বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগের বন্ধ উদ্যানে জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে নিরস্ত্র জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল ব্রিটিশ পুলিশ। ব্রিটিশ শাসকশ্রেণি ও তার দেশি-বিদেশি দোসরদের এ জাতীয় অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল পরাধীন 'ভারতবর্ষের সাধারণ জনগণ। নির্যাতিত জনগণের মুক্তির অগ্রদূত হয়ে দেখা দিয়েছিলেন মোহনদাস করম চাঁদ গান্ধী। মহাত্মা গান্ধী নামে সমধিক পরিচিত এই রাজনীতিবিদ বর্ণবৈষম্য দূরীকরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিজেকে ভারতবাসীর কাছে অবিসংবাদিতা নেতা হিসেবে প্রমাণ করেন এবং বিভিন্ন অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েও ব্রিটিশ বিরোধী 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। অহিংস আন্দোলনের পুরোধা হলেও দেশ ও জনগণের মুক্তির প্রশ্নে কখনোই আপস করেননি মাহাত্মা গান্ধী।

  1. ক)

    মহিউদ্দিন আহমদ কী রোগে ভুগছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    "বেশি জোরে চালাবেন না, কারণ বাবার কালের জীবনটা যেন রাস্তায় না যায়।"- আলোচনা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ব্রিটিশ শাসকের নির্যাতন এবং 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় পাকিস্তানি শাসকদের নির্যাতনের তুলনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উভয়েই দেশ ও দেশের মানুষের মুক্তিকেই সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়েছেন।' উদ্দীপক ও 'বায়ান্নর দিনগুলো'" রচনার আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহিউদ্দিন আহমদ প্লুরিসিস (প্লুরিসি) রোগে ভুগছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারকে নিরাপদে ও ধীরে গাড়ি চালাতে সতর্ক করেছিলেন।

    জেলে অনশন ধর্মঘট পালনের ফলে অনশনরত বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দিন আহমদ শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিলেন। ফরিদপুর জেলে স্থানান্তরের জন্য তাদের যখন জাহাজে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানো হয়, তখন ড্রাইভার খুব দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছিল। দুর্বল দেহে ঝাঁকুনি সহ্য করা অসম্ভব ছিল এবং কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে অনশনে মরার আগেই অকালে প্রাণ হারানোর শঙ্কা তৈরি হতো। তাই বঙ্গবন্ধু রসিকতা ও আত্মরক্ষার তাগিদে ড্রাইভারকে সংযত হয়ে গাড়ি চালানোর জন্য উক্ত কথাটি বলেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ব্রিটিশ শাসক ও 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী—উভয়ের নির্যাতনই ছিল ঔপনিবেশিক মানসিকতাপ্রসূত এবং নিরীহ ও প্রতিবাদী জনগণের ওপর নির্বিচার দমনপীড়নের প্রতীক।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগে ব্রিটিশ পুলিশ জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে নিরস্ত্র, নিরপরাধ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভয়ভীতি দেখিয়ে ভারতীয়দের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়া।

    অন্যদিকে, 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীও ঠিক একই পথ অবলম্বন করেছিল। তারা মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ বহু তরুণের প্রাণ কেড়ে নেয়। এছাড়া রাজনৈতিক নেতাকর্মী বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকে দীর্ঘদিন বিনাবিচারে কারাগারে বন্দি রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

    তুলনামূলকভাবে বলা যায়, জালিয়ানওয়ালাবাগের ব্রিটিশদের হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ভাষা আন্দোলনে চালানো হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা—উভয় শাসকই নিরস্ত্র মানুষের রক্ত ঝরিয়ে ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উভয়েই দেশ ও দেশের মানুষের মুক্তিকেই সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়েছেন"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন পরিক্রমায় দেখা যায়, তিনি ভারতবাসীর ওপর ব্রিটিশদের নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনসহ বিভিন্ন লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে জেল-জুলুম সহ্য করেও দেশ ও সাধারণ জনগণের মুক্তির প্রশ্নে তিনি কখনোই আপস করেননি। নিজের জীবনের চেয়ে দেশের মানুষের মুক্তিই ছিল তাঁর কাছে প্রধান।

    একইভাবে, 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় দেখা যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি শোষকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। বিনাবিচারে আটক থাকা অবস্থায় তিনি নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে রাজবন্দিদের মুক্তি ও মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জেলে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি বলেছেন, "মানুষের যখন পতন আসে তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে" এবং তিনি হাসিমুখে দেশের স্বার্থে আত্মাহুতি দিতে প্রস্তুত ছিলেন। নিজের সুস্থতা বা জীবনের চেয়ে বাঙালি জাতির মুক্তি তাঁর কাছে অনেক বড় ছিল।

    অতএব, উদ্দীপক ও 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, উভয় নেতাই ব্যক্তিগত স্বার্থ বা জীবনের মায়াকে উপেক্ষা করে জাতির সামগ্রিক স্বাধীনতা ও মানবিক মুক্তির সংগ্রামকে জীবনের সর্বোচ্চ ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাই উক্তিটি পুরোপুরি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন