জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্ভিদ কোষের দুটি বিশেষ অঙ্গাণু রয়েছে। প্রথমটিতে ETS এবং দ্বিতীয়টিতে ফটোসিন্থেটিক ইউনিট বিদ্যমান।

  1. ক)

    জীবন্ত জীবাশ্ম কী?

    (1)
  2. খ)

    ফ্রুটবডি জীবাশ্ম কী ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঙ্গাণুটির চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে-বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরূপ পরিবর্তন ছাড়াই বর্তমান কাল পর্যন্ত টিকে রয়েছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় সকল প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম (Living fossil) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফ্রুটবডি হলো কতকগুলো উন্নত ছত্রাকের (যেমন- ব্যাসিডিওমাইকোটা পর্বের ছত্রাক বা মাশরুম) বিশেষ ধরনের দৃশ্যমান ও সুনির্দিষ্ট জনন অঙ্গ বা কাঠামো, যার মধ্যে রেণু বা স্পোর উৎপন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, Agaricus-এর ছাতার মতো বায়বীয় অংশটি হলো এর ফ্রুটবডি (ব্যাসিডিওকার্প)।

    [দ্রষ্টব্য: প্রশ্নে 'ফ্রুটবডি জীবাশ্ম' উল্লেখ থাকলেও এটি মূলত ছত্রাকের 'ফ্রুটবডি' সংক্রান্ত প্রশ্ন।]

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria), কারণ এতে ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (ETS) সংঘটিত হয়।

    মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন বর্ণনা:
    ১. আবরণী: প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়া লিপোপ্রোটিন নির্মিত দ্বিস্তরবিশিষ্ট একক পর্দা দিয়ে ঘেরা থাকে। বাইরের পর্দাটি মসৃণ কিন্তু ভেতরের পর্দাটি ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে প্রবর্ধক সৃষ্টি করে।
    ২. ক্রিস্টি: ভেতরের ঝিল্লিটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে ভেতরের দিকে আঙুলের মতো ভাঁজ হয়ে থাকে, এদের ক্রিস্টি বলে। এটি ভেতরের কার্যকারী তল বৃদ্ধি করে।
    ৩. ম্যাট্রিক্স বা ধাত্র: ভেতরের ঝিল্লি দ্বারা আবদ্ধ কেন্দ্রীয় গহ্বরে প্রোটিনসমৃদ্ধ অর্ধতরল সমসত্ত্ব পদার্থ থাকে, একে ম্যাট্রিক্স বলে। এতে ক্রবস চক্রের উৎসেচকসমূহ থাকে।
    ৪. অক্সিজোম ও এটিপি সিন্থেসিস: ক্রিস্টির গায়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছোট ছোট বৃন্তযুক্ত গোলকাকার দানা থাকে, এদের অক্সিজোম বলে। বর্তমানে এদের ATP synthases এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
    ৫. নিজস্ব DNA ও রাইবোজোম: মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে বৃত্তাকার দ্বি-সূত্রক DNA এবং 70S রাইবোজোম থাকে, যার মাধ্যমে এটি নিজস্ব কিছু প্রোটিন তৈরি করতে পারে।

    (পরীক্ষায় একটি ডিম্বাকার বা দণ্ডাকার মাইটোকন্ড্রিয়ার চিত্র অঙ্কন করে বহিঃপর্দা, অন্তঃপর্দা, ক্রিস্টি, ম্যাট্রিক্স, রাইবোজোম, বৃত্তাকার ডিএনএ এবং এটিপি সিন্থেসিস চিহ্নিত করতে হবে।)

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট, কারণ এতে ফটোসিন্থেটিক ইউনিট বা থাইলাকয়েড বিদ্যমান।

    জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় ক্লোরোপ্লাস্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. খাদ্য উৎপাদন: ক্লোরোপ্লাস্টে অবস্থিত ক্লোরোফিলের সহায়তায় উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। পৃথিবীর সকল জীব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল।
    ২. অক্সিজেন সরবরাহ: সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতর পানির ফটোলাইসিসের মাধ্যমে উপজাত হিসেবে অক্সিজেন নির্গত হয়। এই অক্সিজেন ছাড়া কোনো বায়বীয় শ্বসনকারী জীবের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব।
    ৩. বায়ুমণ্ডলে গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা: জীবজগতের শ্বসনে নির্গত বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড ক্লোরোপ্লাস্টের অন্ধকার পর্যায়ে কার্বোহাইড্রেট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ফলে বায়ুমণ্ডলে O2 ও CO2 গ্যাসের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং গ্রিনহাউস প্রভাব হ্রাস পায়।
    ৪. শক্তির মূল উৎস: সৌরশক্তিকে রাসায়নিক স্থৈতিক শক্তিতে আবদ্ধ করার একমাত্র মাধ্যম হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। এটি না থাকলে সমগ্র খাদ্যশৃঙ্খল বা বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যেত।

    অতএব, খাদ্য উৎপাদন, শ্বসনের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে ক্লোরোপ্লাস্ট সামগ্রিক জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন