ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

রিপন, শোভন ও স্বপন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তোলেন। মূলধন সরবরাহ ও মুনাফা বণ্টনের ক্ষেত্রে তারা নির্দিষ্ট বিধি মেনে চলেন। কিছুদিন পর রিপন মারা গেলে তার ১৫ বছরের ছেলে মোহনকে ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অপরদিকে, বছর খানেক পর স্বপনের যাবতীয় সম্পত্তি আদালত বাজেয়াপ্ত করে। তাদের ব্যবসায়টি এখন ঝুঁকির সম্মুখীন।

  1. ক)

    অংশীদারি চুক্তিপত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    অংশীদারি ব্যবসায়ের পৃথক সত্তাহীনতা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মোহন কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যবসায়টি অবশ্যই বিলোপসাধিত হবে”- উদ্দীপকের ব্যবসায়টি যে ধরনের অংশীদারি ব্যবসায় তা উল্লেখপূর্বক প্রতিষ্ঠানটির বিলোপসাধন পদ্ধতিটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অংশীদারি কারবারের অংশীদারদের পারস্পরিক সম্পর্ক, অধিকার, দায়িত্ব, লাভ-লোকসান বণ্টন ইত্যাদিসংক্রান্ত শর্তাবলি যে দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অংশীদারি ব্যবসায়ের পৃথক সত্তাহীনতা বলতে বোঝায় আইনগতভাবে ব্যবসায় এবং এর মালিকগণ সম্পূর্ণ অভিন্ন, অর্থাৎ ব্যবসায়ের নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র আইনগত অস্তিত্ব নেই।

    যেহেতু অংশীদারি প্রতিষ্ঠান কোনো কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা ভোগ করে না, তাই ব্যবসায়ের নামে নিজস্ব কোনো আইনগত পরিচিতি গড়ে ওঠে না। ব্যবসায়ের যেকোনো দায়-দেনা বা চুক্তির জন্য অংশীদারগণ ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে দায়ী থাকেন এবং ব্যবসায়ের নামে সরাসরি মামলা করা বা ব্যবসায়ের ওপর মামলা করার ক্ষেত্রে অংশীদারদেরই সংশ্লিষ্ট হতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মোহন হলো একজন ‘নাবালক অংশীদার’ (বা সুবিধাভোগী অংশীদার)।

    আইন অনুযায়ী কোনো নাবালক (১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি) চুক্তির অযোগ্য হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে পারে না। তবে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, সকল বিদ্যমান অংশীদারের সর্বসম্মত সম্মতিক্রমে কেবল ব্যবসায়ের মুনাফা বা সুবিধার অংশীদার হিসেবে একজন নাবালককে অংশীদারি কারবারে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। নাবালকের দায় ব্যবসায়ের নিয়োজিত মূলধন বা শেয়ারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হয় না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রিপন মারা যাওয়ার পর তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে মোহনকে ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মোহনের বয়স ১৫ বছর হওয়ায় সে আইনত নাবালক। ফলে সে পূর্ণাঙ্গ দায়বদ্ধ অংশীদার নয়, বরং কেবল ব্যবসায়ের সুবিধা ও মুনাফা ভোগকারী নাবালক অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ব্যবসায়টি একটি ‘সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়’। পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যবসায়টি ‘বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন’ পদ্ধতির আওতায় অবশ্যই বিলোপসাধিত হবে এবং উক্তিটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

    ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪১ ধারা অনুযায়ী, কতিপয় বিশেষ কারণে অংশীদারি ব্যবসায়ের বাধ্যতামূলক বিলোপ ঘটে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—যদি ব্যবসায়ের সকল অংশীদার অথবা একজন ব্যতীত বাকি সকল অংশীদার দেউলিয়া বলে ঘোষিত হন, কিংবা এমন কোনো ঘটনা ঘটে যার ফলে ব্যবসায়ের সদস্যসংখ্যা একজন হয়ে যায় বা ব্যবসায় পরিচালনা বেআইনি হয়ে পড়ে, তবে কারবারটি বাধ্যতামূলকভাবে বিলুপ্ত হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, শুরুতে তিনজন অংশীদার (রিপন, শোভন ও স্বপন) নিয়ে সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়টি গঠিত হয়েছিল। রিপনের মৃত্যুর পর তার ১৫ বছর বয়সী নাবালক ছেলে মোহনকে ব্যবসায় আনা হয়, কিন্তু সে পূর্ণাঙ্গ অংশীদার নয় (কেবল সুবিধাভোগী)। পরবর্তীতে আদালত স্বপনের যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, যা প্রমাণ করে যে স্বপন দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছেন। ফলে ব্যবসায়ের একমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ও কার্যকর পূর্ণ অংশীদার হিসেবে কেবল শোভন অবশিষ্ট রইলেন। অংশীদারি আইন অনুযায়ী অন্তত দুইজন সাবালক ও চুক্তি সম্পাদনে সক্ষম অংশীদার ছাড়া অংশীদারি ব্যবসায় টিকে থাকতে পারে না।

    যেহেতু অংশীদারদের মধ্যে একজন ব্যতীত বাকি সবাই সদস্যপদ হারায় বা দেউলিয়া হয়, তাই আইনগতভাবে শোভন একাকী অংশীদারি প্রতিষ্ঠান চালু রাখতে পারেন না। সুতরাং, আইন অনুযায়ী কারবারটির ‘বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন’ ঘটা অনিবার্য ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন