সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
সহপাঠ প্রশ্ন
রফিক সাহেব নাম-পরিচয়হীন এক অনাথ বালককে আশ্রয় দিয়েছিলেন বিশ বছর আগে। নাম রেখেছিলেন সজল। অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আদর-যত্নে রফিক সাহেবের সন্তান হিসেবেই সে বড় হয়। কিন্তু, ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধের সৌরভ তার মধ্যে সৃষ্টি হয়নি। মনের দিক থেকে সে এতই কদর্য ও সংকীর্ণ যে, যে, রফিক সাহেবের বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়ে যেতে চায় সে। এলাকায় রফিক সাহেবের যশ-খ্যাতি ও সুনামের যারা প্রতিপক্ষ, তাদের দ্বারা সজল প্রতিনিয়ত প্ররোচিত হয়। সে তার আশ্রয়দাতার সম্পত্তি হস্তগত করার জন্য সুযোগ খোঁজে। একদিন সে অস্ত্রের মুখে সমস্ত সম্পত্তি তার নামে লিখে দিতে রফিক ১সাহেবকে বাধ্য করে এবং পরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
- ক)(1)
"চারিদিকে শুধু অবিশ্বাস আর ষড়যন্ত্র।"- উক্তিটি কার?
- খ)(2)
"ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়"- এর তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সজলের আচরণ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়? যুক্তি দেখাও।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।" আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"চারিদিকে শুধু অবিশ্বাস আর ষড়যন্ত্র"— উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়"— উক্তিটি দ্বারা ইংরেজদের পলায়নপর মানসিকতা এবং অন্যায়কারীর দুর্বল সাহসের রূপ তুলে ধরা হয়েছে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন কলকাতা (আলিনগর) আক্রমণ করেন, তখন ইংরেজ সেনাপতি ড্রেক ও তার সহযোগী প্রতারক দলটি নবাবের বীরত্ব ও শক্তির মুখোমুখি হওয়ার সাহস হারিয়ে ভয়ে জাহাজ নিয়ে ফলতায় পালিয়ে যায়। অন্যায় ও ষড়যন্ত্রকারীরা যে বীর নয়, বরং ভীরু এবং সঙ্কটের মুখে নিজেদের স্বার্থে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যায়— এই সত্যটি বোঝাতেই নবাবের মুখে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যটি উচ্চারিত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সজলের আচরণ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চরম অকৃতজ্ঞ ও বিশ্বাসঘাতক চরিত্র মিরজাফরের সঙ্গে তুলনীয়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, আলীবর্দী খাঁ এবং পরবর্তীতে সিরাজউদ্দৌলা মিরজাফরকে পরম সম্মান, মর্যাদা ও সেনাপতির মতো সর্বোচ্চ দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। কিন্তু চরম স্বার্থপর ও উচ্চাভিলাষী মিরজাফর এই উপকারের প্রতিদান না দিয়ে গোপনে ইংরেজদের সাথে চক্রান্তে লিপ্ত হন। নবাব তাকে বারবার ক্ষমা করে সম্মান জানালেও তিনি নবাবকে সিংহাসনচ্যুত এবং হত্যা করার পথ সুগম করেন।
উদ্দীপকের সজলকেও রফিক সাহেব অনাথ অবস্থা থেকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ ও আদরে লালনপালন করেন। অথচ সজল কোনো মানবিক মূল্যবোধ অর্জন না করে প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় নিজের আশ্রয়দাতার সম্পত্তি জোরপূর্বক কেড়ে নেয় এবং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আশ্রয়দাতার প্রতি অকৃতজ্ঞতা, প্রতিপক্ষের সাথে যোগসাজশ এবং নিজ স্বার্থে হত্যার পথ বেছে নেওয়ার দিক দিয়ে সজলের চরিত্রটি মিরজাফরের হীন আচরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন"— মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
পরিণতির দিক থেকে রফিক সাহেব ও নবাব সিরাজউদ্দৌলা দুজনের ক্ষেত্রেই ঘটেছে ট্র্যাজিক সমাপ্তি। দুজনই তাঁদের অতি বিশ্বস্ত ও অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। উদ্দীপকে সজল তার আশ্রয়দাতা রফিক সাহেবকে হত্যা করে, আর নাটকে মিরজাফর ও মোহাম্মদি বেগের ষড়যন্ত্রে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নৃশংসভাবে নিহত হন।
তবে এই অভিন্ন পরিণতির পেছনের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটটি একটি ক্ষুদ্র পারিবারিক ও সামাজিক পরিসরে সীমাবদ্ধ। এখানে রফিক সাহেবের জমি-সম্পত্তি দখল করার সাধারণ লোভ এবং স্থানীয় প্রতিপক্ষের ইন্ধনে সজল এই অপরাধ সংঘটিত করেছে। এর সাথে কোনো রাজনৈতিক বা জাতীয় স্বার্থ জড়িত ছিল না।
অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রেক্ষাপটটি ছিল সুদূরপ্রসারী, রাজনৈতিক এবং জাতীয় সংকটভিত্তিক। সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন একটি স্বাধীন দেশের নবাব। তাঁর বিরোধীদের চক্রান্তে দেশীয় বণিক, রাজন্যবর্গ এবং বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যুক্ত ছিল। সিরাজের পতনের ফলে শুধু তাঁর জীবনের অবসান হয়নি, বরং সমগ্র বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়ে প্রায় দুশো বছরের জন্য ঔপনিবেশিক পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছিল।
অতএব, ব্যক্তিগত জীবনের বঞ্চনা ও জাতীয় ইতিহাসের ট্র্যাজেডির মাত্রাগত পার্থক্যের কারণে উভয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও