উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব শাহীন চৌধুরী টঙ্গীতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি গার্মেন্টস্ শিল্প গড়ে তোলেন। তিনি ২০ কোটি টাকা মূলধন ও ১৫০ জন শ্রমিক কর্মচারী নিয়ে কারখানাটি চালু করেন। কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের মান উন্নত ও ডিজাইন আকর্ষণীয় হওয়ায় এর ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়। বর্ধিত চাহিদা পূরণের জন্য তিনি কারখানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রেক্ষিতে ব্যাংক থেকে তিনি ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেন এবং আরো ১২৫ জন শ্রমিক নিয়োগ দেন।
- ক)(1)
ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজ কী?
- খ)(2)
'শ্রম দক্ষতা বৃদ্ধিতে শ্রম বিভাগ সহায়তা করে'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ব্যাংক ঋণ পাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের এন্টারপ্রাইজ ছিল? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'ব্যাংক ঋণ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে'- উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদনমুখী খাতে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা কিংবা যে প্রতিষ্ঠানে ৩১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজ বা ক্ষুদ্র শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে কর্মীদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব দেওয়াকে শ্রম বিভাগ বলে।
শ্রম বিভাগের ফলে একজন শ্রমিক বারবার একই ধরনের কাজ করতে থাকে। এতে কাজের প্রতি তার মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং তার বিশেষায়ন বা বিশেষ দক্ষতা গড়ে ওঠে। ফলে সময়ের অপচয় হ্রাস পায় এবং শ্রমিকের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। তাই বলা হয় শ্রম দক্ষতা বৃদ্ধিতে শ্রম বিভাগ সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাংক ঋণ পাওয়ার আগে জনাব শাহীন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানটি 'মাঝারি এন্টারপ্রাইজ' ছিল।
বাংলাদেশের শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী বা ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১৫ কোটি টাকার অধিক কিন্তু অনূর্ধ্ব ৫০ কোটি টাকা কিংবা যে প্রতিষ্ঠানে ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করে, তাকে মাঝারি এন্টারপ্রাইজ বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব শাহীন চৌধুরী টঙ্গীতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যে গার্মেন্টস্ কারখানা চালু করেন, সেখানে তার মূলধন ছিল ২০ কোটি টাকা এবং কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১৫০ জন। মূলধনের পরিমাণ (১৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে) এবং শ্রমিক সংখ্যা (১২১ থেকে ৩০০ জনের মধ্যে) উভয় দিক থেকেই প্রতিষ্ঠানটি মাঝারি এন্টারপ্রাইজের নীতিমালার আওতায় পড়ে। সুতরাং, ব্যাংক ঋণ পাওয়ার আগে এটি একটি মাঝারি এন্টারপ্রাইজ ছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ব্যাংক ঋণ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে'— উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি যথার্থ।
একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান যখন তার উৎপাদন ক্ষমতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে, তখন তা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
উদ্দীপকে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার পূর্বে কারখানাটির মূলধন ছিল ২০ কোটি টাকা এবং শ্রমিক ছিল ১৫০ জন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারণের জন্য ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত ১২৫ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগ দাঁড়ায় (২০ + ১৫) = ৩৫ কোটি টাকা এবং মোট কর্মরত শ্রমিক সংখ্যা দাঁড়ায় (১৫০ + ১২৫) = ২৭৫ জন।
এই সম্প্রসারণের ফলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। এছাড়া নতুন করে ১২৫ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বেকারত্ব দূরীকরণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সুতরাং, বলা যায় সম্প্রসারণের পর প্রতিষ্ঠানটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও