রসায়ন ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    s-ব্লক মৌল কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    Fe2+Fe^{2+} ও Co3+Co^{3+} পরস্পরের আইসো ইলেকট্রনিক ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের X-পাত্রের পদার্থ থেকে মাখন তৈরির প্রক্রিয়াটি লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    Y-পাত্র ও Z-পাত্রে HCI যোগ করার ফলাফল বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ ইলেকট্রনটি s-অরবিটালে প্রবেশ করে, তাদেরকে s-ব্লক মৌল বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব পরমাণু বা আয়নের ইলেকট্রন সংখ্যা সমান, তাদেরকে পরস্পরের আইসো-ইলেকট্রনিক বলা হয়।

    আয়রনের (Fe) পারমাণবিক সংখ্যা ২৬। Fe-এর ইলেকট্রন বিন্যাস: [Ar] 3d⁶ 4s²। Fe²⁺ আয়নে দুইটি ইলেকট্রন কম থাকায় মোট ইলেকট্রন সংখ্যা = ২৬ - ২ = ২৪টি।

    আবার, কোবাল্টের (Co) পারমাণবিক সংখ্যা ২৭। Co-এর ইলেকট্রন বিন্যাস: [Ar] 3d⁷ 4s²। Co³⁺ আয়নে তিনটি ইলেকট্রন কম থাকায় মোট ইলেকট্রন সংখ্যা = ২৭ - ৩ = ২৪টি।

    যেহেতু Fe²⁺ এবং Co³⁺ উভয়েরই মোট ইলেকট্রন সংখ্যা সমান (২৪টি), তাই এরা পরস্পরের আইসো-ইলেকট্রনিক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের X-পাত্রের পদার্থটি হলো দুধ। দুধ একটি তেল-পানিতে প্রকৃতির ইমালশন (O/W emulsion), যেখানে চর্বি বা ফ্যাট কণাগুলো পানিতে প্রলম্বিত অবস্থায় থাকে। দুধ থেকে মাখন তৈরির প্রক্রিয়াটি নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. ক্রিম পৃথকীকরণ: প্রথমে দুধকে কেন্দ্রাতিগ বল প্রয়োগকারী যন্ত্রের (ক্রিম সেপারেটর) সাহায্যে দ্রুত ঘোরানো হয়। এর ফলে অপেক্ষাকৃত হালকা ফ্যাট বা চর্বিকণাগুলো ওপরে জমা হয়ে ঘন ক্রিমের স্তর তৈরি করে, যা সংগ্রহ করা হয়।

    ২. ক্রিমের পরিপক্বকরণ (Aging/Ripening): সংগৃহীত ক্রিমকে ঠান্ডা তাপমাত্রায় (প্রায় ৫°-১০°C) কয়েক ঘণ্টা রেখে দেওয়া হয়, যাতে চর্বিকণাগুলো আংশিক স্ফটিকাকারে জমাট বাঁধে। এতে মাখনের সুবাস ও টেক্সচার ভালো হয়।

    ৩. চর্বন বা মন্থন (Churning): এরপর ক্রিমকে মাখন তৈরির পাত্রে (Churner) নিয়ে প্রচণ্ডভাবে ঝাঁকানো বা মন্থন করা হয়। এর ফলে ফ্যাট কণার চারপাশের প্রোটিন আবরণ ভেঙে যায় এবং ফ্যাট কণাগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে জমাট বেঁধে মাখনের দানায় পরিণত হয়। এ সময় জলীয় অংশ হিসেবে বাটারমিল্ক পৃথক হয়ে যায়।

    ৪. ধৌতকরণ ও পানি নিষ্কাশন: মাখনের পিণ্ডগুলো ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে বাটারমিল্ক সম্পূর্ণরূপে দূর করা হয়।

    ৫. প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং: পরিশেষে মাখনে সামান্য লবণ মিশিয়ে এবং নির্দিষ্ট আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে মাখন প্রস্তুত করা হয়। এভাবে দুধ (O/W) বিপরীতকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানিতে-তেল (W/O) জাতীয় মাখনে রূপান্তরিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে Y-পাত্রে রয়েছে BaCl₂ দ্রবণ এবং Z-পাত্রে রয়েছে AgNO₃ দ্রবণ। উভয় পাত্রে HCl যোগ করার ফলাফল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    Y-পাত্রে HCl যোগের ফলাফল:
    Y-পাত্রে বেরিয়াম ক্লোরাইড (BaCl₂) দ্রবণ রয়েছে। এতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) যোগ করলে কোনো দৃশ্যমান রাসায়নিক পরিবর্তন বা অধঃক্ষেপ পড়ে না। কারণ, দ্রবণে উপস্থিত আয়নসমূহ হলো Ba²⁺, Cl⁻ এবং H⁺। এখানে সাধারণ আয়ন Cl⁻ বিদ্যমান থাকলেও BaCl₂ পানিতে অত্যন্ত দ্রবণীয় হওয়ায় কোনো নতুন অদ্রবণীয় পদার্থ বা অধঃক্ষেপ উৎপন্ন হয় না। ফলে দ্রবণটি বর্ণহীন ও স্বচ্ছ থাকে।

    Z-পাত্রে HCl যোগের ফলাফল:
    Z-পাত্রে সিলভার নাইট্রেট (AgNO₃) দ্রবণ রয়েছে। এতে HCl যোগ করলে সিলভার আয়ন (Ag⁺) এবং ক্লোরাইড আয়ন (Cl⁻) দ্রুত বিক্রিয়া করে সিলভার ক্লোরাইডের (AgCl) সাদা বর্ণের ভারী ও ঘন অধঃক্ষেপ সৃষ্টি করে।

    বিক্রিয়া:
    AgNO₃(aq) + HCl(aq) → AgCl(s)↓ + HNO₃(aq)

    উৎপন্ন AgCl-এর অধঃক্ষেপ লঘু নাইট্রিক এসিডে (HNO₃) অদ্রবণীয় হলেও অতিরিক্ত জলীয় অ্যামোনিয়া বা অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH₄OH) যোগ করলে দ্রবণীয় জটিল যৌগ ডাইঅ্যামিন সিলভার(I) ক্লোরাইড গঠন করে দ্রবীভূত হয়ে যায়:
    AgCl(s) + 2NH₄OH(aq) → [Ag(NH₃)₂]Cl(aq) + 2H₂O(l)

    অতএব, বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, HCl যোগ করলে Y-পাত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কিন্তু Z-পাত্রে AgCl-এর সাদা অধঃক্ষেপ সৃষ্টি হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন