‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

নাইজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী দ্বারা পূর্বাঞ্চলের জনগণ নিপীড়িত হতো। দীর্ঘ দিনের বঞ্চনার ফলে পূর্বাঞ্চলের জনগণ স্বাধীনতার ঘোষণার প্রস্তুতি গ্রহণ করলে পশ্চিমাঞ্চলের শাসক বাহিনী মধ্যরাতে পূর্বাঞ্চলের জনগণের উপর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড শুরু করে। পূর্বাঞ্চলের জনগণ পরবর্তীতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

  1. ক)

    মুক্তিযুদ্ধে জেড (Z) ফোর্সের প্রধান ছিলেন কে?

    (1)
  2. খ)

    মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত ঘটনার প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুক্তিযুদ্ধে জেড (Z) ফোর্সের প্রধান ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' মুক্তিযোদ্ধাদের এবং সাধারণ মানুষের মনোবল অটুট রাখতে ও প্রেরণা জোগাতে এক অসাধারণ ও অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল।

    এ বেতার কেন্দ্র থেকে দেশাত্মবোধক গান, উদ্দীপনামূলক কবিতা, সংবাদ পরিক্রমা এবং বিশেষ করে এম আর আখতার মুকুলের 'চরমপত্র' ও জল্লাদের দরবার নামক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান প্রচারিত হতো। এসব অনুষ্ঠান মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের ময়দানে অসীম সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল এবং রণাঙ্গনের পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রতিরোধ আন্দোলনকে বেগবান করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বর্বরোচিত 'অপারেশন সার্চলাইট' ও গণহত্যার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ-নিপীড়ন চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ বঞ্চনার পর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালিরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলেও পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। এর চূড়ান্ত পর্যায়ে ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে তারা নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে।

    উদ্দীপকেও নাইজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক দীর্ঘ বঞ্চনার শিকার পূর্বাঞ্চলের স্বাধীনতার প্রস্তুতিকালে তাদের ওপর মধ্যরাতে বর্বরোচিত আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। এ ঘটনাটি ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতে বাংলাদেশের নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের ওপর পরিচালিত পাকিস্তানি বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট ও নৃশংস গণহত্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ২৫শে মার্চের মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড অর্থাৎ 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং এটিই সরাসরি স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা ঘটায়।

    প্রথমত, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই পাকিস্তানি শাসকদের সাথে আপসের সমস্ত পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। মধ্যরাতের এ আক্রমণের সাথে সাথেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন এবং দেশবাসীকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেন। এর ফলে বাঙালি সামরিক, আধা-সামরিক ও সাধারণ জনগণ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    দ্বিতীয়ত, ২৫শে মার্চের এই নৃশংসতা বিশ্বসম্প্রদায়কে নাড়া দেয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শরণার্থী সমস্যা এবং গণহত্যার বাস্তবতা বিশ্ববাসীর সামনে পাকিস্তানের আসল রূপ উন্মোচন করে, যার ফলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে ওঠে।

    পরিশেষে বলা যায়, ২৫শে মার্চের এ নির্মম আক্রমণ বাঙালি জাতিকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে চূড়ান্তভাবে ঐক্যবদ্ধ করে এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন