্রয়োজনীয়তা ও রাসায়নিক ক্রিয়ায় এদের মাঝে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও