ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
খলিল ও মুবারক একই এলাকার বাসিন্দা। দু'জনের আলাপ চারিতায় এক পর্যায়ে খলিল বলল, পৃথিবীতে পর্যায়ক্রমে অনেক আদর্শিক ও অনুসরণযোগ্য মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে, যারা একটি বিশেষ নীতি ও আদর্শের ধারক। তাদের বিশেষ নীতি, আদর্শ, চিন্তাধারা, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে অনুসরণ করেছে অসংখ্য বাক্তি ও জনগোষ্ঠী। ইহাকে অবলম্বন করে সমগ্র বনী আদম একই জাতি সত্তার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে, মুবারক বলল, উক্ত ব্যক্তিবর্গ ও জনগোষ্ঠী সমগ্র বিশ্বের মানবসমাজের হিদায়াত ও সত্য তো পথপ্রদর্শন, অন্যায়, অসত্য, বিভ্রান্তির গন্ডি থেকে বিরত রেখে ধর্ম, বর্ণ, বংশ, গোত্র ও ভাষা নির্বিশেষে সকল মানুষের মাঝে কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
- ক)(1)
'খিদমতে খালক' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
"আর আপনাকে আমি নিখিল বিশ্ব মানবতার জন্য শুভ সংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি" ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত খলিলের বক্তব্যের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মুবারকের বক্তব্যের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়ের মিল পাওয়া যায়? মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'খিদমতে খালক' (خدمة الخلق) আরবি শব্দযুগল। এর অর্থ হলো সৃষ্টির সেবা বা মানবসেবা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত আয়াতটি পবিত্র কুরআনের সূরা সাবা-এর ২৮ নম্বর আয়াতের অংশ। এর মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত ও রিসালাতের সার্বজনীনতা প্রকাশ পেয়েছে।
পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ নির্দিষ্ট কোনো কওম বা অঞ্চলের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু মহানবী (সা.) কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বের সমগ্র মানবজাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি সৎকর্মশীলদের জান্নাতের সুসংবাদদাতা এবং অন্যায়কারীদের জন্য আল্লাহর শাস্তির সতর্ককারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত খলিলের বক্তব্যের সাথে পাঠ্যবইয়ের 'উম্মাহ' বা 'আদর্শিক জাতিসত্তা'র ধারণার সামঞ্জস্য রয়েছে।
ইসলামী পরিভাষায়, কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা বা বংশমর্যাদার ভিত্তিতে নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শ, বিশ্বাস ও জীবনবিধানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মানবসমাজকে 'উম্মাহ' বলা হয়। যুগে যুগে নবী-রাসূলদের আদর্শ ও দ্বীনি আহ্বানকে যারা গ্রহণ করেছে, তারা একই আদর্শিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। খলিল ঠিক তেমনি এক আদর্শের কথা উল্লেখ করেছে যা অনুসরণ করে ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী একটি সাধারণ সত্তা বা উম্মাহর অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। সুতরাং খলিলের বক্তব্যটি ইসলামী জীবনদর্শনে উম্মাহর ধারণাকেই প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মুবারকের বক্তব্যের সাথে পাঠ্যপুস্তকের 'উম্মাতে মুহাম্মাদির দায়িত্ব ও কর্তব্য' বা 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ' (আমর বিল মা'রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার) এবং 'বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় উম্মাহর ভূমিকা'র গভীর মিল পাওয়া যায়।
মূল্যায়ন:
১. উম্মাহর মূল দায়িত্ব: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা উম্মাতে মুহাম্মাদি সম্পর্কে বলেছেন, "তোমরাই সর্বোত্তম উম্মাহ, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে" (সূরা আলে ইমরান: ১১০)। মুবারক ঠিক এই হিদায়াত ও সত্যের পথে আহ্বান এবং অসত্য থেকে বিরত রাখার কথাই বলেছে।২. সার্বজনীন কল্যাণ সাধন: মুবারকের বক্তব্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণ ও শান্তির কথা এসেছে। ইসলামে উম্মাহর দায়িত্ব কেবল নিজেদের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র মানবতার কল্যাণ ও শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের দ্বীনি দায়িত্ব।
৩. অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান: সমাজ থেকে বিভ্রান্তি ও অন্যায় দূর করে ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করা ইসলামের মূল লক্ষ্য।
অতএব, মুবারকের বক্তব্যটি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে উম্মাতে মুহাম্মাদির প্রকৃত লক্ষ্য ও দায়িত্ব-কর্তব্যের যথার্থ প্রতিফলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও