সাহিত্য পাঠ • সেই অস্ত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
প্রাচীনকালে কোনো এক রাজ্যে নাকি মানুষ গাছপালা কেটে উজাড় করে দিত। রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মানুষের এ ধরনের অবিবেচনা-প্রসূত নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সবুজ নিধনের এই ভয়ঙ্কর বাজে অভ্যাস বন্ধে তখন দেশে এক কঠোর আইন প্রণীত হয়। এ আইন ব্যক্তিগত গাছসহ যেকোনো ধরনের গাছপালা কাটার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বর্তমান সময়ে পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে সবুজ বৃক্ষরাজি সংরক্ষণের আন্দোলন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু, মানুষের গাছপালা নিধনের প্রবণতা এখনো রয়েই গেছে।
- ক)(1)
কবি আহসান হাবীব কত খ্রিস্টাব্দে একুশে পদকে ভূষিত হন?
- খ)(2)
'সেই অস্ত্র' কবিতায় 'সভ্যতার সেই প্রতিশ্রুতি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সঙ্গে 'সেই অস্ত্র' কবিতার কোন প্রসঙ্গাটির সাদৃশ্য রয়েছে এবং কীভাবে?
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে বর্ণিত 'কঠোর আইন'-এর উদ্দেশ্য ও 'সেই অস্ত্র' কবিতার কবির আকাঙ্ক্ষা অভিন্ন। বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবি আহসান হাবীব ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে মরণোত্তর 'একুশে পদক'-এ ভূষিত হন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সেই অস্ত্র' কবিতায় 'সভ্যতার সেই প্রতিশ্রুতি' বলতে মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশ ও অগ্রগতির সাথে মানবজাতির শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তাকে বোঝানো হয়েছে।
সভ্যতার মূল অঙ্গীকার হলো মানুষের অস্তিত্ব ও মর্যাদাকে রক্ষা করা এবং ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের হাত থেকে প্রাণ ও প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে ভালোবাসা ও শান্তির পথ সুগম করা। কবি আহসান হাবীব ভালোবাসার সেই রূপক অস্ত্রকে সভ্যতার কাঙ্ক্ষিত প্রতিশ্রুতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মানবজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে পৃথিবীতে চিরন্তন শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সঙ্গে 'সেই অস্ত্র' কবিতার ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করে প্রকৃতি ও প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষার সুরক্ষার আকাঙ্ক্ষার দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।
'সেই অস্ত্র' কবিতায় কবি যুদ্ধাস্ত্রের বিধ্বংসী রূপ ও আগ্রাসী মানবপ্রবৃত্তির বিপরীতে এমন এক ভালোবাসার অস্ত্রের প্রত্যাশা করেছেন, যা পৃথিবীতে সবুজ অরণ্য ও প্রকৃতিকে রক্ষা করবে। কবি চান সেই পরম অস্ত্র মানুষের হিংস্রতা দূর করে চারপাশের শ্যামল প্রকৃতি ও মানবিকতাকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলুক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রাচীনকালে মানুষ নির্বিচারে গাছপালা কেটে পরিবেশ ধ্বংস করত। এই অবিবেচনাপ্রসূত নিধন বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয় এবং আধুনিক যুগেও বৃক্ষরাজি সংরক্ষণে আন্দোলন চলমান রয়েছে। 'সেই অস্ত্র' কবিতাতেও ধ্বংসের হাত থেকে সবুজ প্রকৃতি ও মানবজাতিকে রক্ষার যে আকুল আর্তি ব্যক্ত হয়েছে, উদ্দীপকের বৃক্ষ ও পরিবেশ সংরক্ষণের চেতনার সাথে তা গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'কঠোর আইন'-এর উদ্দেশ্য এবং 'সেই অস্ত্র' কবিতার কবির আকাঙ্ক্ষা উভয়েরই মূল লক্ষ্য হলো ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করে প্রাণ ও প্রকৃতির নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা—এই অর্থে উক্তিটি যথার্থ।
'সেই অস্ত্র' কবিতায় কবি আহসান হাবীব মানবসভ্যতা ও প্রকৃতির বিনাশকারী যুদ্ধাস্ত্রের বিপরীতে ভালোবাসার অহিংস অস্ত্রের আবাহন করেছেন। ভালোবাসা নামক সেই অস্ত্র মানুষের হিংস্রতা, লোভ ও যুদ্ধোন্মাদনা দূর করে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনবে এবং সবুজ অরণ্য ও মানবসমাজকে রক্ষা করবে। কবি এই অস্ত্রের মাধ্যমে পৃথিবীতে চিরন্তন নিরাপত্তা ও জীবনের বিকাশ দেখতে চেয়েছেন।
অন্যদিকে উদ্দীপকে দেখা যায়, মানুষ তাদের অবিবেচক আচরণের দ্বারা বন-জঙ্গল ও সবুজ প্রকৃতি উজাড় করে দিচ্ছিল। এই ধ্বংসলীলা বন্ধ করতে এবং সবুজ প্রকৃতিকে রক্ষা করতে তৎকালীন রাষ্ট্র কঠোর আইন প্রণয়ন করে বৃক্ষ কর্তন নিষিদ্ধ করে। উভয় ক্ষেত্রেই মূল উদ্দেশ্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া এবং একটি নিরাপদ, সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা। উদ্দীপকে রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে বাহ্যিক ধ্বংস প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে, আর কবিতায় কবি ভালোবাসা নামক মানবিক অস্ত্রের দ্বারা ধ্বংসের মানসিকতা নির্মূল করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
অতএব, উপায় ভিন্ন হলেও সামগ্রিক ফলাফল ও মূল লক্ষ্যের দিক থেকে—অর্থাৎ ধ্বংসের বিনাশ ঘটিয়ে প্রাণের অস্তিত্ব ও প্রকৃতির সুরক্ষায় উদ্দীপকের 'কঠোর আইন'-এর উদ্দেশ্য এবং কবির আকাঙ্ক্ষা মূলত অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও