‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

বিংশ শতকের শুরুতে লর্ড কার্জন এর একটি সিদ্ধান্ত পূর্ব বাংলার মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করলেও অন্য একটি সম্প্রদায় এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। স্বদেশি আন্দোলনের নামে' তাদের সশস্ত্র বিরোধিতার কারণে ব্রিটিশ সরকার এই সিদ্ধান্ত রদ করতে বাধ্য হয়।

  1. ক)

    সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈতশাসন সম্পর্কে তোমার ধারণা ব্যক্ত করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঘটনায় মুসলিমদের উচ্ছ্বসিত হবার কারণ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈতশাসন হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের প্রাদেশিক প্রশাসনে প্রবর্তিত এক ধরনের শাসনব্যবস্থা। এতে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়—হস্তান্তরিত (Transferred) এবং সংরক্ষিত (Reserved)। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ ভারতীয় মন্ত্রীদের ওপর ন্যস্ত করা হয় এবং সংরক্ষিত বিষয়গুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখা হয় গভর্নর ও তাঁর নির্বাহী পরিষদের হাতে, যা প্রশাসনের কার্যকর ক্ষমতা ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণেই রেখে দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঘটনাটি হলো ১৯০৫ সালের 'বঙ্গভঙ্গ'। এই পদক্ষেপে পূর্ব বাংলার মুসলিমদের উচ্ছ্বসিত হবার যৌক্তিক কারণসমূহ নিম্নরূপ:

    ১. আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সম্ভাবনা: তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় রাজধানী কলকাতা কেন্দ্রিক উন্নয়ন হওয়ায় পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে চরম অবহেলিত ও অনগ্রসর ছিল। ঢাকা নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় স্থানীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার দ্বার উন্মোচিত হয়।
    ২. প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা: মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে নতুন প্রদেশ গঠিত হওয়ায় শিক্ষা, প্রশাসন ও সরকারি চাকরিতে পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাজের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হয়।
    ৩. শোষণ থেকে মুক্তির আশা: উচ্চবর্ণের হিন্দু জমিদার ও মহাজনদের শোষণ এবং প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে মুসলিম কৃষক ও সাধারণ মানুষ নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিল।

    এসব কারণেই মুসলিম সমাজ বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপটি হলো ১৯১১ সালের 'বঙ্গভঙ্গ রদ'। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর:

    ১. মুসলিম নেতৃত্বের মোহভঙ্গ: ব্রিটিশ সরকার হিন্দু জাতীয়তাবাদী ও কংগ্রেসের তীব্র স্বদেশি আন্দোলন ও প্রতিবাদের কাছে নতি স্বীকার করে বঙ্গভঙ্গ রদ করায় মুসলিমরা ব্রিটিশদের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ে। মুসলিম নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করেন যে, কেবল ব্রিটিশদের ওপর নির্ভর করে তাদের অধিকার আদায় সম্ভব নয়।
    ২. স্বতন্ত্র রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ: বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে মুসলিম জাতীয়তাবাদ সুসংহত হয়। ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগ তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
    ৩. হিন্দু-মুসলিম বিভেদের প্রাচীর তৈরি: বঙ্গভঙ্গ রদের কারণে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। সম্প্রীতির বদলে পারস্পরিক অবিশ্বাস দানা বাঁধে।
    ৪. পৃথক আবাসভূমির ভিত্তি স্থাপন: এ ঘটনার সুদূরপ্রসারী ফল হিসেবে পরবর্তীতে 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' জোরদার হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন এবং পাকিস্তানের জন্ম।

    সুতরাং, বঙ্গভঙ্গ রদের ব্রিটিশ সিদ্ধান্তটি ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও ভবিষ্যৎকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন