সাহিত্য পাঠ • সাম্যবাদী • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
মানুষ মানুষের জন্য/ জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না/ ও বন্ধু মানুষ মানুষকে পণ্য করে মানুষ মানুষকে জীবিকা করে পুরোনো ইতিহাস ফিরে এলেলজ্জা কি তুমি পাবে না?
- ক)(1)
জেন্দাবেস্তা কী?
- খ)(2)
“যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম ক্রিশ্চান"- বাক্যটির তাৎপর্য বর্ণনা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'সাম্যবাদী' কবিতার কোন দিকটি তুলে ধরা হয়েছে? আলোচনা করো
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে 'সাম্যবাদী' কবিতার মূলসুর ধ্বনিত হলেও 'সাম্যবাদী' কবিতা বৈচিত্র্যময় তথ্য উপমায় অধিকতর ব্যঞ্জনাসহ হয়েছে"- মন্তব্যটি তোমার মতামতসহ আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'জেন্দাবেস্তা' হলো পারসি বা অগ্নি উপাসকদের ধর্মগ্রন্থ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত চরণটির মাধ্যমে মানুষের মহামিলনক্ষেত্র হিসেবে মানবহৃদয় তথা সাম্যের সর্বজনীন রূপকে তুলে ধরা হয়েছে।
কবি নজরুল ইসলাম মানুষের মন ও চেতনাকে সকল ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ স্থান হিসেবে বিবেচনা করেছেন। জাত-পাত, ধর্ম বা বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সকল মানুষ যখন এক কাতারে দাঁড়ায় এবং হৃদয়ের সত্যকে উপলব্ধি করে, তখন সেখানে আর কোনো বিভেদ থাকে না। মানবহৃদয়েই সকল ধর্মের পরম সত্য ও সম্প্রীতি মিলিত হয়—চরণটিতে এই অসাম্প্রদায়িক সাম্যচেতনা ব্যক্ত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'সাম্যবাদী' কবিতার মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি, মানবপ্রেম এবং শোষণের বিরুদ্ধে মানবতাবাদী দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।
'সাম্যবাদী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সকল ধর্মীয় ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে চেয়েছেন, যেখানে মানুষের জীবনই সবার উপরে সত্য। কিন্তু বাস্তব সমাজে মানুষ মানুষকে শোষণ করে, স্বার্থের জন্য পণ্যে পরিণত করে, যা মানবতাবিরোধী।
উদ্দীপকের গীতি-কবিতায় বলা হয়েছে—মানুষ মানুষের জন্য সহানুভূতিশীল হবে। সেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে এই বলে যে, মানুষ কেন মানুষকে পণ্য ও জীবিকার উপাদান বানিয়ে শোষণ করবে। 'সাম্যবাদী' কবিতাতেও মানুষের প্রতি এই অপমানের প্রতিবাদ করে মানবিক মর্যাদাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে উদ্দীপকে 'সাম্যবাদী' কবিতার শোষণমুক্ত মানবপ্রেমের দিকটি সার্থকভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে 'সাম্যবাদী' কবিতার মূলসুর ধ্বনিত হলেও 'সাম্যবাদী' কবিতা বৈচিত্র্যময় তথ্য ও উপমায় অধিকতর ব্যঞ্জনাময়"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকে মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও মানুষকে পণ্য বানানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে, যা 'সাম্যবাদী' কবিতার মূল বার্তা—মানবতার জয়গানের সাথে সংগতিপূর্ণ। তবে কবিতার তুলনায় উদ্দীপকের ভাবপরিধি কিছুটা সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি আহ্বানমূলক।
অন্যদিকে, কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতাটি বৈচিত্র্যময় তথ্য, পুরাণ, ইতিহাস ও সমৃদ্ধ উপমার সন্নিবেশে অনন্য ব্যঞ্জনা ধারণ করেছে। কবি এখানে কোরআন, বেদ, পুরাণ, ত্রিপিটক, জেন্দাবেস্তা, গ্রন্থসাহেব ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থের উল্লেখ করেছেন। তিনি মানবহৃদয়কে কাফেলা, ভজনালয়, গির্জা এবং বুদ্ধের ধ্যানমগ্ন বোধিদ্রুমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কনফুসিয়াস, চার্বাক বা মহাবীরের মতো দার্শনিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গ টেনে কবি দেখিয়েছেন যে মানবহৃদয়ই সকল তীর্থ ও জ্ঞানের পরম মিলনক্ষেত্র।
অতএব, উদ্দীপকটি মানবপ্রেমের আকুতি প্রকাশ করলেও 'সাম্যবাদী' কবিতাটি তার ব্যাপক বিষয়বস্তু, ঐতিহাসিক-পৌরাণিক দৃষ্টান্ত এবং নান্দনিক উপমা ব্যবহারের কারণে অনেক বেশি গভীর ও ব্যঞ্জনাময় হয়ে উঠেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও